• বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ ২০২০
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    মাঠে এলেও ফিটনেস টেস্ট হয়নি সাকিবের, বাকি '৯০-৯৫ শতাংশেরই অবস্থা ভাল'

    সাকিব আল হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ যেদিন মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম ছেড়ে যান, তখন দিন গড়িয়ে রাত। এক বছরেরও বেশি সময় পর, নিষেধাজ্ঞা শেষে, এদিন এলেন সকাল সকালই। তবে যে উদ্দেশ্যে আসা, পূরণ হলো না সেটিই। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের আগে ফিটনেস টেস্ট দিতে অন্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে এসেছিলেন তিনিও, তবে ফিটনেস টেস্ট হয়নি তার। মূলত অন্য যাদের সঙ্গে ফিটনেস টেস্ট দেওয়ার কথা ছিল, তাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়নি বলেই সাকিব এই টেস্ট দেননি। 

    বিসিবির নতুন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আগে সাকিবসহ ১১৩ জন ক্রিকেটারকে ফিটনেস টেস্টের জন্য ডেকেছিল বিসিবি। প্রথম দিন ৮০ জনের ফিটনেস টেস্ট দেওয়ার কথা ছিল, আব্দুর রাজ্জাক, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, আরাফাত সানিরা এসেছিলেন এদিন। তামিম ইকবাল, মোস্তাফিজুর রহমানরাও অনুশীলনে এলেন, তবে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে খেলা, জাতীয় দল ও এইচপি সেট-আপের ক্রিকেটারদের এই টেস্ট হচ্ছে না। 

    সাকিব ফিটনেস টেস্ট দেবেন বুধবার, জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, “আজকে শুরু করছে নিষেধাজ্ঞার পরে। ফিটনেসটাও দেখা হবে, বুধবারে ও ফিটনেস টেস্ট দিবে। আস্তে আস্তে হবে, তাড়াতাড়ি তো সবকিছু পাওয়া যায় না। আস্তে আস্তেই সবকিছু হবে। সে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, পৃথিবীর সেরা ক্রিকেটার এবং খুব তাড়াতাড়িই মানিয়ে নিতে পারবে এবং এই টুর্নামেন্টে ভালোই খেলবে আশা করি।” 


    সাকিবের ফিটনেস না দেওয়ার কারণ সরাসরি কিছু বলেননি নান্নু, “মাত্র এসেছে, সবকিছু কেটে যেতে একটু সময় তো দিতে হবে। বুধবারে ট্রেইনারের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে সবকিছু ঠিক করে নিয়েছে।”

    তবে বিসিবির ট্রেইনার তুষার কান্তি হাওলাদার বলেছেন আরেকটি কারণ, “যাদের সঙ্গে সাকিবের বিপ টেস্ট হওয়ার কথা, তাদের কারও কোভিড পরীক্ষা করানো হয়নি। এটা একটা ভাবনার কারণ,” বিডিনিউজটোয়েন্টিফরডটকমকে বলেছেন তিনি। “এছাড়াও সে দীর্ঘদিন পর ফিরেছে। ফিজিও-ট্রেনাররা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। এজন্যও একটু সময় লাগবে।”

    তবে সাকিব ছাড়া যারা ফিটনেস টেস্ট দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশের অবস্থাই ভাল, জানিয়েছেন নান্নু, “বিপ টেস্ট ভালোই দিচ্ছে মোটামুটি, যে গ্রুপটা শেষ হয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশের সবাই তো ভালোই দিয়েছে। কালকে আরেকটা গ্রুপের আছে। তো আমাদের যেটা বেঞ্চমার্ক দেওয়া আছে প্রথম শ্রেণিতে, সেটার স্টান্ডার্ডটা দেখার জন্য। এতদিন এরা ফিটনেসের বাইরে ছিল। তো আশা করছি যে সবাই একটা ভালো অবস্থানে আছে বলেই আশা করছি।”

    এ ব্যাপারটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই ইতিবাচক বলে মনে করেন শাহরিয়ার নাফীস, “আমাদের ফ্যাসিলিটিজের একটু দূর্বলতা রয়েছে। আমরা কিন্তু যখন থেকেই ১১ বেঞ্চমার্ক সেট করে দিয়েছে তখন থেকেই কিন্তু অনেকে সচেতন হয়েছি এবং আজকের ফিটনেস টেস্টে দেখা যাচ্ছে যে প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ ক্রিকেটার হয়তো পাশ করে যাবে। সুতরাং এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক।” 

    মূলত সবার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেই এই টেস্ট, জানিয়েছেন বিসিবির হেড অফ ফিজিক্যাল পারফরম্যান্স নিক লি, “আজকে জাতীয় নির্বাচকরা দেখতে চেয়েছিল প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড়দের অবস্থা যাচাই করতে। তাদেরকে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত করতে। আমার মনে হয় নির্বাচক এবং বাকি সবাই জানে যে এটি সবার জন্যই একটি কঠিন বছর ছিলো। করোনাভাইরাসের জন্য ক্রিকেটে এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক অনুশীলন করায় অনেক বাধা এসেছে। তাই আজকে ব্যাপারটি ছিলো সবাইকে এনে তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। এখন পর্যন্ত আমি যা দেখেছি, বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ভালো করেছেন। অল্প কয়েকজন সমস্যায় পড়েছে। আমার মনে হয় যে ফলাফলগুলো এসেছে তাতে নির্বাচকরা খুশি হবেন।” 


    “জাতীয় দল এবং এইচপির খেলোয়াড়রা বর্তমানে যে অবস্থায় আছেন সেটি নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমার যেটি ভালো লেগেছে সেটি হলো, করোনাভাইরাসের কারণে তারা ক্রিকেট খেলতে না পারলেও এটি ক্রিকেটারদের আরও ফিট হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আপনি যদি বেশিরভাগ খেলোয়াড়কে জিজ্ঞাসা করেন তাহলে তারা বলবে তারা আগের চেয়ে এখন বেশি ফিট। কারণ এই সময়ের মধ্যে তারা ক্রিকেট খেলতে পারেনি এবং ফিটনেসের দিকে মনোযোগ দিতে পেরেছিলো।

    “এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, শারীরিক ফিটনেস এবং ক্রিকেট ফিটনেসের মধ্যে পার্থক্য আছে। আমরা এখন আছি নিজের শারীরিক কাজ করা এবং একই সাথে ম্যাচ ফিট হওয়ার প্রক্রিয়াটির মধ্যে। এজন্য প্রেসিডেন্টস কাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। কারণ এর মধ্যে দিয়ে ক্রিকেটাররা প্রতিযোগিতামূলক খেলার অভ্যাসে ফিরে আসছে। সামনের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে আমরা আরেকটু কঠিন ফিটনেসের কাজ রাখবো। ক্রিকেটাররা তাদের মাঠের বাইরের কাজ যতটুকু সম্ভব করেছে, এখন তাদের প্রয়োজন শুধু কিছু ম্যাচ খেলা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরু হবার আগেই সেই পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত হওয়া।”

    তবে সব মিলিয়ে এই কোভিড-১৯ এর মাঝে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হতে পারে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের অবস্থা, মনে করেন এনামুল হক জুনিয়র, “গত সাত মাসে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে যে সুন্দর পরিবর্তন এসেছে, সেটা ফিটনেসে। সবাই সাধ্যমত চেষ্টা করেছে এই সময়ে। যার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। আগে যারা ৯-১০ দিত, তারা এখন ১১ দিচ্ছে (বিপ টেস্টে)।” 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন