• অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২০২০
  • " />

     

    এই শিরোপা সমর্থকদের প্রাপ্য, আশা করি আমাদের পথচলার মাত্র শুরু : আকবর

    হয়তো আপনি রাস্তায় বের হলেই বুঝে যান- বাংলাদেশের কোনদিন ক্রিকেট ম্যাচ আছে। টিএসসিতে, ইলেকট্রনিকসের দোকানের সামনে, পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানের সামনে জটলা আপনাকে মনে করিয়ে দেয় বাংলাদেশের ফিক্সচার। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেটের রাস্তাঘাটের চেহারা যেদিন অন্য রূপ ধারণ করে। আর এমন অ-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ইভেন্ট হলে তো কথাই নেই! সেই ক্রিকেট অনুসারীরা কতোদিন একটি শিরোপার জন্য অপেক্ষা করে ছিলেন- একটি বৈশ্বিক শিরোপার জন্য। তরুণদের এই ক্রিকেট দল সেটি এনে দিল, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। 

    পচেফস্ট্রুমেও বাংলাদেশী সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়, ‘সিনিয়র’দের বিশ্বকাপেও যেমন ইংল্যান্ডের প্রায় প্রতিটি ভেন্যুতেই তারা জানান দিয়েছিলেন তাদের উপস্থিতি। ভারতের বিপক্ষে এদিন ফাইনালে ঐতিহাসিক জয়ের পরই অধিনায়ক আকবর আলি দর্শকদের উল্লেখ করেছিলেন তাদের ‘দ্বাদশ ব্যক্তি’ হিসেবে। এবার বললেন, এই বৈশ্বিক শিরোপাটা সমর্থকদের প্রাপ্য ছিল। তাদের পথচলার এটি মাত্র শুরু বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। 

    রোমাঞ্চকর এক ফাইনালে আকবরের দারুণ এক ইনিংসে ভর করেই ভারতের ১৭৭ রানের ডিএল লক্ষ্যটা পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ। আরেকবার আশাভঙ্গের বেদনায় তাই পুড়তে হয়নি ওই সমর্থকদের। আকবর খুশি, তাদের জন্য শিরোপা এনে দিতে পেরে, “আমি বলব, বাংলাদেশীরা যেভাবে আমাদের ক্রিকেট দলকে সমর্থন দিয়ে এসেছে, তাদের একটা বৈশ্বিক শিরোপা প্রাপ্য। আমি খুশি এটা এনে দিতে পেরে। তারা যেরকম সমর্থন দিয়ে এসেছেন ভাল সময়ে, খারাপ সময়েও দরকার আরও বেশি। 

    “(তবে) এই শিরোপা তাদের প্রাপ্য ছিল। বাঙালি ক্রিকেটের ব্যাপারে প্যাশনেট। আশা করি তারা আমাদের সমর্থন দিয়ে যাবে।” 

    দেশের বাইরে খেলা হলে ভারতীয়দের সমর্থকদের সংখ্যা থাকে বেশ লক্ষ্যণীয়, এদিন যেন পচেফস্ট্রুমে তাদেরকেও ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশীরা। সমর্থকদের সঙ্গে আকবর ধন্যবাদ দিচ্ছেন সবাইকে, বলছেন এটি দলীয় প্রচেষ্টা, “আমরা আশা করেছিলাম, সমান হবে সমর্থক দুই দলেরই। তারা আমাদের জন্য দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তাদেরকে অনেক বড় ধন্যবাদ। আর টিম ম্যানেজমেন্ট- কোচ, নির্বাচক, ফিজিও, ট্রেইনার- সবাই সমর্থন দিয়েছে। এটা দলীয় প্রচেষ্টা।” 

    এই ফাইনালের পর টুইটার বা অন্য মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে প্রশংসা ছুটছে, এমন দিনে যা খুবই স্বাভাবিক। এরপর থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্ব নতুন চোখে দেখবে কিনা, তেমন প্রশ্নের জবাবে আকবর বলেছেন, তাদের ইচ্ছা অনেকদূর যাওয়ার, “আমি আশা করি (এমন হবে)। আমাদের জন্য এটা ‘প্রথম একটা ধাপ’। এটা আমাদের জন্য শুরু মাত্র, আমাদের তাড়নাটা থাকতে হবে। ‘এনার্জি’টা থাকতে হবে।” 

    সেরকম আশা নিশ্চয়ই আকবরের সঙ্গে আপনিও করছেন। ৯ ফেব্রুয়ারির এ দিনটাও নিশ্চয়ই মনে থাকবে আপনার।