• বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর ২০২১
  • " />

     

    বোলিং, ফিল্ডিং, ব্যাটিং- ১০ ওভারের লড়াইয়েও তিন ডিপার্টমেন্টেই উড়ে গেল বাংলাদেশ

    বোলিং, ফিল্ডিং, ব্যাটিং- ১০ ওভারের লড়াইয়েও তিন ডিপার্টমেন্টেই উড়ে গেল বাংলাদেশ    

    ৩য় টি-টোয়েন্টি, অকল্যান্ড
    টস- বাংলাদেশ/ফিল্ডিং
    নিউজিল্যান্ড ১৪১/৩, ১০ (১০) ওভার (অ্যালেন ৭১, গাপটিল ৪৪, ফিলিপস ১৪, তাসকিন ১/২৪, শরিফুল ১/২১, মাহাদি ১/৩৪
    বাংলাদেশ ৭৬ অল-আউট, ৯.৩ (১০) ওভার (অ্যাস্টল ৪/১৩, সাউদি ৩/১৫, ফার্গুসন ১/১৩) 
    নিউজিল্যান্ড ৬৫ রানে জয়ী 


    ডানেডিনে যে দুঃস্বপ্ন দিয়ে শুরু হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর, অকল্যান্ডের চরম একপেশে লড়াইয়ে শেষ হলো সেটি। ইডেন পার্কে বৃষ্টি খেলা নামিয়ে এনেছিল ১০ ওভারে, মার্টিন গাপটিলের ১৯ বলে ৪৪, ফিন অ্যালেনের ২৯ বলে ৭১ রানের ঝড়ের সঙ্গে বাংলাদেশের পিচ্ছিল ফিল্ডিংয়ে ১০ ওভারের রেকর্ড ১৪১ রান তোলার পর বোলারদের সমন্বিত পারফরম্যান্সে উড়ে গেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০ ওভারের নিচে অল-আউট হয়ে যাওয়া মাত্র দ্বিতীয় দল হয়েছে বাংলাদেশ, তালিকার প্রথম নামটা তুরস্ক। 

    এ ম্যাচের আগে সৌম্য সরকার বলেছিলেন, জিততে হলে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-- তিন বিভাগেই ভাল করতে হবে। অকল্যান্ডে বাংলাদেশ গুবলেট পাকালো তিন ডিপার্টমেন্টেই। টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে গাপটিল-অ্যালেনদের হিটিংয়ে দিশেহারা মনে হলো বোলিং আক্রমণ, ফিল্ডিংয়ে এ সফরের ধারাবাহিক পিচ্ছিল ভাব বজায় রেখেছে তারা, আর এ দুইয়ের পর ব্যাটিং-ও চাপা পড়েছে ব্যর্থতার ভারে। 

    আর নিউজিল্যান্ড করেছে ঠিক উলটো। ইডেন পার্কের অদ্ভুত গড়নের মাঠে ব্যাটিংয়ে থেকেছে তারা নির্দয় আক্রমণাত্মক। বোলিংয়ে পেসের বৈচিত্র, নাকল বল, লাইন-লেংথ সবকিছুই ছিল দারুণ, সিরিজে প্রথমবার খেলতে নামা লেগস্পিনার টড অ্যাস্টল ২ ওভারেই নিয়েছেন ৪ উইকেট, অধিনায়ক টিম সাউদি নিয়েছেন ৩টি। ফিল্ডিংয়ে সুযোগ হাতছাড়া করেনি তারা, উইকেটের সামনে-পেছনে দারুণ পারফরম্যান্স অসাধারণ এক গ্রীষ্মেরই ‘পারফেক্ট’ ইতি টেনেছে তাদের। 

    টসে জিতে এদিন ফিল্ডিং নিয়েছিলেন চোটের কারণে বাইরে থাকা মাহমুদউল্লাহর বদলে অধিনায়কত্ব করতে নামা লিটন দাস। ইনিংসের তৃতীয় বলে নাসুমের হাফ-ট্র্যাকারে ছয় মেরে ঝড় শুরু করেছিলেন গাপটিল, পাওয়ারপ্লের ৩ ওভারেই অ্যালেনের সঙ্গে তিনি তুলেছিলেন ৪৫ রান। ৪র্থ ওভারে অ্যালেন সুযোগ দিয়েছিলেন দুইবার, তবে আকাশে তোলা বল হাত গলে বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ ফিল্ডারদের। ৬ষ্ঠ ওভারে গিয়ে সে জুটি ভেঙেছেন মাহাদি, ওয়াইড, লো ফুলটসে এক্সট্রা কাভারে ক্যাচ তুলেছেন গাপটিল। এর আগে টানা দুই ছয়ের পর চার মেরেছিলেন তিনি, ফলে ফিরলেও ক্ষতটা রেখেই গেছেন বাংলাদেশের ওপর। 

    ডেভন কনওয়ের বদলে গ্লেন ফিলিপসকে পাঠিয়েছিল নিউজিল্যান্ড, অ্যালেনকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তিনি। অ্যালেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পেয়েছেন ১৮ বলে, নিউজিল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অবশ্য ফিফটির পর আরেকটি সুযোগ দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ হাতছাড়া করেছে সেটিও। 

    ৯ম ওভারে এসে শরিফুল ফিরিয়েছেন ফিলিপসকে, এর আগে আগের ম্যাচের ম্যাচসেরা ফিলিপস করেছেন ৬ বলে ১৪। শরিফুলের সে ওভারে এসেছে ৯ রান, ইনিংসে প্রথম ওভারের সঙ্গে যা যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। অ্যালেনকে থামাতে অবশ্য শেষ ওভার পর্যন্ত যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে, তাসকিনের স্লোয়ারে র‍্যাম্প শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ততক্ষণে রেকর্ড হয়ে গেছে নিউজিল্যান্ডের। ইনিংসে ১২টি চারের সঙ্গে ১০টি ছয় মেরেছে তারা। ১০ বা এর কম ওভারে নিউজিল্যান্ডের ১৪১ রানই এখন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ। 

    কার্যত প্রথম ইনিংসেই ম্যাচ থেকে অনেকখানি ছিটকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে হারানোর কিছু নেই-- এই মন্ত্রে ভর করে মিরাকলের স্বপ্ন যদি থেকে থাকে, প্রথম ৪ ওভারের মাঝে ৪ উইকেট হারানোর পর শেষ হয়ে গেছে তা। সৌম্য সরকার দুই চারের পর সাউদির নাকল বলে ইনসাইড-এজের পর সামনে ডাইভ দিয়ে ধরা দারুণ ফিরতি ক্যাচে পরিণত হয়েছেন, স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক মেরেছেন অধিনায়ক লিটন। 

    এরপর নাইম শেখ, শান্ত অ্যাস্টলের শিকার-- প্রথমজন ক্যাচ দিয়েছেন, পরেরজন হয়েছেন বোল্ড। লেগস্পিনে দারুণ ভ্যারিয়েশন ছিল অ্যাস্টলের। একবার অল্পর জন্য বেঁচে যাওয়া আফিফ হোসেন ঠিকই হয়েছেন স্টাম্পড, মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন মাহাদি। মূলত তখন থেকেই প্রশ্ন ছিল, ১০ ওভার খেলতে পারবে কিনা বাংলাদেশ। সেটি করার খুব একটা চেষ্টা করেনও নি তারা, সাউদির হ্যাটট্রিক বল আটকালেও পরের বলেই ফিরেছেন মোসাদ্দেক। এর আগে তাসকিন ও শরিফুল যথাক্রমে বোল্ড হয়েছেন লকি ফার্গুসন ও অ্যাডাম মিলনর বলে। এরপর নাসুম ক্যাচ দিয়েছেন ফিলিপসের বলে। ৯.৩ ওভারে বাংলাদেশ বাউন্ডারি মেরেছে ১০টি-- ৫টি করে চার ও ছয়। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে যে সংখ্যা ছিল ১২ ও ১০। 

    এদিন বাংলাদেশ শুধু বাউন্ডারি সংখ্যায় নয়, গণনাযোগ্য কিংবা গণনার বাইরে সব কিছুতেই ছিল যোজন ব্যবধানে পিছিয়ে।   
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন