• পাকিস্তানের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর
  • " />

     

    ডি ককের 'ফেক ফিল্ডিং': ক্রিকেটের আইন কী বলে?

    ডি ককের 'ফেক ফিল্ডিং': ক্রিকেটের আইন কী বলে?    

    ঘটনাটা কাল দেখেছেন অনেকেই। দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৪১ তাড়া করে পাকিস্তানের হয়ে অবিশ্বাস্য একটা ইনিংস খেলে ফেলেছেন ফাখার জামান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, রানআউট হয়েছেন ১৯৩ রানে। তবে প্রশ্ন উঠেছে তার আউট নিয়ে। কুইন্টন ডি কক ফাখার জামানকে আউট করার সময় যে কাজটা করেছেন, সেটা ক্রিকেটীয় চেতনার কতটা পক্ষে সেই প্রশ্ন উঠেছে। চাইলে সেটাকে চালাকি বা কৌশলও বলা যায়। কিন্তু আসল প্রশ্নটা হচ্ছে, ক্রিকেটের আইন কী বলে? ডি ককের কি তাহলে শাস্তি পাওয়া উচিত ছিল? 

    কী ঘটেছিল ম্যাচে?

    ঘটনাটা ঘটেছিল ম্যাচের একদম শেষ ওভারের প্রথম বলে, যখন পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৬ বলে ৩১ রান। দ্বিতীয় রান দেওয়ার সময় দৌড় দিয়েছিলেন ফাখার, ডি কক অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে এমন ভান করেছিলেন যেন বলটা ফাখারের পেছনেই আছে। ফাখার সেটা দেখে একটু স্লথ হয়ে পেছনের দিকে তাকালেন। কিন্তু অন্য দিক থেকে মার্করামের থ্রো এসে ততক্ষণে ভেঙে দিয়েছে স্টাম্প। ফাখার হতাশায় মাঠ ছাড়লেন, ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়া হলো না তার। রান তাড়ায় ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস বিফলে গেল, শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা হেরে গেল পাকিস্তান। 

    ডি কক কি আইন ভেঙেছেন? 

    ডি ককের ওই আউটের পর সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই সমালোচনা করেছেন এই কাজের। শোয়েব আখতার যেমন বলেছেন, ক্রিকেটের চেতনার পরিপন্থী হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে তার প্রশ্ন আছে। কেউ কেউ বলেছেন, ডি কক কাজটা না করলেও পারতেন। তবে ক্রিকেটের আইন নিয়ে যারা কাজ করে, সেই এমসিসি একটা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছে। ক্রিকেটের ৪১.৫.১ এর ধারায় বলা আছে, ব্যাটসম্যানকে যে কোনোভাবে বিভ্রান্ত করা, বাধা দেওয়া বা ধোঁকা দেওয়া নিয়মের পরিপনহী। ব্যাটসম্যান বিভ্রান্ত হচ্ছে কি না সেটার পরের ব্যাপার, তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে কি না সেটাই বড় ব্যাপার। তবে সেই সিদ্ধান্ত মাঠের দুই আম্পায়ারের, তারাই ঠিক করবেন কাজটা হয়েছে কি না। কিন্তু কাল দুই আম্পায়ার এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

    ডি কক দোষী হলে কী হতো?

    যদি ডি কক দোষী হতেন, পাকিস্তান ওই দুই রান তো পেতই, সঙ্গে পাঁচ রান পেনাল্টি হতো ডি ককের। তার মানে মোট পেত সাত রান। সঙ্গে বলটাও ডেড হতো। তার মানে ৬ বল ৩১ রান থেকে পাকিস্তানের ইকুয়েশন দাঁড়াত ৬ বলে ২৪ রান। 

    পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা কী বলছে? 

    দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক টেন্ডা বাভুমা ডি ককের 'চালাকি'-র প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি মনে করেন না তার সতীর্থ কোনো আইন ভেঙেছেন। অন্যদিকে ফাখার জামানও বলছেন, দায়টা তারই ছিল, 'আমি আসলে হারিসকে দেখতে ব্যস্ত ছিলাম, কারণ আমি ভেবেছি সে একটু দেরিতে দৌড় শুরু করেছে। দোষ আমার ছিল, আমার মনে হয় না ডি কক কোনো দোষ করেছে।'

    এমন কী আগে ঘটেছে? 

    ফেক ফিল্ডিং এর ঘটনা ক্রিকেটে নতুন নয়। সাঙ্গাকারার ফেক ফিল্ডিংয়ের একটা ভিডিও অনেকেই দেখেছেন। চার বছর আগে প্রথম এই আইন পাশ করে আইসিসি। যুক্তিটা ছিল, ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করা হলে সেটা রান কম থেকে শুরু করে ম্যাচের ওপর প্রভাব ফেলবে। এর প্রথম শাস্তি পেয়েছিলেন কুইন্সল্যান্ডের ম্যাচে মার্নাস লাবুশেন। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন