• আইপিএল ২০১৬
  • " />

     

    দাবার বোর্ড থেকে ২২ গজে

    ছোটবেলায় হয়তো স্বপ্ন দেখতেন বিশ্বনাথ আনন্দ কিংবা দিবেন্দু বড়ুয়া হওয়ার। ক্ষুদে দাবাড়ুদের দুটো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভারতের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। তবে যুযভেন্দ্র চাহালের স্বপ্নের নায়করা বদলে হয়ে যেতে পারেন অনিল কুম্বলের মতো কেউ। ভারতীয় তরুণ এখন খবরের শিরোনাম হচ্ছেন দাবার বোর্ড জয় করে নয়, বাইশ গজের উইকেট মাতিয়ে। কিশোর বয়সে যিনি দাবার ছক কষতেই ব্যস্ত থাকতেন, বয়স পঁচিশ না পেরোতে তাঁর লেগ স্পিনে কাবু হচ্ছেন বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানেরা। চলতি আইপিএলের লিগ পর্বের খেলা শেষে হয়ে গেছেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি! রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর এই ক্রিকেটার ইতোমধ্যে ডাক পেয়েছেন ভারতের আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরে টিটোয়েন্টি সিরিজের জন্য ঘোষিত দলেও।

     

     

    হরিয়ানার ছেলে চাহাল অবশ্য বেড়ে উঠেছেন দাবা আর ক্রিকেট- দুটোর প্রতিই সমান আগ্রহ নিয়ে। তবে প্রথমদিকে দাবাতেই বেশী সময় দেয়া হতো বলে খেলাটায় খুব দ্রত হাত পাকিয়ে ফেলেন। অনূর্ধ্ব-১২ দাবায় জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এশিয়ান ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও। দাবার আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিদের অফিশিয়াল র‍্যাঙ্কিংয়ে এখনও নাম আছে চাহালের, র‍্যাঙ্কিং ১৯৪৬।

     

    তবে খেলাটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন নি অর্থাভাবেই। যেমনটা বলছিলেন তাঁর বাবা, “দাবা নিয়ে এগোনোর জন্য বছরে তাঁর ৫০ লাখ রুপির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমরা ওর জন্য কোনো পৃষ্ঠপোষক খুঁজে পাই নি। ফলশ্রুতে তাঁকে খেলাটা ছেড়ে দিতে হয়।”

     

    ব্যাপারটা হয়তো শাপে বরই হয়ে গেছে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য। দাবায় ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত দেখে চাহাল ঝুঁকে পড়েন ক্রিকেটের দিকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ কিছুদিন খেলার পর ২০১১ সালের আইপিলে তাঁকে দলে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ টিটোয়েন্টি ফাইন্যালে ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে শিরোপা জয়েও বড় অবদান রাখেন। আর সেবারই প্রথম আসেন আলোচনায়।

     

    সে সূত্র ধরে পরের বছরের আইপিএল নিলামে চাহালকে কিনে নেয় ব্যাঙ্গালুরু। মাত্র ১০ লাখ রুপিতে কেনা তরুণ যে বছর দুয়েকের ব্যবধানে টুর্নামেন্টটিরই সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার দৌড়ে থাকবেন তা কে ভাবতে পেরেছিল?

     

    কিভাবে এমন সাফল্য? চাহাল বলছেন দাবার অনুশীলনটা খুব করেই কাজে দিচ্ছে, “একজন ব্যাটসম্যানকে ফাঁদে ফেলার ছক কষতে দাবাই আমাকে সাহায্য করে। আমি সবসময় ব্যাটসম্যানের থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকার চেষ্টা করি, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে যেখানে একজন বোলারকে খুব দ্রুত মাথা খাঁটাতে হয়। ব্যাটসম্যান যখন খুব আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকে, আমি শান্ত থাকার চেষ্টা করি। দাবার প্রশিক্ষণ আমাকে নিজের কাজটার প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।”

     

    দাবার মাথা ব্যবহারে ক্রিকেট মাঠে আপাতত তিনি সফল তো বটেই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটা কতোটুকু কাজে লাগাতে পারেন তাই এখন দেখার বিষয়।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন