• আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৬
  • " />

     

    ২২ গজের সেলুলয়েড : অদ্ভুতুড়ে

    অদ্ভুতুড়ে : কোহলি সংস্করণ

    কোহলির রান তখন এক। ব্রাভোর স্লোয়ারটা মিস করলেন, বল গেল রামদিনের হাতে। কোহলি রান চুরি করতে গেলেন, রামদিন থ্রো করলেন। বল মিস করে স্ট্যাম্প। বেঁচে গেলেন কোহলি। এপাশে দাঁড়ানো রাহানে ততক্ষণে কোহলিকে ফেরত পাঠিয়েছেন। রামদিনের স্ট্যাম্প মিস করা থ্রো এসে জমলো ব্রাভোর হাতে। ব্রাভো থ্রো করলেন। রামদিনের থ্রো মিস করেছিল অফস্ট্যাম্প, ব্রাভোরটা নিশ্বাস ফেলে গেলো লেগস্ট্যাম্পে। কোহলি বাঁচলেন, আবারও!

    পরের বলটা কোহলি খেললেন ডিপ স্কয়ার লেগে। দ্বিতীয় রানটা আবার ‘চুরি’ করতে গেলেন, শেষ মুহুর্তে ডাইভ দিতে হলো বাঁচার জন্য। রামদিন থ্রোটা হাতে জমাতে পারলেন না, কোহলি দুই বলের মাঝেই বাঁচলেন তৃতীয়বারের মতো!

     

    কোহলিভাগ্য

    কোহলির রান ততক্ষণে ৫৫ হয়ে গেছে। লং-অনে উড়িয়ে খেললেন। কার্লোস ব্রাথওয়েট ক্যাচ নেবেন না বাউন্ডারি আটকাবেন, কিছুক্ষণ ভুগলেন সে সিদ্ধান্তহীনতায়। শেষ পর্যন্ত পারলেন না কিছুই, বল তাঁর একটু সামনে পড়ে ফাঁকি দিল তাঁকে, হলো চার। কোহলি বাঁচলেন আরেকবার!

    শেষ ওভারে মিস-টাইমড হলো একটা শট, ক্যাচ গেল সিমন্সের হাতে। কোহলিকে আউট না করার ‘পণ’ যেন করেছিল এদিন ক্যারিবীয়রা, সে ‘পণ’ মেনেই সিমন্সও ছাড়লেন ক্যাচ! কোহলি আউট হলেন না সেবারও, টিকে রইলেন শেষ ওভারে বাকী অংশটুকুও!

     

    কোহলি-ভাগ্য : বোলার সংস্করণ

    শেষবার টি-টোয়েন্টিতে বল করেছিলেন ২০১৩ সালের অক্টোবরে। ৪৩তম ম্যাচে ১২তম বারের মতো বল হাতে নিলেন। এই বিশ্বকাপে নিলেন প্রথমবারের মতো। আসলেন, প্রথম বলেই আউট করলেন জনসন চার্লসকে! বিরাট কোহলি, ভাগ্যদেবীকে যেন নেমেছিলেন সঙ্গে করেই!

     

    অদ্ভুতুড়ে : সিমন্স সংস্করণ

    অশ্বিনের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন শর্ট থার্ডম্যানে। বুমরাহ ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ নিলেন। সিমন্স আউট। নাহ্‌, পরে দেখা গেল, অশ্বিনের পা ছিল পপিং ক্রিজের বাইরে! সিমন্স আউট হলেন না। ‘হঠাৎ পাওয়া’ ফ্রি হিটে অবশ্য ব্যাটই লাগাতে পারলেন না! সিমন্সের রান তখন ১৮।

    সিমন্সের রান যখন ১৮ থেকে বেড়ে ৫০ হলো, পান্ডিয়ার ফুলটসটা খেলতে পারলেন না ঠিকমতো। ক্যাচ নিলেন সেই ‘হতভাগা’ অশ্বিন। তবে সিমন্স আউট হলেন না এবারও, অশ্বিনের মতো পান্ডিয়াও যে করেছিলেন নো বল! এই ফ্রি হিটে অবশ্য ঠিকই ছয় মারলেন সিমন্স!

     

    সিমন্সভাগ্য

    পরপর তিন বল ডট। সিমন্স চাপে। বুমরাহর পরের বলটা স্লগ করলেন, লং অনে গেল বল। জাদেজা দৌড়ে গিয়ে ধরলেন, ভার সামলাতে পারলেন না ঠিক। বাউন্ডারি পার হয়ে যাওয়ার আগে ছুঁড়ে দিয়ে গেলেন বল, ধরলেন কোহলি! সিমন্স কি এবার আউট হলেন? নাহ্‌, জাদেজার পা যে ছুঁয়েছিল সীমানারেখা! সিমন্স বাঁচলেন, আরও একবার!  

     

    কোহলি যখন নায়ক নন!

    ১৯৯৪ সাল। ইডেন গার্ডেনস, কলকাতা। হিরো কাপের সেমিফাইনাল। শেষ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ছয় রান, হাতে তিন উইকেট। মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন বল দিলেন শচীন টেন্ডুলকারকে, তার আগে ওই ম্যাচে বলই করেননি তিনি! শচীন এলেন, রান দিলেন তিন। দুই ব্যাটসম্যান রানআউট হলেন, দুই রানে ম্যাচ জিতলো ভারত। ওয়াংখেড়েতে কোহলিও হয়তো হতে চাইলেন টেন্ডুলকার, অথবা ধোনী হতে চাইলেন আজহারউদ্দীন! হলো কই! ২ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের ইডেনে ফাইনাল খেলা হলো না, কোহলিরও শচীনের ঘরে হয়ে ওঠা হলো না আরেক শচীন! অন্তত আজ রাতের জন্য!

     

    সেই ইংল্যান্ড, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    আগের দিন ইংল্যান্ড মহিলা দল হেরেছিল সেমিফাইনালে, জিতেছিল পুরুষ দল। আজ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তারপর গেল ক্যারিবীয় পুরুষরাও। ৩ তারিখে ইডেন গার্ডেনসে স্টেফানি টেয়লররা মুখোমুখি হবেন মেগ ল্যানিংদের, ড্যারেন স্যামিরা এউইন মরগানদের।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন