• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    এভারটনই হামেস রদ্রিগেজের শেষ সুযোগ

    রিয়াল মাদ্রিদ থেকে এভারটন। আহেমস রদ্রিগেজের জন্য চূড়া থেকে ধপাস করে পড়ে যাওয়ার মতোই ব্যাপারটা। ৬ বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপ দিয়ে উথান, এরপর নতুন ঠিকানা রিয়াল মাদ্রিদ। অধারাবাহিক হামেস মাঝে দুই বছর বায়ার্ন মিউনিখেও কাটিয়েছেন। সেখানেও ফর্ম উদ্ধার করতে পারেননি। রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে এরপর টিকতে পারলেন আর এক মৌসুম। সবশেষ মৌসুমেই সাইডবেঞ্চই গরম করেই কেটেছে তার সময়। জিনেদিন জিদান তাকে একাদশে রেখেছেন মাত্র ৫ বার।

    ইউরোপের সফলতম ক্লাব থেকে প্রিমিয়ার লিগে গেলবার ১২ তে শেষ করা দলে হামেস ফিরছেন ফর্ম উদ্ধার করতে। এভারটন সম্ভবত হামেসের ক্যারিয়ারের শেষ চ্যালেঞ্জও। এখান থেকে ফেরার গল্প লিখতে পারলে পুরনো জৌলুস হয়ত ফিরে পাবেন, নইলে ক্ষণিকের জন্য দ্যুতি ছড়িয়ে হারিয়ে যাওয়া ফুটবলারদের দলে নাম লিখাবেন কলম্বিয়ান।


    রিয়াল মাদ্রিদে কেন থিতু হতে পারলেন না হামেস?

    ২০১৪ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন হামেস। ৫ ম্যাচে ৬ গোল করে কলিম্বিয়াকে নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। উরুগুয়ের বিপক্ষে বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের ভলি, বা জাপানের বিপক্ষে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দেওয়া চিপে করা গোল যারা একবার দেখেছেন হামেসের মান সম্পর্কে ধারণা তাদের আছে ভালোমতোই। বয়স তখন তার মাত্র ২২। পোর্তোর পর মোনাকোতেও দারুণ খেলছিলেন। আর বিশ্ব আসরে প্রমাণের পর হামেসের পেছনে নামী-দামী ক্লাবের টাকার বস্তা নিয়ে ছোটাটাও ছিল অনুমিত।

     ক্লাবের ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ দামী ফুটবলার হয়ে সেই গ্রীষ্মেই রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন হামেস। তাকে ঘিরে উন্মাদনা ছিল, প্রত্যাশাও ছিল। ক্লাবের দশ নম্বর জার্সি চাপিয়ে  সে প্রত্যাশা প্রথম মৌসুমে পূরণও করেছিলেন হামেস। ২৩ বছর বয়সীর ১৭ গোল আর ১৩ অ্যাসিস্ট প্রথম মৌসুমের সাফল্যের কথাই বলছে। কিন্তু এরপরই হারিয়ে গেলেন হামেস। হারিয়ে গেলেন নিমিষেই। তাতে বড় প্রভাবক হয়ে থাকল কার্লো আনচেলোত্তির বিদায়। রিয়াল মাদ্রিদে আনচেলোত্তির আমলেই যোগ দিয়েছিলেন হামেস। আনচেলোত্তি চলে যাওয়ার পর রিয়ালে আর সেই হামেসের দেখাই মেলেনি।

    রাফায়েল বেনিটেজের আমলে একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন হামেস। ২০১৫-১৬ মৌসুমের মাঝপথে বেনিটেজ বিদায় নেওয়ার পর জিনেদিন জিদান কোচ হয়ে আসেন। জিদানের দর্শনেও ব্রাত্য হামেস। আদি ‘নাম্বার টেনের’ ভূমিকা ফুটবলে ব্রাত্য হয়ে পড়েছিল তারও আগেই। জিদানও তার ৪-৩-৩ ফর্মেশনে হামেসের সঠিক জায়গাটা খুঁজে বের করতে পারলেন না। বা চেষ্টাও করলেন না।    

    হামেসের খেলার ধরন হাল আমলের ‘আধুনিক’ ফুটবলের সঙ্গে ঠিক মানানসই নয়। হামেস হয়ত মিডফিল্ডে তেমন দাপটও দেখাতে পারেন না। প্রেসিং বা কাউন্টার প্রেসিংয়েও দুর্বলতা আছে স্পষ্টই। আবার সময়ের প্রয়োজনে নিজেকে বদলে ফেলতেও পারেননি হামেস। কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার আর রিয়াল মাদ্রিদের সম্পর্কটা তাই আর টেকসই হয়নি।

    রিয়ালের সময়টা কী ব্যর্থই গেল হামেসের?
    এতো কিছুর পরও রিয়াল মাদ্রিদে হামেসের সময়টা ব্যর্থ বলার উপায় নেই। গেল মৌসুমে সবমিলিয়ে রিয়ালের জার্সি গায়ে হামেস খেলেছেন মাত্র ৮ ম্যাচ। এরপরও রিয়ালে কাটানো তার ৪ মৌসুমের বিচারে স্পেনে সবচেয়ে বেশি চান্স ক্রিয়েশন ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ৬ নম্বরে হামেস। তার ওপরে আছেন কেবল লিওনেল মেসি, নেইমার, কোকে, টনি ক্রুস ও পাবলো সারাবিয়া।


    ২০১৬-১৭ মৌসুমে যে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল রিয়াল- তখনও উজ্বল ছিলেন হামেস। বড় ম্যাচে হয়ত জিদান তাকে সুযোগ দেননি। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের যখন লিগের ম্যাচগুলোয় জিদান নিয়িমত বিশ্রামের সুযোগ করে দিতেন, তখন ভরসা ছিলেন এই হামেসরাই। বেশ কয়েকটি ম্যাচ তখন রিয়ালের জন্য বের করেও এনেছিলেন হামেস। রিয়ালের ঐতিহাসিক সাফল্যে এসব আলোড়ন তুলতে পারে না বলে হামেস কখনও কখনও থেকে গেছেন ছায়াতেই।

    আনচেলোত্তি আছেন বলেই হামেসের ভরসা
    এভারটনে হামেসের যোগ দেওয়ার একমাত্র কারণ আনচেলোত্তিই। মিলান ও রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী কোচকে এভারটন দায়িত্ব দিয়েছিল বৈশ্বিক পরিচিত বাড়াতেই। সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নেওয়াও এভারটনের লক্ষ্য। সে হিসেবে হামেস তাদের জন্য শিরোনাম কাড়া সাইনিং।

    আনচেলোত্তি আছেন বলেই, হামেসও ক্যারিয়ার ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন ইংল্যান্ডে। রিয়াল ছেড়ে আনচেলোত্তি যোগ দিয়েছিলেন বায়ার্ন মিউনিখে। প্রথম মৌসুমে বুন্দেসলিগা জয়ের পর ২০১৭-১৮ এর শুরুতে রিয়াল থেকে তখন দুই বছরের জন্য ধারে হামেসকে বায়ার্নে নিয়ে গিয়েছিলেন তখন ইতালিয়ান কোচ। কিন্তু সেপ্টেম্বরে আনচেলত্তি বরখাস্ত হওয়ায় এই জুটির স্থায়িত্ব বাড়েনি জার্মানিতে। কিন্তু জার্মানিতেও প্রথম মৌসুমে আলো ছড়িয়েছিলেন হামেস। তার ১১ অ্যাসিস্ট আর ৭ গোল সেবার বায়ার্নকে বুন্দেসলিগা জেতাতে বড় ভূমিকাই রেখেছিল।

    তবে ২০১৮-১৯ মৌসুমে নতুন কোচ নিকো কোভাচের অধীনে আরও একবার নিজেকে হারিয়ে ফেলেন হামেস। পরের মৌসুমে তো রিয়ালেই ফেরত আসেন।

    হামেসের খেলার প্রধান অস্ত্র তার প্লে মেকিং যোগ্যতা। পুরো ম্যাচ খেলে হামেস চোখ ধাঁধানো আর নিখুঁত গোলের সুযোগ তৈরি করেননি এমন উদাহরণ বিরল। আর দলটা এভারটন বলেই তাকে ঘিরে আক্রমণ সাজাতেও খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা হয় আনচেলোত্তির। রিচার্লিসন আর ক্লাভার্ট লুইনের ঠিক পেছনেই খেলার কথা হামেসের, নিজের পছন্দের নাম্বার টেনে ভূমিকায়। আনচেলোত্তি তাকে চেনেন বলেই হয়ত আধুনিক মিডফিল্ডারদের মতো ট্র্যাকব্যাক আর প্রেস করার ‘উটকো’ ঝামেলা তার কাঁধে চাপিয়ে দেবেন না। মূল দায়িত্বটা থাকবে আক্রমণেই। ইংল্যান্ডে তাই সফল হওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি হামেসের।           

    এভারটন ঝুঁকি নিল কতোখানি?
    বড় মাপের খেলোয়াড় দলে ভেড়ানো মাঝারি মানের দলগুলোর জন্য অনেক সময় ঝুঁকির কারণও হয়ে দাঁড়ায়। তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত, এভারটন যে ঝুঁকি নিয়েছে তাতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবানই হওয়ার কথা তাদের। ২০ মিলিয়ন পাউন্ড গেছে দলবদলে। সেটা এই বাজারে এমন কোনো টাকা নয়। বিনিময়ে এভারটন পাচ্ছে বড় একজন বিশ্বতারকা। যার কেবল ইন্সটাগ্রামে ফলোয়ারই ৪৬.১ মিলিয়ন। কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় তারকা তিনি।
    সাকিব আল হাসান আইপিএলে খেললে যেমন পুরো বাংলাদেশের নজর কাড়েন, হামেস আর কলম্বিয়ার ব্যাপারটিও তেমন। এভারটন বৈশ্বিক ক্লাবে পরিণত হতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের একটি অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হামেসের সঙ্গে চুক্তি তাদের বিপনণের দিক থেকেই তাই এগিয়ে দিচ্ছে অনেকটা।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন