• ইউরোপা লিগ
  • " />

     

    লুকাকুর রেকর্ডের রাতে কোয়ার্টারে ইন্টার-ইউনাইটেড

    গত রাত থেকে আবারও মাঠে ফিরেছে ইউরোপিয়ান ফুটবল। ইউরোপা লিগের শেষ ষোলোর চারটি ম্যাচে রাতে মাঠে নেমেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-লাস্ক, ইন্টার মিলান-গেটাফে, শাখতার-ভলফসবুর্গ এবং এফসি কোপেনহেগেন-ইস্তাম্বুল বাসাকসেহির। ম্যাচগুলোতে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে ইউনাইটেড, ইন্টার, শাখতার এবং কোপেনহেগেন।

     

    দাপুটে জয়ে কোয়ার্টারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

    গত মার্চে লাস্কের মাঠে গিয়ে গোলের ফোয়ারা ছুটিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তরুণ দল নিয়েও সেদিন অস্ট্রিয়ান ক্লাবটির জালে পাঁচবার বল পাঠিয়েছিল দলটি। কার্যত সেই লেগেই কোয়ার্টার নিশ্চিত করে ফেলেছিল ইউনাইটেড। ওল্ড ট্রাফোর্ডে লাস্ককে অভূতপূর্ব কিছু করতে পারলে সেই সমীকরণ বদলাতে পারত।

    তবে ইউনাইটেড এদিন শুরু থেকেই দেখেশুনে খেলেছে। নিয়মিত একাদশের অনেককেই এই ম্যাচের মূল একাদশে রাখেননি ওলে গানার সোলশার। প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের শেষ ম্যাচে লেস্টার সিটির বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে গোল পেয়েছিলেন জেসে লিনগার্ড। সোলশার তার ওপর আস্থা রেখেছেন, লাস্কের বিপক্ষে শুরু থেকেই খেলিয়েছেন তাকে। আর সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েই ম্যাচের ৫৭ মিনিটে দারুণ কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। তার গোলের মিনিট দুয়েক আগে ম্যাচের প্রথম গোল পেয়েছিল লাস্ক।


    আর ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের যখন আর মাত্র দুই মিনিট বাকি, তখনই বদলি হিসেবে নামা অ্যান্থনি মার্শিয়াল করেন দ্বিতীয় গোল। 

    ১০ আগস্ট রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে ড্যানিশ ক্লাব কোপেনহেগেনের মুখোমুখি হবে ইউনাইটেড। প্রথম লেগে ইস্তাম্বুল বাসাকসেহিরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল কোপেনহেগেন। তবে ফিরতি লেগে গত রাতে দারুণ কামব্যাকে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে দলটি।

     

    লুকাকুর রেকর্ডের রাতে কোয়ার্টার নিশ্চিত করল ইন্টার

    নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়া এবারের ইউরোপা লিগের প্রথম ম্যাচে জয় পেল আন্তোনিও কন্তের ইন্টার মিলান। ক্লাবের অন্দরমহলে টানাপড়েন থাকলেও মাঠের খেলায় সেটির ছাপ পড়েনি মোটেই। দুই অর্ধে দুই গোল করে গেটাফে-কে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে ইন্টার। আর এর মাধ্যমে ২০১০-১১ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো কোনও ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে পেরেছে ক্লাবটি। সিরি আ-য় রানার্স আপ হওয়া এবং ইউরোপে এই মাইলফলকে কন্তের অধীনে ইন্টারের পুনর্জন্মই দেখছেন অনেকে।


    ম্যাচের ৩৩ মিনিটে আলেসান্দ্রো বাসতোনির পাস থেকে বল পেয়ে বটম কর্নার কাঁপিয়ে দেন ইন্টারের বেলিজিয়ান স্ট্রাইকার। এই গোলের মাধ্যমে ইউরোপা লিগে টানা ৮ ম্যাচে গোল করা হল তার। এর আগে এই টুর্নামেন্টে টানা ৮ ম্যাচে গোল করেছিলেন শুধু নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যালান শিয়ারার, তবে ইউয়েফা কাপ নামে পরিচিত ছিল এখনকার ইউরোপা লিগ। এছাড়া এই গোলের মাধ্যমেই চলতি মৌসুমে ইন্টারের হয়ে ৩০ গোল পূর্ণ হয়েছে তার। ২০১০-১১ মৌসুমে স্যামুয়েল ইতো শেষ ইন্টারের হয়ে এক মৌসুমে ৩০ বা তার বেশি গোল করেছিলেন।

    এরপর দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার মিনিটখানেকের মাঝেই গেটাফের জালে আবারও বল পাঠান ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। গেটাফে ডিফেন্ডার ডেইন ডাকোনামের বাজে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে ৮ গজ দূর থেকে দারুণ ফিনিশে ইন্টারের জয় নিশ্চিত করেন সাবেক টটেনহাম তারকা এরিকসেন।

    এছাড়া রাতে অন্য ম্যাচে ভলফসবুর্গকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে শাখতার দোনেৎস্ক। প্রথম লেগে ২-১ গোলে জয়ের পর দ্বিতীয় লেগেও সেই ধারা অব্যাহত রেখেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইউক্রেনের ক্লাবটি।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন