• অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২০২০
  • " />

     

    বয়সভিত্তিক আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পার্থক্য জানেন পরিণত আকবর

    স্নায়ু কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, মাথা ঠাণ্ডা রেখে দলকে জিতিয়ে এনে তার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশ্বকাপ শেষে সংবাদ সম্মেলনেও পাওয়া গেছে পরিণত একজন অধিনায়ককে। তবে তাদের নিয়ে উন্মাদনা কতটা, সেটা দেশে আসার পর থেকে মিরপুরে ঢোকার এই তিন ঘন্টার মতো সময়ে খুব ভালোমতোই টের পেয়েছেন আকবর। তবে সত্যি সত্যি যে বয়সের তুলনায় কতটা এগিয়ে, সেটার প্রমাণ আজ আরেকবার দিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে। বোর্ড থেকে কিছু আশা করে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাননি, সেটা বলেছেন। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের মধ্যে যে অনেক বড় ব্যবধান, সেটাও স্বীকার করে নিয়েছেন অকপটে।

    এই অনূর্ধ্ব ১৯ দলে শুরু থেকে তিনি অধিনায়ক ছিলেন না। দলে শুরুতে অটোমেটিক চয়েসও ছিলেন না। একটা সময় আকবরের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয় দলের দায়িত্ব, এর পর থেকে গত বেশ কিছুদিন তিনিই আগলে রেখেছেন দলকে। আজ আরও একবার প্রমাণ দিলেন, ঠিক লোকের হাতেই দায়িত্ব দিয়েছে বোর্ড। বললেন, দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার সময় বোর্ড থেকে কিছু পাওয়ার আশা করে যাননি, "আমরা কিন্তু বোর্ড থেকে প্রত্যাশা নিয়ে যাইনি যে কিছু পাব। আমরা বলেছিলাম, যে ফাইনাল খেলতে চাই। সেটা পূরণ করতে পেরেছি বলে একটা সন্তুষ্টি আছে। আর সমর্থকদের উদ্দেশে বলতে চাই সব সময় যেরকম সমর্থন করে এসেছেন সামনেও ওরকম করবেন।"


    ফাইনাল ম্যাচ শেষে খানিকটা অনাকাঙ্খিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল দুই দল। আকবর সেটা নিয়ে তখনই দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। আজও সেটার জন্য নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিলেন, "প্রথমে যদি বলি ফাইনালের আগে ইমোশন চলে আসতে পারে। আমরা চেষ্টা করেছি খেলার মধ্যে মাত্রাতিরক্ত না করার। আমরাও ভুল করেছি, ওরাও ভুল করেছে। এটার মীমাংসা হয়ে গেছে।" 

    একজন জাত নেতার মতোই আকবর বললেন, অধিনায়কত্ব করতে গিয়ে শুরু থেকে অনেক ভুল ভ্রান্তি হয়েছে তার। সবার চেষ্টাতেই সেসব শুধরে নিয়েছেন, সেজন্য কৃতিত্ব দিলেন সতীর্থদেরও, "এটা আসলে যে যেভাবে দেখে (অধিনায়কত্বের ব্যাপার)। এটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। অধিনায়কত্ব নিয়ে আমাকে সবাই সমর্থন করেছে। এটা এক দিনে হয়নি। আমারও অনেক ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে। আমি বলব, এখানে অনেক কিছু শেখার আছে।"

    ধোনির সঙ্গে তুলনার প্রসঙ্গ চলে এলো অবধারিতভাবে। এখানেও আকবর দারুণ পরিণত, "ধোনির সঙ্গে তুলনা বাড়াবাড়ি, একটা ইনিংস দেখে তুলনা করার কিছু নেই।"

    তবে আকবর জানেন, আসল কাজটা শুরু হচ্ছে এখন। আন্তর্জাতিক আর বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের যে ব্যবধান, সেটা ভালোমতোই মাথায় আছে তার, ‘আমি মনে করি যে অনুর্ধ্ব-১৯ এর সাথে বড়দের ক্রিকেটের অনেক ব্যবধান আছে। আশা করব, এই ব্যবধান যত দ্রুত সম্ভব পূরণ করার চেষ্টা করার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সহজ না, এটা সবাই জানি। আমরা চেষ্টা করি, মেন্টাল ও ক্রিকেটিয় এই দুই স্কিল দিয়ে আমরা কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যে ওই জায়গায় যাওয়ার।"

    হেলায় গা ভাসিয়ে না দেওয়া সবাই যেন পরের ধাপে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে পারে। এমন না যে, এখান থেকে আমরা সবকিছু ঠিক করতে পারব। আমার মনে হয় সবাই পরের ধাপে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা হয়তো দুই তিন দিন উদযাপন করব, এরপর আমরা সবাই যে যার কাজে ফিরে পাব।"

    আকবরেরই বিকেএসপির সতীর্থ সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমরা। তাদের হাত ধরেও এখনো বৈশ্বিক দূরে থাক, মহাদেশীয় কোনো শিরোপা পায়নি বাংলাদেশ। সিনিয়রদের হাত ধরে সেই স্বপ্নপূরণের স্বাদ পেতে চান আকবর, "সাকিব ভাই, তামিম ভাই, মুশফিক ভাই আমাদের ক্রিকেটকে একটা পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আমার মনে হয় এই জয়টা উনাদেরও মোটিভেট করবে। আমার মনে হয় উনারা যে পথে নিয়ে গেছেন ক্রিকেটকে, আমরা তাতে কিছুটা অবদান রাখার চেষ্টা করব। আমরা জানতাম, কিছু একটা হতে পারে। এত বড় হবে আশা করিনি। আমি বলেছিলাম সবকিছুর একটা শুরু দরকার। আশা করব, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটা শুরুর সেই ধাপ হবে। সবার জন্য এই শিরোপা প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।"