• উইমেনস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২০
  • " />

     

    ভারতের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শুরু সালমাদের

    বাংলাদেশ - ভারত

    ভারত ১৪২/৬ ২০ ওভার (শেফালি ৩৯, জেমিমা ৩৪; সালমা ২/২৫, পান্না ২/২৫)

    বাংলাদেশ ১২৪/৮ ২০ ওভার (নিগার ৩৫, মুরশিদা ৩০; পুনম ৩/১৮)

    ফলঃ ভারত ১৮ রানে জয়ী



    ম্যাচটি রেকর্ড গড়েই জিততে হত বাংলাদেশকে। ফর্ম, শক্তিমত্তা--- দুই দিক দিয়েই বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। তবুও ২০১৮ এশিয়া কাপ ফাইনালে এই ভারতকে হারিয়েই তো শিরোপা জিতেছিল  সালমা খাতুনের দল। কিন্তু ভারত মাঠে শক্তির পার্থক্য হাতেকলমে বুঝিয়ে দিল। শেফালি ভারমা, জেমিমা রড্রিগেজদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শুরুতে বড় সংগ্রহ পায় তারা। পুনম যাদব ও শিখা পাণ্ডেদের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে কূলকিনারা করতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ১৪৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পুরো ২০ ওভার খেলেও ৮ উইকেটে ১২৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি সালমারা। ভারতের কাছে ১৮ রানে হেরেই তাই আসর শুরু করতে হল বাংলাদেশকে।

    ১৪৩ রানের বড় লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের ভালো শুরুর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই শামিমা সুলতানাকে হারিয়ে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ শুরুটাই পায় বাংলাদেশ। শামিমা ফিরে যাওয়ার পর মুরশিদা খাতুন এবং সানজিদা ইসলাম মিলে পরের ছয় ওভারে দেখেশুনে খেলে ৩৯ রান যোগ করেন। কিন্তু এরপরই মনোযোগে ছেদ ঘটে মুরশিদার। অরুন্ধতি রেড্ডির বেরিয়ে যেতে থাকা বলে খোঁচা দিয়ে ব্যক্তিগত ৩০ রানে আউট হন তিনি। 

    এরপরই ম্যাচে পুনমের প্রথম শিকার হয়ে ফিরে যান সানজিদা। চারে নেমে নিগার সুলতানা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তবে সঙ্গীর অভাবে তিনিও খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। রাজেশ্বরী গায়কোওয়াড়ের বলে ফিরে যাওয়ার আগে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন নিগার। 

    এরপরের গল্পটা শুধুই আসা যাওয়ার। পুনম, শিখা এবং রেড্ডির দুর্দান্ত বোলিংয়ে আর পিঠ সোজা করে দাঁড়াতে পারেননি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর ফলে স্বাভাবিকভাবে রান তোলার গতিও কমে যায়। আর শেষের দিকে হাত খুলে খেলার মতো ব্যাটার না থাকায় হার নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।

    ভারতের ইনিংসে অবশ্য ফিল্ডিংয়ে সজাগ ছিল বাংলাদেশ, বোলিংয়েও ভারতকে আটকে রাখার চেষ্টা ছিল। কিন্তু শেফালি ভার্মা, জেমিমা রড্রিগেজের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শুরু থেকে ভারত ব্যাট চালিয়ে খেলে। ভারতের ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার তানিয়া ভাটিয়াকে ফিরিয়েছিলেন সালমা। তবে অপর ওপেনার শেফালির মারমুখী ব্যাটিংয়ের কোনও জবাব ছিল না জাহানারাদের সামনে। দ্বিতীয় উইকেটে জেমিমাকে সাথে নিয়ে শেফালির ৩৭ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে ভারত। তবে ব্যাটিং পাওয়ারপ্লের পান্না ঘোষ শেফালিকে ফিরিয়ে দেন। শেফালির শূন্যে উড়িয়ে মারা বল মিড অফে থাকা শামিমা ৩ বারের চেষ্টায় তালুবন্দি করেন। 

    ১৭ বলে ৩৯ রান করে শেফালি ফিরে গেলেও জেমিমা খেলতে থাকেন স্বচ্ছন্দে। রান আউট হয়ে ফিরে যাওয়ার আগে ৩৪ রান করে জেমিমা ভারতকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন। শেষদিকে ভেদা কৃষ্ণমূর্তির ১১ বলে ২০ রানের কার্যকরী ইনিংসে ভর করে পুরো ২০ ওভার খেলে ৬ উইকেটে ১৪২ রান করে ভারত, যা এবারের আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান। বাংলাদেশের হয়ে সালমা এবং পান্না সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন।