• ইংল্যান্ডের ভারত সফর
  • " />

     

    এবার চেন্নাইয়ে ভারতের অন্য রূপ দেখলো ইংল্যান্ড

    এবার চেন্নাইয়ে ভারতের অন্য রূপ দেখলো ইংল্যান্ড    

    ২য় টেস্ট, চেন্নাই
    ভারত ১ম ইনিংস ৩২৯ (রোহিত ১৬১, রাহানে ৬৭, মইন ৪/১২৮, স্টোন ৩/৪৭) ও ২য় ইনিংস ২৮৬ (আশ্বিন ১০৬, কোহলি ৬২, মইন ৪/৯৮, লিচ ৪/১০০)
    ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস ১৩৪ (ফোকস ৪২, আশ্বিন ৫/৪৩, আক্সার ২/৪০, ইশান্ত ২/২২) ও ২য় ইনিংস ১৬৪ (মইন ৪৩, রুট ৩৩, আক্সার ৫/৬০, আশ্বিন ৩/৫৩) 
    ভারত ৩১৭ রানে জয়ী ও ৪ ম্যাচে সিরিজে ১-১-এ সমতা


    জো রুট ক্রিজে ট্যাপ করছেন, যে জায়গায় বলটা পড়েছিল। এরপর হাসছিলেন। আক্সার প্যাটেলের বলটা সামনে ঝুঁকে ডিফেন্ড করতে গিয়েছিলেন, তার আগেই আচমকা বাউন্সে গ্লাভড হয়ে স্লিপে ধরা পড়েছেন তিনি, হাসা আর উইকেট পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না তার। চেন্নাইয়ের ঘূর্ণি-উইকেটে ভারত স্পিনারদের দুর্দান্ত স্কিলের সামনে ইংল্যান্ড ছিল এমনই অসহায়। চতুর্থ দিন লাঞ্চের পরপরই গুটিয়ে গেছে তারা, ভারতের বিপক্ষে হেরেছে রানের হিসেবে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে। এ হার দিয়ে দেশের বাইরে টানা ৬ জয়ের ধারাতেও ছেদ পড়েছে তাদের। এ ভেন্যুতে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাজেভাবে হারা ভারত ঘুরে দাঁড়িয়েছে দুর্দান্তভাবে, কোভিড-১৯-এর পর মাঠে ফেরা দর্শকের সামনে। 

    চিপকে টস জয়ের পর থেকেই ইংল্যান্ডের ওপর দাপট দেখিয়েছে ভারত। প্রথম ইনিংসে রোহিত শর্মার দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর রবি আশ্বিনের বোলিং, দ্বিতীয় ইনিংসে আশ্বিনের সেঞ্চুরির পর অভিষিক্ত আক্সার প্যাটেলের ৫ উইকেট-- বিরাট কোহলির সন্তুষ্টির একগাদা কারণ আছে। মূলত প্রথম ইনিংসে অল্প রানে গুটিয়ে গিয়েই ভারতের কাছে অনেকখানি হেরে গিয়েছিল ইংল্যান্ড, বাকি ছিল শুধু তাদের দুর্দশা বাড়া। ২ ইনিংস মিলিয়েও ভারতের প্রথম ইনিংসের সমান রানই করতে পারেনি সফরকারিরা। এ উইকেটে শুধু কীভাবে ব্যাটিং করতে হয় তা নয়, বোলিংয়ের একটা ক্লাসও ইংল্যান্ডকে দিয়েছে ভারত। প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় পর টেস্ট দলে ফেরা মইন আলি ৮ উইকেট নিলেও ভারতকে থামাতে পারেননি তারা। 

    আগের টেস্ট থেকে চারটি পরিবর্তন নিয়ে নেমেছিল ইংল্যান্ড, তবে এবার কন্ডিশন ছিল পুরোই ভিন্ন। প্রথম দিন থেকেই টার্ন করেছে বল, তবে শুরুতেই রোহিতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ঠিক সুবিধা করতে পারেনি ইংল্যান্ড। রোহিতের সঙ্গে সে ইনিংসে রানের দেখা পেয়েছিলেন আজিঙ্কা রাহানে, ঋষভ পান্টও। এরপর ইংল্যান্ডকে স্পিন মাস্টারক্লাস দেখিয়েছেন আশ্বিন, ৪৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে ১৩৪ রানে গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকাটা ছিল তার। 

    চেন্নাইয়ের লোকাল বয়ের আরও দারুণ এক মুহুর্ত এসেছে তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে, পরিবারের সামনে নিজের ৫ম টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন তিনি। বিরাট কোহলির সঙ্গে তার ৭ম উইকেটে ৯৬ রানের জুটি বলতে গেলে শেষ পেরেকটা ঠুকেছিল ইংল্যান্ডের কফিনে। ৬২ রান করে কোহলি ফিরলেও আশ্বিন ছিলেন, শেষ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সিরাজকে সঙ্গে নিয়ে গেছেন তিন অঙ্কে। 

    তৃতীয় দিনই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড, তার দুটি নিয়েছিলেন আশ্বিন। একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট- ইয়ান বোথাম, ইমরান খান ও সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ডারের অভিজাত ক্লাবে ঢোকা হাতছানি দিচ্ছিল আশ্বিনকে। তবে চতুর্থ দিন বেন স্টোকস ছাড়া আর কারও উইকেট পাননি তিনি। 

    প্রথম ইনিংসে একটু লড়াই করা বেন ফোকস এদিন ফিরে গেছেন দ্রুতই, কিছুক্ষণ সংগ্রাম করেও শেষ পর্যন্ত থাকা হয়নি রুটের। শেষদিকে ৩ চার ও ৫ ছয়ে একটু ঝড় তুলেছিলেন মইন, টেস্টের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও হাতছানি দিচ্ছিল তাকে। তবে ১৮ বলে ৪৩ রান করেই ফিরতে হয়েছে তাকে, কুলদিপ যাদবের বলে স্টাম্পড হয়ে। চেন্নাইয়ের এ উইকেট শুধু ব্যাটসম্যান-বোলারদের নয়, চরম পরীক্ষা নিয়েছে উইকেটকিপারদেরও। তবে ফোকস ও পান্ট- দুজনই ছিলেন দুর্দান্ত। 

    অবশ্য ২৪ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টের আগে- যা দিবা-রাত্রির- রুটের জন্য ফোকসের উইকেটকিপিং ছাড়াও লাগবে আরও ইতিবাচক কোনও প্রেরণা। তবে চেন্নাইয়ের এমন পারফরম্যান্সের পর অবশ্য কোহলির ক্ষেত্রে সেসব কিছুর অভাব হবে না। 


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন