• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    নেইমারে ভর করেই 'শেষ-১৬' এর ফাঁড়া কাটাল পিএসজি

    ফুলটাইম

    পিএসজি ২ - ০ বরুশিয়া ডর্টমুন্ড


    প্রথম লেগে পিএসজিকে কোনও সুযোগ দেয়নি বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। দ্বিতীয় লেগে ডর্টমুন্ডকে দম ফেলার ফুরসৎ দেয়নি পিএসজি। দুই লেগেই স্বাগতিক দল নিয়ন্ত্রণ করেছে খেলার গতিপথ। নিজ নিজ ঘরের মাঠে সমান দুটি করে গোলও দিয়েছে পিএসজি এবং ডর্টমুন্ড। তবে টাইয়ে দুই দলের মাঝে পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছেন নেইমার। প্রথম লেগের পর দ্বিতীয় লেগেও গোল করলেন তিনি। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ ষোলোর ফাড়া কাটাল পিএসজি। টানা তিন মৌসুম চ্যাম্পিয়নস লিগের এই পর্ব থেকে বাদ পড়ার পর অবশেষে কোয়ার্টার ফাইনালের মুখ দেখল প্যারিসিয়ানরা। তাতে নেইমারের থাকল বড় অবদান।

    করোনা ভাইরাসের কারণে পার্ক দি প্রিন্সের গ্যালারি ছিল দর্শকশুন্য। তবে মাঠে প্রবেশ করতে না পারলেও মাঠের বাইরে ঠিকই জমা হয়েছিলেন অসংখ্য পিএসজি ভক্ত। ম্যাচের শুরু থেকেই আতশবাজি ফুটিয়ে, ফ্লেয়ার উড়িয়ে, একসঙ্গে গান গেয়ে নেইমার-এমবাপ্পেদের জানান দিচ্ছিলেন, সব প্রতিবন্ধকতা তুচ্ছ করে তারা আছেন দলের সঙ্গে। সেসব যদিও মাঠে সাহায্য করতে পারেনি নেইমারদের। বরং এই ম্যাচে থমাস তুখলকে একাদশ সাজাতে হয়েছিল 'আনফিট' কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়া। থিয়াগো সিলভাও শেষ মুহুর্তে ছিটকে পড়েছিলেন। আর মার্কো ভেরাত্তি ছিলেন নিষেধাজ্ঞায়। নেইমারের ওপর চাপ ছিল তাই আরও বেশি।  

    ২০১৭ সালে বিশ্বরেকর্ড ফি দিয়ে বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে প্যারিসে এনেছিল পিএসজি। লক্ষ্যটা পরিষ্কার ছিল। ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোয় ভুরি ভুরি ট্রফি জিতলেও ইউরোপে সাফল্য নেই একবারেই। ইউরোপ সেরা হতে হলে নেইমারের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের প্রয়োজন বুঝেই তাকে দলে টানতে কাড়ি-কাড়ি অর্থ ঢালতে সঙ্কোচ করেনি পিএসজি। তবে নেইমার আসার পরও ইউরোপে ভাগ্য বদলায়নি পিএসজির। নেইমার দলে আসার পর গত দুই মৌসুমে শেষ ষোলোয় এসেছিল পিএসজি। চোটের কারণে দুই মৌসুমে শেষ ষোলোয় চার ম্যাচের ৩ টিতেই অনুপস্থিত ছিলেন নেইমার। তবে তৃতীয় প্রচেষ্টায় এবার স্বরূপে ফিরলেন তিনি। স্বরূপে ফিরল ক্লাবও।


    দ্বিতীয় লেগে গোলের পর এরলিং ব্রুট হালান্ডের বিখ্যাত ‘জেন’ সেলিব্রেশনও তাকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন নেইমার। প্রথম লেগে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দিলেও ফিরতি লেগে নিজের ছায়া হয়েই ছিলেন ডর্টমুণ্ডের এই নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড।

    বল দখলের দিক দিয়ে শুরু থেকেই ডর্টমুন্ডের চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল পিএসজি। মধ্যমাঠের কাণ্ডারি ভেরাত্তি না থাকলেও এদিন তার অভাব খুব একটা বোধ করেনি। মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই বুঝে পেলেও ফাইনাল থার্ডে গিয়ে ভেস্তে যাচ্ছিল তাদের গোলের প্রচেষ্টা। টাইয়ে এগিয়ে থাকায়  ৫-৪-১ ফর্মেশনে শুরু থেকে রক্ষণাত্মক ফুটবলেই আস্থা রাখে ডর্টমুন্ড। তবে প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে প্রথমবারের মতো সফরকারীদের রক্ষণ ভেদ করে পিএসজি। আনহেল ডি মারিয়ার রক্ষণ চেরা পাস খুঁজে নেয় এডিনসন কাভানিকে, দূরের পোস্টে জোরালো শট করলেও পা দিয়ে সে যাত্রায় দলকে রক্ষা করেন ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক রোমান বুরকি।

    তবে এর মিনিট তিনেক পর আর দলকে বিপদ থেকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। ডি মারিয়ার দারুণ বাঁকানো কর্নার থেকে সামনের দিকে ডাইভ করে নিখুঁত হেডারে লক্ষ্যভেদ করেন নেইমার। নেইমারের গোলে টাইয়ে ২-২ সমতা আসে, তবে অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে তখন চালকের আসনে পিএসজি।

    তবে ২৮ মিনিটে নেইমারের গোলের পরই হঠাৎ যেন জেগে ওঠে লুসিয়েন ফাভরের ডর্টমুন্ড। বেশ কয়েকটি আক্রমণে পিএসজি রক্ষণকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে তারা। তবে এই অর্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে পরিষ্কারভাবে ডর্টমুন্ডকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায় পিএসজি। মধ্যমাঠে ডর্টমুণ্ড বল হারালে তা আসে বক্সের সামনে থাকা ডি মারিয়ার কাছে। কালক্ষেপণ না করে ডান প্রান্তে থাকা পাবলো সারাবিয়ার দিকে সেই বল পাস করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। সেখান থেকে ছয় মিটার বক্সের ভেতর বিপজ্জনক ক্রস করেন সারাবিয়া, ক্রস থেকে পাওয়া বলে পা ছুঁইয়ে দূরের পোস্টে কোণাকুণি ফিনিশে জয়সূচক গোলটি করেন বের্নাত।

    দ্বিতীয়ার্ধে এক গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছে ডর্টমুণ্ড। তবে অনেক চেষ্টা করেও পিএসজির ইস্পাত দৃঢ় রক্ষণ ভেদ করা সম্ভব হয়নি তাদের পক্ষে। গোল না করতে পেরেই হতাশা থেকে শেষ দিকে মেজাজ হারিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন ডর্টমুণ্ডের মিডফিল্ডার এমরে চ্যান। ৮৮ মিনিটে নেইমারকে প্রথমে ফাউল করেন চান। তারপর ব্রাজিলিয়ানকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন তিনি। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঝে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইংলিশ রেফারি অ্যান্থনি টেলর সেই ঘটনার জন্য চ্যানকে তো লাল কার্ড দেখিয়েছেনই, সঙ্গে পিএসজির নেইমার, ডি মারিয়া এবং মারকুইনোসকেও হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেছেন। 

    ম্যাচ শেষে পুরো পিএসজি দল মিলে মাঠে মাঠেই সেরেছে ‘জেন’ উদযাপন। এভাবে জয় উদযাপনের একটাই মানে দাঁড়ায়, শেষ ষোলোর শাপ ঘুচিয়ে কোয়ার্টারে পৌঁছে প্যারিসিয়ানরা এখন পরম স্বস্তিতে।

    পিএসজি

    নাভাস, কেহরার, মারকুইনোস, কিমপেম্বে, বের্নাত, পারেদেস, গায়া, কিমপেম্বে, সারাভিয়া, ডি মারিয়া, কাভানি

    বরুশিয়া ডর্টমুন্ড

    বুরকি, পিসেক, জাগাদু, হুমেলস, হাকিমি, এমরে চান, ভিটসেল, গেরেরো, সানচো, হালান্ড, থরয়ান হ্যাজার্ড