• আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৬
  • " />

     

    চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলবে না ভারত?

    আইসিসির সাথে সম্পর্কটা অনেকদিন ধরেই ভালো যাচ্ছিল না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের। তিন মোড়লের অর্থ ভাগাভাগির ব্যাপারটা নিয়ে মন কষাকষি চলছিল কয়েক মাস ধরে। এবার সেই দ্বন্দ্বটা চরমে রূপ নিয়েছে। আইসিসির অর্থ বিষয়ক কমিটিতে জায়গা না পাওয়ায় আগামী বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বর্জনের হুমকি দিয়েছে বিসিসিআই।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিসিসিআইয়ের মহাসচিব অজয় শিরকে এই ঘটনাকে বিসিসিআইয়ের জন্য চরম লজ্জাজনক বলেছেন, “আর্থিক, বাণিজ্য এবং প্রধান নির্বাহী কমিটির সভাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো হয়। এই তিন কমিটিতে ভারতের প্রতিনিধি না থাকা সত্যিই খুব লজ্জার। আমরা আইসিসিকে বলতে চাই, হয় আমাদেরকে কমিটিতে ফেরত আনুন অথবা আমরা সেটাই করব যা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ভালো হয়। যদি আমাদের দাবি না মানা হয় তাহলে আমরা আগামী চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নাও খেলতে পারি।”

    বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, অজয় আইসিসিকে বলেছেন যদি তারা ভারতের দাবি না মানে তাহলে ‘আলাদা রাস্তা’ খুঁজে নেয়া হবে। এদিকে বিসিসিআইয়ের আরেকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “এখন আইসিসি একনায়কের মত আচরণ করছে। বড় তিন দেশের বিভিন্ন নীতি পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্য ব্যাপারগুলোতেও ভারতকে উপেক্ষা করছে তারা। যেখানে আইসিসির ৭০ ভাগ আয় ভারত থেকেই আসে, সেখানে আমরা অর্থ বিষয়ক কমিটিতে থাকতে পারবনা কেন? আইসিসি কি রবিন হুড হয়ে গেছে? ধনীদের টাকা নিয়ে গরিবদের মাঝে বিতরণ করবে!”

    আগামী বছরে ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ১৩৫ মিলিয়ন ডলার। এই ব্যাপারেও ভারতের আপত্তির কথা শোনা যাচ্ছে। এই বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপের মোট বাজেট ছিল ৪৫ মিলিয়ন ডলার। ভারতের প্রশ্ন হচ্ছে, ১৯ দিনের টুর্নামেন্টে খেলা হবে ১৫ টি, কিন্তু বিশ্বকাপের চেয়ে ৩ গুন বাজেট কেন? যেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২৭ দিনে ৫৮টি খেলা হয়েছিল!

    ২০১৪ সালে ‘বিগ থ্রি’ ফর্মুলার প্রথম আলোর মুখ দেখে। এই নীতি অনুযায়ী আইসিসির আয়ের বড় একটা অংশ পাবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড বোর্ড। ২০১৫-২৩ সাল পর্যন্ত টিভি স্বত্ত্ব থেকে আয়ের ২২% পাওয়ার কথা বিসিসিআইয়ের। তবে কয়েক মাস আগে শশাঙ্ক মনোহর আইসিসির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই নীতির বিপক্ষে কথা উঠতে থাকে। তিনি আগের পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দেন, যেখানে ভারত ১৫% টাকা পাবে।

    বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট অনুরাগ ঠাকুর বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ভারত তার লাভের ব্যাপারে কোন ছাড় দেবে না। আইসিসি যদি ভারত থেকে বেশি টাকা আয় করে, তাহলে ভারত কেন ৯০০ কোটি রূপি হারাবে, এটাই অনুরাগের প্রশ্ন।

    যদিও এই ব্যাপারে হয়তো খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না বিসিসিআই। কারণ অন্য বোর্ডগুলো তাদের পাশে থাকবে না এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। মনোহরের আইসিসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যাপারে অন্য দেশগুলোর কোনো ভেটো না দেয়ার কারণ ছিল একটাই, মনোহর বড় তিন বোর্ডের নীতি পরিবর্তন করতে পারবেন। এছাড়া ভারতও দ্বি-স্তর টেস্ট নীতির বিরোধিতা করছে এখন। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা অনেক আগে থেকেই এই নীতির বিরুদ্ধে।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন