• " />

     

    যে তারারা থাকতে পারতেন- পর্ব ২

     


    আরো পড়ুনঃ
    যে তারারা থাকতে পারতেন- পর্ব ১ 


     

    ‘আমরা খেলোয়াড় গড়ে তুলি। টাকা দিয়ে খেলোয়াড় কেনা ক্লাব হওয়ার চেয়ে পোর্তোর মত ক্লাব হতে পেরে আমরা গর্বিত।'

     

    কথাটা পোর্তো প্রেসিডেন্ট হোর্হে নুনো পিন্টোর। গত মৌসুমে বায়ার্নকে নিজেদের মাটিতে ৩-১ এ হারানোর পর বাভারিয়ায় ৭-০ তে হেরে গিয়েছিল পোর্তো। দেশে ফিরে এক সাংবাদিকের পোর্তোর ‘ইউরোপিয়ান অক্ষমতার’ প্রশ্নে রীতিমত অগ্নিশর্মা পিন্টো এই কথাটি বলেন। গত এক দশকে শুধু খেলোয়াড় বিক্রি করেই তারা আয় করেছে ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর মত। ডেকো, কারেজমা থেকে শুরু করে হালের হামেস, জ্যাকসন মার্টিনেজ- এদের প্রত্যেকেই বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছেন পোর্তোতে খেলেই। ‘ফুটবলিং মানিবল’ (যারা কমদামে অপরিচিত খেলোয়াড় কিনে কয়েকগুণ বেশি দামে তাদের বিক্রি করতে পারে) উপমাটির যেন বানানো হয়েছে এই ক্লাবটিকে দেখেই।

     

    এই ‘ফুটবলিং মানিবল’ পোর্তো যে শুধু ফ্যালকাও, হামেসদের মত আক্রমণভাগের খেলোয়াড় উপহার দিয়েছে, এমন নয়। ২০০৫ সালে হেলটনকে মূলত তৎকালীন গোলকিপার ও কিংবদন্তী ভিতোর বাইয়ার ব্যাকআপ হিসেবে কেনা হয়। বাইয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য প্রথম মৌসুমটা তাকে ‘বেঞ্চওয়ার্মার’ হিসেবে কাটাতে হয়। কিন্তু পরবর্তী মৌসুমে বাইয়ার ফর্মহীনতার দরুণ হেলটনকে খেলানো শুরু করেন কোচ কো আদ্রিয়ান্স। শুরু থেকেই ভাল করতে থাকলেও নিজেদের ‘ঘরের ছেলে’ বাইয়ার বদলি হওয়ায় নিজ সমর্থকদের কাছ থেকেই বেশ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পান তিনি। কিন্তু অবসর নেওয়ার সময় হেলটনকেই নিজেদের উত্তরাধিকার অভিহিত করে যান বাইয়া। এরপর থেকে তার প্রতি ক্ষোভটা কমতে থাকে পোর্তো সমর্থকদের আর হেলটনও এই নতুনপ্রাপ্ত ভালবাসার প্রতিদান দিতে থাকেন। সেই থেকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। টানা আট বছর পোর্তোর গোলবার সামলেছেন তিনি অসামান্য দক্ষতার সাথে। লিগ জিতেছেন ৭ বার (এর মধ্যে ০৫-০৯ পর্যন্ত টানা ৪বার), ৪ বার পর্তুগীজ কাপ এবং ১ বার ইউয়েফা ইউরোপা লিগ। ২০১৪ তে মাঠের বাইরের বিতর্ক, ইঞ্জুরি মিলিয়ে ফ্যাবিয়ানো এবং অতঃপর ইকার ক্যাসিয়াসের কাছে নিজের অবস্থান হারান তিনি। তৃতীয় গোলকিপার হলেও দলের প্রতি ভালবাসার জন্য এখন পোর্তোতেই আছেন তিনি।

     

    হেলটনের মতই সমর্থকদের মনে অনিশ্চয়তার এক ছায়া নিয়েই দলে ঢুকেছিলেন দুই ফুলব্যাক দানিলো এবং অ্যালেক্স সান্দ্রো। ‘খরুচে’ ক্লাব না হওয়ায় একজন খেলোয়াড়, তাও আবার ডিফেন্ডারের জন্য ১৩ মিলিয়ন ইউরো খরচ করাটা পোর্তো সমর্থকদের কাছে ভাল ঠেকেনি। প্রথম ইউরোপিয়ান ক্লাব, আবার সেখানে খেলার আগেই নিজ সমর্থকদের সুনজরে থাকতে না পারা-সব মিলিয়ে অবস্থা বেশ বেগতিক হয়ে পড়ে দানিলোর জন্য। কিন্ত ব্রাজিলের বস্তিতে আধাহার-অনাহারে থাকা সত্ত্বেও ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারা দানিলোকে এসব দমাতে পারেনি কখনোই। মাত্র তিন বছর থাকার পরও অনেক পোর্তো সমর্থকের কাছে পোর্তোর সর্বকালের অন্যতম সেরা রাইট-ব্যাক তিনিই। ফুলব্যাক হয়েও ১৩-১৪ মৌসুমে একাই ১২টি গোল করেছিলেন। এরপর ২০১৫ তে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৩১.৫ মিলিয়ন ইউরোতে তাকে বিক্রি করে দেয় পোর্তো। মাত্র ৩ বছরেই তাকে দিয়ে ১৯ মিলিয়ন ইউরো লাভ হলেও তার অভাবটা এখনো অনুভব করেন পোর্তো সমর্থকেরা।

     

    বন্ধু দানিলোর সাথে পোর্তোতে এসেছিলেন আরেক ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাক অ্যালেক্স সান্দ্রো। এসেই একের পর এক পারফরম্যান্স দিয়ে সমর্থকদের মন জয় করতে থাকেন তিনি। সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দী বেনফিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই গোল ও অ্যাসিস্ট করেন তিনি। যে ৪ বছর ছিলেন, ইঞ্জুরির জন্য কিছুসংখ্যক ম্যাচ ছাড়া বাকি সব ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তার এই ধারাবাহিকতার জন্য ইউরোপের অনেক ক্লাবের নজরে পড়েন তিনি এবং অতঃপর জুভেন্টাস ২৬ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে তাকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়। এরকম গতিশীল, অ্যাটাকিং দুই ফুলব্যাককে একই মৌসুমে হারানোর ফলে এই মৌসুমে ডিফেন্স সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে পোর্তোকে। 

     

    দানিলো আর অ্যালেক্স সান্দ্রোর সাথে রক্ষণে দিতেন মাঙ্গালা এবং ওতামেন্ডি। স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজ থেকে কেনা মাঙ্গালা ওতামেন্ডির সাথে পোর্তোর ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্সজুটি গড়ে তোলেন। তাদের দৃঢ় ডিফেন্সের কারণে পোর্তো ১২-১৩ তে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্লিনশিটের রেকর্ড গড়ে (১৯টি)। দলের ডিফেন্স যেমন সামাল দিতেন, ঠিক সেভাবে দলের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গোলও করেছেন এই দুইজন। ১৩-১৪ মৌসুমের ইউরোপা লিগে আইন্ট্রাখট ফ্র্যাংকফুর্টের সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছিল। ফিরতি লেগে মাঙ্গালার দুই ও ওতামেন্দির এক গোলে ৩-৩ গোলে ড্র করে অ্যাওয়ে গোল নিয়মে কোয়ার্টার ফাইনালে যায় পোর্তো। আর্জেন্টাইন ক্লাব ভেলেজ থেকে পোর্তোতে আসেন ওতামেন্ডি। চমৎকার নেতৃত্ব গুণাবলির জন্য মাঙ্গালাকে অধিনায়ক আর ওতামেন্ডিকে সহঅধিনায়কের দায়িত্ব দেয় পোর্তো। কিন্তু ২০১৪ তে মাঙ্গালাকে কিনে নেয় ম্যাচসিটি আর ঐ বছর ভ্যালেন্সিয়ায় পাড়ি জমান ওতামেন্ডি। এর ঠিক এক বছর পরেই আবার বন্ধু মাঙ্গালার সাথে ম্যানসিটিতে একত্রিত হন তিনি। মার্টিনস ইন্ডি ও ইভান মারকানোর উপর এই দুইজনের যোগ্য উত্তরসূরী হওয়ার কঠিন কাজটি অর্পিত হয়েছে।

     

    দানিলো, মাঙ্গালাদের সাথে ডিফেন্স সামাল দেওয়া আর হাল্ক, ফ্যালকাওদের বল যোগান দেওয়ার কাজটি সেন্ট্রাল মিড থেকে দক্ষতার সাথে করেছেন জোয়াও মৌতিনহো। স্পোর্টিং লিসবনে ক্যারিয়ার শুরু করা মৌতিনহো ৫ বছর পর যখন চিরশত্রু পোর্তোতে নাম লেখান, তখন স্পোর্টিং প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘লিসবনের বাগানে মৌতিনহো একটি পচা আপেল এবং স্পোর্টিং কখনোই এরকম কাউকেই দলে রাখবে না, তা সে যতই ভাল হোক না কেন’। পোর্তোতে এসেই মূল একাদশে নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেন তিনি। ’১০-’১৩ এই সময়ে বিশ্বফুটবলে সেরা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারদের যেকোনো তালিকায় উপরের দিকেই নাম থাকতো তার। পোর্তোর ইউরোপা লিগ জয়ের পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন। কাতারী পেট্রোডলারে পুষ্ট মোনাকো তার জন্য ২৫ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিলে তাকে বিক্রি করে দেয় পোর্তো। মাত্র তিন বছর থাকলেও তাকে পোর্তোর কিংবদন্তী বলে মনে করেন অসংখ্য সমর্থক।

     

    মৌতিনহোর মত ‘পচা আপেল’ অভিহিত না হলেও নিজের প্রথম ক্লাব ভিলানোভা ছাড়ার সময়েও ফারনান্দো মৌতিনহোর মতই নিজ বোর্ড, সমর্থকদের রোষানলে পড়েছিলেন। তাদের সকলেরই ক্ষোভের মূল কারণ ছিল ফারনান্দোর অর্থ লালসা। যদিও চলে যাওয়ার সময় ফারনান্দো বলে গিয়েছিলেন, তার এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ ছিল নতুন বাধা-বিপত্তি জয় করা। দুর্ভাগ্যবশতই হোক আর ভিলানোভা সমর্থকদের বদদোয়াতেই হোক, পোর্তোতে এসেই ইঞ্জুরিতে পড়েন তিনি। ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পরই তাকে আরেক পর্তুগীজ ক্লাব এস্ত্রেলা আমাদোরাতে ধারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ভাল খেলার পুরষ্কারস্বরূপ তাকে ওই মৌসুমের শীতকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে ফেরত আনে পোর্তো। এরপর টানা ছয় বছর পোর্তোর মিডফিল্ড সামাল দিয়েছেন তিনি। টানা চারবার লিগ, দুইবার পর্তুগীজ কাপ এবং একবার ইউরোপা লিগ জিতিয়েছেন দলকে। ২০১২ সালে পর্তুগিজ লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। ইয়া ইয়া তোরের ফর্মহীনতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এক সেন্ট্রাল মিডের খোঁজে ছিল ম্যানসিটি। ফারনান্দোর মধ্যে প্রত্যাশিত সব গুণাবলী থাকায় তাকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয় সিটি। এখন রুবেন নেভেস ও দানিলোর জন্য তার অভাব অতটা অনুভূত না হলেও পোর্তোর ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হয়ে থাকবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।  

     

    পর্তুগীজ ক্লাব হলেও পোর্তোর ইতিহাসে অসংখ্য ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় এসেছেন যাদের নাম এখনো পোর্তো সমর্থকদের মুখে মুখে ফেরে। এরকমই একজন হলেন জিভেনিলদো ভিয়েরা ডি সুজা ওরফে ‘হাল্ক’। অমানুষিক শক্তি, গতি, অসাধারণ ফিনিশিং এবং আগুনে শট-সব কিছুই ছিল হাল্কের মধ্যে। ০৮-০৯ মৌসুম থেকে ১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত হামেস রড্রিগেজ, রিকার্দো কারেজমা ও রাদামেল ফ্যালকাওয়ের সাথে গড়ে তুলেছিলেন এক দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ। পোর্তোর হয়ে ৯৯টি ম্যাচ খেলে গোল দিয়েছিলেন ৫৪টি এবং শিরোপা জিতেছিলেন সর্বমোট ৯টি। চার বছর পর্তুগীজ লিগ কাঁপিয়ে অবশেষে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গের হয়ে সাইন করেন হাল্ক। ডান-প্রান্তে তার দৌড়, ড্রিবলিং, আগুনে গোলার মত শট আজো মিস করেন পোর্তোর সমর্থকেরা।

     

    পোর্তোর আরেক উইঙ্গার রিকার্দো কারেজমাও ছিলেন হাল্কের মতই। শক্তিশালী, চোখধাঁধানো ড্রিবলিং, জোরালো শট- সবই ছিল তার। কিন্তু সমস্যা ছিল তার আচরণে। অসামান্য প্রতিভাধর হওয়ার ফলে তার খেলায় ও সতীর্থদের প্রতি আচরণে ঔদ্ধত্য ও স্বার্থপরতা প্রকাশ পেত। অনেকবার এমন হয়েছে যে সতীর্থরা গোলস্কোরিং অবস্থানে থাকার পরেও পাস না ছেড়ে নিজে গোল দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন । কিন্তু কোচ কো আদ্রিয়ান্সের কাউন্সিলিংয়ে কারেজমা নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং দলের জন্য খেলা শুরু করেন। শিরোপা ও ভাল পারফরম্যান্সও আসতে থাকে। পোর্তোতে টানা ৩ বার লিগ ও ১ বার পর্তুগীজ কাপ জেতার পর ইন্টার মিলানে নাম লেখান তিনি। এর ৬ বছর পর পোর্তোতে আবারো ফিরে আসেন তিনি। প্রত্যাবর্তনের প্রথম ম্যাচেই তাকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন পোর্তো সমর্থকেরা, তা থেকেই বোঝা যায় তার স্থান পোর্তো সমর্থকদের হৃদয়ে সবসময়ই ছিল ও থাকবে।

     

    ডেকো, হাল্কের মত পোর্তোতে থাকাকালীন সময় ফুটবলবিশ্বকে নিজের উপস্থিতির কথা জানান দিয়েছেন কলম্বিয়ান বিস্ময় হামেস রড্রিগেজ। মাত্র ১৯ বছর বয়সে পোর্তো মূল একাদশে জায়গা করে নেন তিনি। প্রথম মৌসুমে বেশ কয়েকবার ‘ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ’ ও ‘টীম অফ দ্যা উইক’-এ চান্স পেলেও তার সেরা মৌসুম ছিল পোর্তোতে তার দ্বিতীয় মৌসুম যাতে তিনি করেছিলেন ১৫ গোল ও অ্যাসিস্ট করেছিলেন ১৭টি। পোর্তোকে জিতিয়েছিলেন লিগ ও কাপ আর নিজে জিতেছিলেন সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের খেতাব। পরের মৌসুমেও সেই অসাধারণ হামেসকেই পায় পোর্তো। চ্যাম্পিয়ান্স লিগে পিএসজির সাথে করা দর্শনীয় হাফভলিটি চ্যাম্পিয়ান্স লিগের অন্যতম সেরা গোল। কিন্তু এরপর থেকেই তাকে কেনার জন্য রীতিমত যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই যুদ্ধে জয়লাভ করে মোনাকো। এখন অবশ্য মোনাকো থেকে রিয়ালে পাড়ি জমিয়েছেন হামেস।

     

    হামেসের মতই তরুণ ও অখ্যাত থাকা অবস্থায় রাদামেল ফ্যালকাওকে কিনে নেয় পোর্তো। প্রথম মৌসুমেই নিজের প্রথম চার ম্যাচের প্রতিটিতে গোল করেন তিনি। ইঞ্জুরির জন্য ঐ মৌসুমে আর খেলতে পারেননি। পরের মৌসুমেই নিজের বিষ্ফোরক রূপে আবির্ভূত হন ফ্যালকাও। ১১-১২ মৌসুমে গোল করেন সর্বসাকুল্যে ৪৮টি এবং দলকে জেতান লিগ, কাপ ও ইউরোপা লিগ। এরপর এরপরই তাকে ৪০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে কিনে নেয় অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। মাত্র দুই মৌসুম থাকলেও নিজের ফিনিশিং ও গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে জয় করে নিয়েছিলেন পোর্তো সমর্থকদের মন।

     

    এরা ছাড়াও আরো কিছু খেলোয়াড় আছেন যাদেরকে বিক্রি করে দেওয়া এখনো পোর্তোকে পোড়ায় যেমন পেপে, কারভালহো, ফ্রেডি গুয়ারিন, ফারনান্দো, অ্যান্ডারসন, ইতুর্বে, জ্যাকসন মার্টিনেজ প্রমুখ। পোর্তোর ‘পাইপলাইন’ দেখলে আসলেই বিস্মিত হতে হয়। এত এত তারকা খেলোয়াড় একটি দলের পক্ষে বানানো আসলেই দুষ্কর।

     

    বর্তমান টাকা নির্ভর ফুটবলে পোর্তোর মত খেলোয়াড় বানানো দল ‘বড়লোকী’ ক্লাবগুলোর কাছে খেলোয়াড় বিক্রি করতে থাকবে তাদের নিজেদের আর্থিক চাহিদার জন্য। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে রাগে, ক্ষোভে বলা পিন্টোর সেই কথাটি শতভাগ সত্য। কিন্তু খেলোয়াড় কেনার চেয়ে খেলোয়াড় বানানো ক্লাবগুলো সমর্থকদের কাছে বেশি সম্মান পাবে। তাই ‘ফুটবলীয় মানিবল’রা সর্বদাই ‘ফুটবলীয় মানিব্যাগ’দের থেকে বেশি সম্মান পাবে।

     



    পোর্তোর সম্ভাব্য দল

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন