• বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর ২০২১
  • " />

     

    নেট সেশন: শেষে এসে কী- হতাশার পুনরাবৃত্তি, সান্ত্বনা নাকি বৃষ্টি-বাগড়া?

    নেট সেশন: শেষে এসে কী- হতাশার পুনরাবৃত্তি, সান্ত্বনা নাকি বৃষ্টি-বাগড়া?    

    বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর, ২০২১
    ৩য় টি-টোয়েন্টি

    কবে, কখন
    ১ এপ্রিল 
    বাংলাদেশ সময় ১২টা (১২০০)


    হয়তো ব্যাপারটাকে আপনি এভাবে দেখতে পারেন-- সয়ে গেছে। হয়তো দেখতে পারেন এভাবে-- সব হারিয়ে ফেলার পর নতুন করে হারানোর কিছু নেই। হয়তো ব্যাপারটাকে আপনি দেখতে পারেন এভাবেও-- অন্তত একটা জয় যদি আসে। এই শেষের দুই ব্যাপার আশা জোগাবে, এবং সেটিই কার্যত রূপ নিতে পারে হতাশায়। ব্যাপারটা যখন বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর, তখন জয়শূন্য থাকাটা সয়েও যেতে পারে। অবশ্য আপনার সয়ে গেলেও পেশাদার এবং এতো বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকা বাংলাদেশের তেমন হওয়া উচিৎ নয়। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও এক ম্যাচ বাকি থাকতে হেরে যাওয়ার পর আপনার হারানোর কিছু নেই-- এটা শেষ পর্যন্ত হতে পারে ইতিবাচক। এমন সফরে অন্তত একটা জয় সান্ত্বনাও হতে পারে। 

    অকল্যান্ডে শেষ টি-টোয়েন্টির আগে চিত্রটা হয়তো এমনই। শুধু সীমিত ওভারের সিরিজ হলেও কোয়ারেন্টিন-সংক্রান্ত কারণে সফরটা বাংলাদেশের জন্য লম্বাই। সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ হেড কোচ, অধিনায়ক যতো রোমাঞ্চিত বা আশাবাদিই হোন না কেন, ৫ ম্যাচ পরও লড়াইটা একপেশেই। ওয়ানডে সিরিজে ডানেডিন-দুঃস্বপ্ন ভুলে ক্রাইস্টচার্চে লড়াই করলেও সেটি শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছে হতাশায়। এরপর ওয়েলিংটনে আবারও বিধ্বস্ত হয়েছে তারা। টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হ্যামিল্টনে প্রথম ম্যাচে উড়ে যাওয়ার পর নেপিয়ারে একটু লড়াই, শেষ পর্যন্ত হারই।

    সুযোগ পেয়েও হারানো, শরীরি ভাষায় দুই দলের পার্থক্য, পরিকল্পনায় পিছিয়ে থাকা, মাঠে মোমেন্টাম খুব সহজেই হারিয়ে ফেলা- নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য শুধু স্পষ্টই হয়ে উঠেছে। এখানে-ওখানে ইতিবাচক দিক খুঁজে ফিরতে হচ্ছে তাই। শেষ ম্যাচে নাসুম আহমেদের বোলিংয়ের পর সৌম্য সরকারের ব্যাটিং তেমন দিক। তবে অবশ্যই ম্যাচ জিততে সেসব যথেষ্ট নয়। অবশ্যই ২০ বছরের জয়খরা কাটানোর জন্য যথেষ্ট নয় সেসব। 

    নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপারটা উলটো। সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছরে বেঞ্চের শক্তি তাদের জন্য দারুণ ইতিবাচক দিক, বাংলাদেশের সঙ্গে চাপে পড়েও সেখান থেকে বেশ ভালভাবে ঘুরে দাঁড়ানোও বাড়তি প্রাপ্তি নিশ্চয়ই তাদের। ঘরের মাঠের দুর্দান্ত রেকর্ডকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তাদের সামনে, ঘরোয়া গ্রীষ্মের পারফেক্ট শেষের সুযোগও। 

    অবশ্য বাগড়া বাধাতে পারে অকল্যান্ডের বেয়ারা আবহাওয়া। ম্যাচের পুরোটা সময়ই পূর্বাভাসে আছে ঝড়ো বৃষ্টির সম্ভাবনা। নেপিয়ারে বৃষ্টি, ডিএলএস নাটকে ম্যাচের চেহারা হয়েছিল ভিন্ন, অকল্যান্ডে ভেস্তে যেতে পারে লড়াই-ই। 


    রঙ্গমঞ্চ
    ইডেন পার্ক, অকল্যান্ড

    অকল্যান্ডের এ মাঠের আকার একটু অদ্ভুত, স্ট্রেইট বাউন্ডারি বেশ ছোট। ফিল্ড-সেটিং থেকে শুরু করে ব্যাটসম্যান বা বোলারদের মানিয়ে নেওয়ার আলাদা একটা ব্যাপার সবসময়ই থাকে এই মাঠের সঙ্গে। এ মাঠে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত খেলেছে একবারই। ২০০৭ সালের সেই ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাটিং করে ২০১ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড জিতেছিল ৬ উইকেটে। 

    টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ইনিংসে এ ভেন্যুতে গড় স্কোর ১৬৯, তবে জেতা ম্যাচে সেটি ১৮৯। 

    যাদের ওপর চোখ

    নাসুম আহমেদ

    অভিষেক থেকে দুই ম্যাচেই বোলিং ওপেন করেছেন, বেশ আঁটসাঁট বোলিং-ও করেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এ সিরিজে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিবাচক দিকগুলির একটি তিনি।  

    মার্টিন গাপটিল

    ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি-- মার্টিন গাপটিল ভাল শুরু করেছেন প্রায় প্রতি ইনিংসেই, তবে সে অর্থে বড় করতে পারেননি ইনিংস। টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসও এই মাঠেই নিউজিল্যান্ড ওপেনারের। ঘরের মাঠে জ্বলে উঠতে পারবেন গাপটিল? 

    সম্ভাব্য একাদশ

    যে ২০ জনের স্কোয়াড নিয়ে নিউজিল্যান্ড গিয়েছে বাংলাদেশ, এ সফরে এখনও ম্যাচ খেলেননি তিনজন-- নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন ও আল-আমিন হোসেন। শান্তকে টি-টোয়েন্টিতে বিবেচনা করার সম্ভাবনা কম, তবে বাকি দুজনের সুযোগ মিলতেও পারে। মুশফিকুর রহিমের দলে আসা তার ফিট থাকার ওপর নির্ভর করছে।

    বাংলাদেশ 

    লিটন দাস (উই), নাইম শেখ, সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মাহমুদউল্লাহ (অ), মোহাম্মদ মিঠুন, মাহাদি হাসান/মেহেদি হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন, আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাসুম আহমেদ 

    নিউজিল্যান্ড

    মার্টিন গাপটিল, ফিন অ্যালেন, ডেভন কনওয়ে (উই), গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চাপম্যান, উইল ইয়াং, ড্যারিল মিচেল, টিম সাউদি (অ), ইশ সোধি, অ্যাডাম মিলন, হামিশ বেনেট

    সংখ্যার খেলা 

    • ২০১৮ সালে ইডেন পার্কে নিউজিল্যান্ডের ২৪৩ রান তাড়া করে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া, এখনও টি-টোয়েন্টিতে যা সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড। 

    জয়ের জন্য তিন ফরম্যাটেই ভাল করতে হবে আমাদের।

    সৌম্য সরকার, বাংলাদেশ


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন