• আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৬
  • " />

     

    পরিবারের চার জনের জন্য ব্রাথওয়েটের ওই চার ছয়!

    ঘুম থেকে উঠেই বার্বাডোসের চেস্টারফিল্ড ব্রাথওয়েট ঠিক করে রেখেছিলেন, আজ আর কাজে যাবেন না। একটু পরে ছেলের খেলা আছে, সেটা তো আয়েশ করে দেখতে হবে! চেস্টারফিল্ডের মন বলছিল, আজকের দিনে ইতিহাস ঘটবে। কিন্তু সেটা যে ছেলের হাত ধরে আসবে, অতটা নিশ্চয় ভাবেননি!

    ইংল্যান্ডের সঙ্গে কার্লোস ব্রাথওয়েট যা করেছেন, এর পর তাঁকে নিয়ে পুরো ক্রিকেটবিশ্বেই এখন শোরগোল। মজার ব্যাপার, কার্লোসের বোন শ্যান্টেল জানাচ্ছেন, ওই চার ছক্কা আসলে তাঁর পরিবারের চার জনের জন্য!

    বাবা চেস্টারফিল্ড নিজেও ছিলেন ক্রিকেটার। ওই দিন শেষ ওভারের আগে মনে মনে বলছিলেন, আর যাই হোক, ছেলে যাতে সুইপ শট না খেলে। সোজা ব্যাটে খেললেই হয়ে যাবে, এ বিশ্বাস ছিল চেস্টারফিল্ডের। নিজেই জানাচ্ছেন,”আমি ওকে সবসময় সোজা ব্যাটে খেলতে বলতাম। ওর সাথে সুইপ নিয়ে প্রায়ই কথা হতো আমার। সে এটা ঠিক ভালো খেলত না। ভাগ্য ভালো, এদিন ও সুইপ খেলেনি, স্কুপ খেলেছে।”

    মা জোসেলিন অবশ্য অতশত বোঝেন না। ছেলে দলকে জিতিয়েছেন, এতেই তিনি খুশি। কিন্তু শেষ ওভারের আগে কেমন মনে হচ্ছিল। জোসেলিন জানাচ্ছেন, “আমি প্রথম ইনিংস দেখেছিলাম। ওদের প্রথম জন আউট হওয়ার পরেই আমি প্রার্থনা শুরু করে দিয়েছিলাম। ওর ওপর আমার ভরসা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে।”

     

    বোন শ্যান্টেল জানাচ্ছেন, ওই চার ছক্কা আসলে পরিবারের চার সদস্যের জন্য। আর ভাই যে এরকম কিছু করবেন, সেই বিশ্বাস আগেই ছিল, “আমি জানতাম ও কিছু করবে। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং আর বোলিং, দুইটিতেই সে করে দেখাল।”

     

    এই জয়ের অন্য একটা তাৎপর্যও আছে শ্যান্টেলের কাছে, “আমি আগের সপ্তাহেই বলেছিলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিনটি ট্রফি জিতলে আমরা কিছু দিনের জন্য হাঙ্গামা, খুনোখুনি দেখব না। কিছু সময়ের জন্য হলেও সবাই খুশি থাকবে, কোনো খারাপ কিছু হবে না।”

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন