• আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৬
  • " />

     

    তাসকিনের নিষেধাজ্ঞা এবং কিছু সওয়াল-জবাব

    কয়েক দিন আগেই তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের জন্য সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছেন। বিশেষ করে তাসকিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উঠেছে বেশ কিছু প্রশ্ন। কিন্তু বোলিং অ্যাকশন নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়াটা কী? সেটা শুদ্ধীকরণই বা করা যায় কীভাবে? 

     

    স্বতন্ত্র মূল্যায়ন (ইন্ডিপেন্ডেন্ট এসেসমেন্ট) কখন?

    স্বতন্ত্র মূল্যায়ন যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে, ব্যতিক্রমী কিছু না হলে বোলারের 'বোর্ড নোটিশ' পাওয়ার ১৪ দিনের মাঝেই। অবশ্য আইসিসির কোনো ইভেন্ট চলাকালে এই সময়সীমাটা বদলে যাবে, সেক্ষেত্রে ম্যাচ অফিশিয়ালের রিপোর্ট পাওয়ার সাতদিনের মধ্যেই করার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে [২.২.৬, ২.২.১৬]।

    কোনো বোলার এই ১৪ দিন বা ৭ দিনের মাঝে পরীক্ষা দিতে ব্যর্থ হলে, তাঁকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করা হবে। এই নিষেধাজ্ঞা ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ বোলার তাঁর অ্যাকশন শুধরিয়ে মূল্যায়ন দিতে প্রস্তুত না হন। তবে আইসিসি পরীক্ষা নিতে ব্যর্থ হলে বোলার নিষিদ্ধ হবেন না [২.২.৮]।

    স্বতন্ত্র মূল্যায়নের সময় ও তারিখ ঠিক করার দায়ভার আইসিসির। নির্দিষ্ট বোলার যাতে তার বোর্ডের মাধ্যমে এর আগেই উপযুক্ত নোটিশ পায়, নিশ্চিত করতে হবে তাও। বোলারের বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে সকল ভ্রমণ ও আবাসন ব্যবস্থা আইসিসিই করবে [২.২.৭]।

     

    প্রক্রিয়া

    ১. স্বতন্ত্র মূল্যায়ন আইসিসির আদর্শ বিশ্লেষণ প্রটোকল অনুযায়ী হতে হবে। ম্যাচ অফিশিয়ালদের রিপোর্টকে বিবেচনায় আনতে হবে। বোলারকে রিপোর্ট করা অ্যাকশনটারই অবিকল অনুকৃতি করে দেখাতে হবে [২.২.৬]।

     

    ২. থ্রিডি ক্যামেরা ও উচ্চগতির ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। তথ্য সংগ্রহ ও ক্যামেরা পদ্ধতি আইসিসির সরবরাহকৃত ক্যালিব্রেশন যন্ত্রপাতি দ্বারা ক্যালিব্রেট করে নেয়া হবে। ক্যালিব্রেশন করতে প্রায় বিশ মিনিটের মতো সময় লাগতে পারে। আইসিসি কর্তৃক সরবরাহকৃত সফটওয়্যার প্যাকেজ থাকবে তথ্য বিশ্লেষন ও ফল প্রদানের জন্য। এ সম্পর্কে বিস্তারিত থাকবে মূল্যায়নের লিখিত রিপোর্টে, যা স্বতন্ত্র মূল্যায়ন রিপোর্ট নামে পরিচিত।

     

    ৩. মূল্যায়নের আগে আইসিসির প্রটোকল সম্পর্কে বোলারকে অবহিত করা হবে। ‘হাইপারমোবিলিটি’ সম্পর্কে একটা সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নও করা হবে। বোলার নিয়োগকৃত বিশেষজ্ঞের কাছে নিজের যে কোনো মেডিক্যাল বা বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রদান করতে পারবেন। বোলিং অ্যাকশনের তথ্য সংগ্রহ করার আগে বোলার ওয়ার্ম-আপ করে নেবেন, এজন্য তাঁর যতগুলো ডেলিভারি করতে হয়, করবেন।

     

    ৪. সাধারণ অবস্থায় মূল্যায়ন ইনডোরে অনুষ্ঠিত হবে, একটা সঠিক দৈর্ঘ্যের পিচ সরবরাহ করা হবে।

     

    ৫. মূল্যায়নের সময় পেসার বা মিডিয়াম পেসারদের কমপক্ষে ছয়টি গুড লেংথ ও লাইনের ডেলিভারি, ছয়টি ইয়র্কার ও ছয়টি বাউন্সারের (এসব ডেলিভারি ম্যাচ রিপোর্টে সন্দেহজনক না হলেও) সঙ্গে তাদের যে কোনো ‘ভ্যারিয়েশন’ অথবা যে ডেলিভারির জন্য অ্যাকশন সন্দেহজনক হয়েছে তা করতে হবে।

    স্লো বোলারদের নিজস্ব যেকোনো ভ্যারিয়েশনের ডেলিভারি ছয়টি করে করতে হবে, অথবা যে ডেলিভারি ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী সন্দেহজনক, তা করতে হবে।

    মূল্যায়নের সময় করা ডেলিভারিগুলো বোলারের পূর্ণ রান-আপে তাঁর সাধারণ বোলিং অ্যাকশনে সাধারণ গতিতে করতে হবে।

     

    ৬. ফ্রন্ট ফুটের নো বল কিংবা যেকোনো ডেলিভারি যা মূল্যায়ন দলের কাছে সঠিক লাইন, লেংথ বা ভ্যারিয়েশনের মনে হবে না, তা পুনরায় করতে হবে। 

    বোলিং অ্যাকশন মিলিয়ে দেখার জন্য নিয়োগকৃত বিশেষজ্ঞকে যে ম্যাচের জন্য বোলার রিপোর্টেড হয়েছেন, তার ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করা হবে।

     

    ৭. বিশেষজ্ঞ কমিটির পূর্ণ ইচ্ছানুযায়ী মূল্যায়ন কমিটিতে একজন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ থাকতে পারেন, যিনি বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে নির্ণয় করবেন, বোলার তাঁদের ম্যাচের অ্যাকশনেই বল করছেন কিনা।

    বোলাররা তাঁদের ম্যাচ-ডের অ্যাকশন বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে করেছেন কিনা, তাও রিপোর্টে বলা থাকবে [সংযোজনী ১, আইসিসি স্ট্যান্ডার্ড অ্যানালাইসিস প্রটোকল, বায়োমেকানিক্যাল অ্যানালাইসিস অফ এ বোলিং অ্যাকশন]।

     

    একজন বোলারের সঙ্গে স্বতন্ত্র মূল্যায়নে একজন সঙ্গী থাকতে পারেন, তিনি হতে পারেন বোলারের কোচিং স্টাফের সদস্য অথবা তাঁর বোর্ডের সাপোর্ট স্টাফের কোনো সদস্য। এই সঙ্গীকে মূল্যায়ন পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করার অনুমতি দেয়া হবে, তবে তিনি এতে কোনোভাবেই অংশগ্রহন বা বাধা দিতে পারবেন না [সংযোজনী ১, দ্রষ্টব্য ‘নোট’]।


    সম্পর্কিতঃ ক্রিকেটের 'চাকিং-রহস্য'


    ফল

    বোলারের কনুইয়ের সম্প্রসারণে আইসিসির অনুমোদিত মাত্রা ১৫ ডিগ্রী পর্যন্ত। তবে কনুইয়ের ‘হাইপার-এক্সটেনশন’ এবং/ও পেশীর সম্প্রসারণ/বলন প্রাপ্ত ফল থেকে বাদ দেয়া হবে। স্বতন্ত্র মূল্যায়নের রিপোর্ট প্রদানের জন্য আইসিসি প্রদত্ত নমুনা কপি ব্যবহার করা হবে।

    স্বতন্ত্র মূল্যায়নের রিপোর্ট যত দ্রুত সম্ভব আইসিসিকে দিতে হবে, ব্যতিক্রমী কিছু না ঘটলে মূল্যায়নের দিন থেকে কমপক্ষে দশদিনের মাঝে দিতে হবে।

    স্বতন্ত্র মূল্যায়নের রিপোর্ট বোর্ডের কাছে প্রদানের আগে আইসিসির হিউম্যান মুভমেন্ট প্যানেলের অন্তত একজন সদস্য, যিনি মূল্যায়নের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না, তাঁর দ্বারা পর্যবেক্ষণ ও কার্যকর করে নিতে হবে।

     

    রিপোর্টে থাকবে

    স্বতন্ত্র রিপোর্টে রেকর্ড করা প্রত্যেক ডেলিভারির ফল, এবং ১৫ ডিগ্রীর সীমা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে সেই বোলার-

    ক) বৈধ অ্যাকশন প্রয়োগ করছেন,

    খ) অবৈধ অ্যাকশন প্রয়োগ করছেন,

    গ) কোনো নির্দিষ্ট ডেলিভারির জন্য অবৈধ অ্যাকশন প্রয়োগ করছেন।

     

    কখন অবৈধ?

    যদি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, বোলার তাঁর স্টক ডেলিভারির সময় অবৈধ অ্যাকশন প্রয়োগ করছেন এবং ক) এটি সরবরাহকৃত ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অথবা খ) গুণগতভাবে আলাদা, তবে, বোলারকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করা হবে, যতক্ষণ না তিনি পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেন।

     

    যদি এই মূল্যায়ন কোনো বোলারের অ্যাকশনকে অবৈধ বলে ঘোষণা দেয়, এটাও বলে দিতে হবে, সেই বোলারের অ্যাকশন সবমিলিয়ে অবৈধ নাকি কোনো একটা বিশেষ ডেলিভারি অবৈধ। নিয়োগকৃত বিশেষজ্ঞ এটাও বলবেন, তাঁর এই মূল্যায়ন প্রাসঙ্গিক ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কিনা। যদি শুধু বিশেষ কোনো ডেলিভারি অবৈধ হয়, তাহলে সেই ডেলিভারিটা উল্লেখ করতে হবে, স্টক ডেলিভারির সঙ্গে এর পার্থক্যও উল্লেখ করতে হবে।

    এটা উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বোলারের বোলিং অ্যাকশন বৈধ বলে প্রমাণিত হতে হলে, স্বতন্ত্র মূল্যায়নে রেকর্ড করা প্রত্যেকটি ডেলিভারিই কনুই সম্প্রসারণের গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে থাকতে হবে[২.২.১২, দ্রষ্টব্য 'ফুটনোট']।

     

    বিশেষ ডেলিভারি, বিশেষ সুযোগ

    স্বতন্ত্র মূল্যায়ন কমিটি যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, ওই বোলার তাঁর স্টক ডেলিভারি (বোলারের নিয়মিত ডেলিভারি) ছাড়া শুধু একটি বিশেষ ডেলিভারির জন্য অবৈধ অ্যাকশন প্রয়োগ করছেন, তবে তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিংয়ের অনুমতি দেয়া হবে (ওই বিশেষ ডেলিভারি না করা সাপেক্ষে)। তবে এই ডেলিভারি করলে তাঁকে দ্বিতীয়বার ‘সাইট’ হওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে [২.২.১০, ২.২.১২ ২.৪]।

     

    তবে, এটি সেই পরিস্থিতিতেই বিবেচিত হবে, যখন বোলার বিশেষ ডেলিভারির জন্য বিশেষ কোনো টেকনিক/কৌশল অবলম্বন করেন, যেমন হাতের পেছন দিকে থেকে বল ঘুরিয়ে ‘গুগলি’ বা ‘দুসরা’ করা। এটি সে পরিস্থিতিতে বিবেচ্য হবে না, যখন ভিন্ন রকম কোনো ডেলিভারি করতে বোলার একই মৌলিক টেকনিক ব্যবহার করেন, যেমন, বাউন্সার বা ইয়র্কার দেয়ার জন্য বেশী/অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেন।  (এই তথ্যটি অবৈধ অ্যাকশনের কারণে সন্দেহ করা বোলারদের রিভিউয়ের জন্য আইসিসির ২০১০ সালে সংশোধিত রেগুলেশনে উল্লেখিত, সেকশন ২.২.১২, দ্রষ্টব্য ফুটনোট)

     

    নিষিদ্ধ হওয়ার কার্যকাল

    এ সিদ্ধান্ত হোম-বোর্ড মূল্যায়নের কপি পাওয়ার দিন থেকেই কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট বোর্ড রিপোর্টের কপি পাওয়ার আগ পর্যন্ত একজন বোলার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল করে যেতে পারবেন। এর মাঝে যদি আম্পায়ার আবার রিপোর্ট করেন, তবে তার প্রভাব থাকবে না। তবে এই সময়ে ক্রিকেটের ২৪.২ নম্বর আইন অনুযায়ী আম্পায়ার ব্যবস্থা নিতে পারেন [২.২.১৪]।

     

    বৈধ হলে

    আর বোলারের অ্যাকশন যদি অবৈধ প্রমানিত না হয়, তবে যেখানে প্রাসঙ্গিক সেখানে এটা উল্লেখ করতে হবে, বোলারের অ্যাকশন মূল্যায়নের সময় যে ম্যাচে বোলিংয়ের জন্য সন্দেহজনক হয়েছে, তার সঙ্গে গুনগত পার্থক্য আছে কিনা। সেটা মোটের ওপর অ্যাকশন হোক, বা যদি আম্পায়ার কোনো বিশেষ ডেলিভারির কথা উল্লেখ করে থাকেন তার সঙ্গে [২.২.৯]।

     

    যদি আপত্তি থাকে!

    যদি বোলার স্বতন্ত্র মূল্যায়নের পারিপার্শ্বিকতা বা পরিচালনার ধরন নিয়ে কোনো রকমের উদ্বেগ বা অভিযোগ প্রকাশ করেন, তাহলে তাঁকে নিয়োগকৃত বিশেষজ্ঞর কাছে তা জানাতে হবে। তবে সেটা মূল্যায়ন-প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই করতে হবে। এরপর সেই বিশেষজ্ঞ একটা লিখিত অভিযোগ বা উদ্বেগনামা দিবেন, এবং সেটা নিয়ে সেই বোলারের মতপার্থক্য থাকতে পারবে না। মূল্যায়নের রিপোর্টের সঙ্গে উল্লেখকৃত বোলারের কোনো অভিযোগ বা উদ্বেগের কথাও জানাতে হবে।

     

    জুডিশিয়াল কমিশনার রিভিউ

    আইসিসির বিশ্লেষণ প্রটোকল অনুযায়ী আইসিসি স্বীকৃত কোনো পরীক্ষাগারে অনুষ্ঠিত স্বতন্ত্র মূল্যায়ন বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত ও নির্ভরযোগ্য। এ কারণে স্বতন্ত্র মূল্যায়নের বিরুদ্ধে আবেদনের জন্য কোনো বোলারকে অধিকার দেয়া হয়না। তবে, যদি এমন পরিস্থিতি উদ্ভব হয় যে, বোলারের মতে খোদ আইসিসি স্বতন্ত্র মূল্যায়নের সময় তার রেগুলেশন মেনে চলেনি, তবে বোলার একজন জুডিশিয়াল কমিশনারের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন [২.২.১৫]।

    সাতদিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে, কোন কোন অংশ পুনর্বিবেচনা করা যায় তা উল্লেখসহ। জুডিশিয়ারি কমিশনার যেকোনো সময় যে কোনো হিউম্যান মুভমেন্ট বিশ্লেষকের সাহায্য নিতে পারবেন। তিনি আবেদন খারিজ করে দিতে পারেন, আবার যদি তিনি স্বতন্ত্র মূল্যায়নে কোনো ত্রুটি পান যা পুরো প্রক্রিয়ার ফলের ওপরই প্রভাব ফেলেছে, তবে মূল্যায়নের ফল বদলাতে পারেন। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই আইসিসিকে অবহিত করতে হবে একটা সারাংশসহ, তিনি কেন এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন। জুডিশিয়াল কমিশনারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে, পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া তখন আর উপায় থাকবে না [২.৩]।

     

    পুনর্মূল্যায়ন

    বোলিং অ্যাকশন শুধরিয়ে একজন বোলার যেকোনো সময় পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে স্বতন্ত্র মূল্যায়নের আগেই তাঁকে বলে দিতে হবে, তিনি কোন কোন ডেলিভারির জন্য পরীক্ষা দিতে চান, এবং অ্যাকশন বৈধ প্রমাণিত হলে তিনি শুধু সেই ডেলিভারিগুলোই করার অনুমতি পাবেন। তবে প্রথমবার নিষিদ্ধ হওয়ার দুই বছরের মাঝে যদি তিনি এই পুনর্মূল্যায়ন দিতে চান, এবং সেখানেও অবৈধ প্রমাণিত হন, তবে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হবেন। এবং এই এক বছরে তিনি কোনো পুনর্মূল্যায়নের আবেদনও করতে পারবেন না। তবে এক্ষেত্রেও ‘পুনর্বিবেচনার’ মতো করে কোনো বোলার রায়ের বিরুদ্ধে ‘আপিল’ করতে পারবেন [২.৪, ৫, ৬]।

     

    খরচ

    স্বতন্ত্র মূল্যায়নের সব খরচ আইসিসির। তবে বোলার পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করলে তার খরচের দায়ভার তাঁর বোর্ডের। [২.৭]

     

    পাদটিকা

    ১. আইসিসির রেগুলেশনে স্বতন্ত্র মূল্যায়নের জন্য কোনো সময়, যেমন কত মিনিট বা ঘন্টায় এ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে, তার কোনো উল্লেখ নেই। 

    ২. স্বতন্ত্র মূল্যায়নের আগে, ম্যাচ অফিশিয়ালদের রিপোর্টে চাইলে আম্পায়াররা কোনো বোলারের কোনো বিশেষ ডেলিভারির অ্যাকশন অথবা সবমিলিয়ে পুরো বোলিং অ্যাকশন নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করতে পারেন। 

     

    সূত্র

    ১. অবৈধ অ্যাকশনের কারণে সন্দেহ করা বোলারদের রিভিউয়ের জন্য আইসিসির ২০১৫ সালে সংশোধিত রেগুলেশন[তৃতীয় বন্ধনীতে ব্যবহৃত নাম্বার এ রেগুলেশনের অনুচ্ছেদ নির্দেশক। রেগুলেশনে ‘প্লেয়ার’ শব্দ উল্লেখ করা আছে, বোঝার সুবিধার্তে তা ‘বোলার’ বলা হয়েছে]

    ২. অবৈধ অ্যাকশনের কারণে সন্দেহ করা বোলারদের রিভিউয়ের জন্য আইসিসির ২০১০ সালে সংশোধিত রেগুলেশন

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন