• বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর ২০২১
  • " />

     

    বোল্ট-বিষের পর গাপটিল-ধ্বংসযজ্ঞ, ডানেডিনে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

    বোল্ট-বিষের পর গাপটিল-ধ্বংসযজ্ঞ, ডানেডিনে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ    

    ১ম ওয়ানডে, ডানেডিন
    টস- নিউজিল্যান্ড
    বাংলাদেশ ১৩১ অল-আউট, ৪১.৫ ওভার (মাহমুদউল্লাহ ২৭, মুশফিক ২৩, বোল্ট ৪/২৭, নিশাম ২/২৭, স্যান্টনার ২/২৩) 
    নিউজিল্যান্ড ১৩২/২, ২১.২ ওভার (নিকোলস ৪৯*, গাপটিল ৩৮, তাসকিন ১/২৩, হাসান ১/৪৯) 
    নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী ও সিরিজে ১-০তে এগিয়ে 


    সিরিজের আগে পেস আক্রমণ নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল, হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে রস টেইলরের না থাকাটা একটু বাড়তি উজ্জীবিত করবে তাদের, সুর ছিল এমনও। সঙ্গে ছিল প্রস্তুতি, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস। তবে সেসব উড়ে যেতে সময় লাগলো না খুব একটা। ডানেডিনের প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটসম্যানরা হাজির হলেন ভিনগ্রহের কন্ডিশনেই, ট্রেন্ট বোল্ট আর তার সহকারিদের তোপে ভড়কে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ১৩১ রানে গুটিয়ে গেলেন তারা। মার্টিন গাপটিলের ধ্বংসযজ্ঞে এরপর উবে গেল পেস নিয়ে রোমাঞ্চও, অবশ্য তাসকিন আহমেদের বোলিং হয়তো এতকিছুর ভীড়ে একটু ইতিবাচক কিছু হয়ে ধরা দিতে পারে বাংলাদেশের কাছে। তাতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের না জেতার রেকর্ডে কিছু যায় আসেনি, হেনরি নিকোলসের অপরাজিত ৪৯ রানে প্রথম ম্যাচে বড় জয় নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড।

    টসে জিতে ফিল্ডিং নিতে ভুল করেননি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম, কন্ডিশন ছিল তেমনই। প্রথম বল থেকেই মিলেছিল সুইংয়ের আভাস, ফুললেংথের বলটা বলতে গেলে তামিমের জন্য ছিল আন-প্লেয়েবল। তৃতীয় বলে নিশামের শর্ট বলে আপার কাট করে ডিপ পয়েন্টের ওপর দিয়ে ছয় মারলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, কী রোমাঞ্চেরই না আভাস দিল সেটি! তবে সে পর্যন্তই, অন্তত প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের জন্য খুব বেশি রোমাঞ্চ ছিল না এরপর। ট্রেন্ট বোল্টের ৪ উইকেট বাংলাদেশের ১৩১ রানের ইনিংসের হাইলাইটস, তবে অন্য সব বোলারই রেখেছেন ভূমিকা। কোনো জুটিই পেরোয়নি ২৭ রানের বেশি, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোরটা তাই এরপর শোনাবে অবধারিতই! 

    শুরুতে তামিমকে দারুণ সেট-আপে ফিরিয়েছিলেন বোল্ট, ক্রমাগত অ্যাওয়ে সুইংয়ের পর একটু ফুলার লেংথ থেকে নিপড-ব্যাক ডেলিভারিতে তামিমকে স্থির রেখে ফেলেছেন এলবিডব্লিউর ফাঁদে, রিভিউ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি তামিম। দুই বল পর আবারও টপ অর্ডারে উঠে আসা সৌম্য সরকার ফিরেছেন আলগা ডিসমিসালে, শর্ট বলে আপার কাট করতে গিয়ে ক্যাচ তুলেছেন শর্ট কাভারে। প্রথম পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশ তুলেছিল ২ উইকেটে ৩৩। 

    লিটন দাস অফ দ্য মার্কে গিয়েছিলেন ৫ম বলে, এরপর জীবন পেয়েছিলেন প্রথম স্লিপে ড্যারিল মিচেলের হাতে, যদিও তাতে ডানদিকে ডাইভ দিয়ে চেষ্টা করা ল্যাথামের একটা ‘হাত’ ছিল। এরপর কাইল জেমিসনের প্রথম বলে মেরেছিলেন চার। তবে তার ইনিংসের ঘটনা বেশিদূর এগোয়নি আর, জিমি নিশামের ক্রস-সিম ডেলিভারিতে অন সাইডে খেলতে গিয়ে মিড-অনে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন তিনি। মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন এরপর টিকে থাকার চেষ্টা করেছেন, নিশামের পরপর দুই ওভারে মুশফিকের দুই বাউন্ডারি একটু স্বস্তিও দিচ্ছিল তাদের যেন। তবে আগের ওভারে অফস্টাম্পের বাইরের বলে কাট করে চার মারার পর আবারও শরীরঘেঁষা বলে একই শট খেলতে গিয়ে বিপত্তি ডেকে আনলেন মুশফিক-- গালিতে দিলেন ক্যাচ। 
     


    এক ওভার পর সেই নিশামের হাত ধরেই সমস্যা আরও বাড়লো বাংলাদেশের। মাহমুদউল্লাহর স্ট্রেইট ড্রাইভটা হলো বেশিই স্ট্রেইট, গিয়ে লাগলো নন-স্ট্রাইক প্রান্তে, তবে এর আগে ফলো-থ্রুতে বেসামাল হওয়ার আগে ঠিকই তাতে আঙুল ছুঁয়ে মিঠুনের শেষ্টা করলেন নিশাম। ৭২ রানে ফিরে গেছেন অর্ধেক ব্যাটসম্যান। মেহেদি হাসান মিরাজ এরপর স্যান্টনারের বলে রাউন্ড দ্য লেগে বোল্ড হয়েছেন, মাহমুদউল্লাহকে তেমন সঙ্গ দেওয়ার আগেই। 

    অভিষিক্ত মাহাদি হাসান নেমে মুখোমুখি দ্বিতীয় বলে-- নিজের প্রথম স্কোরিং শটে-- মেরেছিলেন ছয়, ওই একেবারে শুরুতে তামিমের ওই ছয়ের পর ইউনিভার্সিটি ওভালের হাউজফুল দর্শকের জন্য আরেকটু বিনোদন অন্তত ব্যাটিংয়ের দিক দিয়ে ছিল যেন সেটিই। অবশ্য মাহাদির সঙ্গে দ্বৈরথটা শেষ পর্যন্ত জিতেছেন স্যান্টনারই, তাকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলেছেন মাহাদি। 

    সে অর্থে তাসকিন মাহমুদউল্লাহকে একটু সঙ্গ দিয়েছেন এরপর, তবে এবার ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহই। নিজের চতুর্থ ধীরতম (এতো রানে এতো বেশি বলের হিসেবে) ইনিংসের পর তিনি ম্যাট হেনরিকে টেনে মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন শর্ট-মিডউইকেটে লাফিয়ে ওঠা স্যান্টনারের হাতে। নিউজিল্যান্ড এরপর আর বেশি সময় নেয়নি। ল্যাথাম এনেছেন বোল্টকে, তার বলে হাসান মাহমুদ হারিয়েছেন অফস্টাম্পের চূড়া, তাসকিন তুলেছেন ক্যাচ। বাংলাদেশও থেমেছে ইনিংসের ৫১ বল বাকি থাকতেই।  

    এরপর গাপটিল ফিরিয়ে এনেছিলেন ২০০৭ সালের কুইন্সটাউনের স্মৃতি, যেবার বাংলাদেশের ৯৩ রান নিউজিল্যান্ড পেরিয়ে গিয়েছিল ৬ ওভারেই। ইনিংসের চতুর্থ বলে মোস্তাফিজকে ফুললেংথ থেকে টেনে লন-অন দিয়ে চার মেরেছিলেন, পরের বলে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে ছয়-- মার্টিন গাপটিলের ধ্বংসযজ্ঞের সেই শুরু। দেখে মনে হচ্ছিল ডানেডিনের শনিবারের রাতটা পুরোদমে উপভোগ করবেন বা সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেবেন বলে কাজ সারবেন আগেভাগেই। ১৭ বলে করে ফেললেন ৩৮ রান, নিউজিল্যান্ডের ফিফটি হয়ে গেল ৫ ওভারেই। তাসকিন এসে থামিয়েছেন সে ধ্বংসযজ্ঞ। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলটা লিভ করেছিলেন, পরের বলে বড় শটের চেষ্টায় হয়েছেন এজড, নিকোলসের সঙ্গে কথা বলে রিভিউ নিলেও কাজে আসেনি সেটা। 

    এরপর রানের গতি একটু কমে এসেছে, তবে হেনরি নিকোলসের দারুণ ব্যাটিং নিউজিল্যান্ডকে রেখছে ঠিক পথেই। অভিষিক্ত ডেভন কনওয়েকে নিয়ে ৬৫ রানের জুটি তার, শেষদিকে এসে হাসান মাহমুদকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে খেলতে গিয়ে বেসামাল কনওয়ে ছুঁড়ে এসেছেন উইকেট, ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে। আরেক অভিষিক্ত উইল ইয়াং দুই চারে শেষ করেছেন ম্যাচ, আরেকদিকে ৪৯ রানে অপরাজিত থেকেছেন নিকোলস। তবে এমন দলীয় পারফরম্যান্সের দিনে ওই ১ রানের দুঃখ পেতে বয়েই গেছে যেন তার। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড ঠিকই গড়েছে নিজেদের দ্বিতীয় দ্রুততম রানতাড়ার রেকর্ড।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন