• শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়া
  • " />

     

    শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া না বৃষ্টি?

    তেত্রিশ বছরের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলংকার টেস্ট জয় মাত্র একটিতে। সেটাও আবার গত শতাব্দীতে, ১৯৯৯ সালে। লম্বা গেরোটা খোলার ভালো সুযোগই ম্যাথিউসদের সামনে। পাল্লেকেলে টেস্টের শেষ দিনে স্বাগতিকদের প্রয়োজন ৭টি উইকেট, বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার ১৮৫ রান। উপমহাদেশীয় উইকেটে পঞ্চম দিনের খেলায় শক্তিশালী স্পিন আক্রমণের মোকবেলায় এই রানই যে পাহাড়সম হতে পারে তা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখে না। শেষপর্যন্ত বৃষ্টিই জয় না হলে রোমাঞ্চকর একটা দিনই অপেক্ষা করছে পাল্লেকেলেতে।

     

     

    শুরুতে বৃষ্টির বাঁধা আর শেষে আলোক স্বল্পতা- দুয়ের মাঝে চতুর্থ দিনের খেলা হল সাকুল্যে ৪০.৪ ওভার। তবে ওটুকুর মাঝেই সফরকারীদের সামনে চতুর্থ ইনিংসে ২৬৮ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয় শ্রীলংকা। সে লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়েই দিনশেষে ৮৩ রানে ৩ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার।

     

    এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৮২ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে শ্রীলংকা। আগের দিনের নায়ক কুশল মেন্ডিসের অপরাজিত ১৬৯ রানের ইনিংসটি শেষ হয় আর ৭ রান যোগ করেই। দিনের তৃতীয় ওভারে তাঁকে উইকেটের পিছনে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মিচেল স্টার্ক। সবক’টি উইকেট হারানোর আগে শ্রীলংকার স্কোরবোর্ডে রান ৩৫৩। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা স্টার্ক নেন ৪ উইকেট।

     

    ২৬৮ রানের জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই আঘাত আসে অজি শিবিরে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওয়ার্নারকে বোল্ড করে ফেরান রঙ্গনা হেরাথ। ১ম ইনিংসে ০ রানে ফেরা ওয়ার্নার আজ অবশ্য ১ রানের জন্য জায়গা বদলেছিলেন। বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই উসমান খাজাকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন দিলরুয়ান পেরেরা। দলীয় ৬৬ রানে জো বার্নসও সান্দাকানের বলে বোল্ড হয়ে জয়ের পথটা আরও কঠিন করে তোলেন। পরের ওভারে যেতে বসেছিলেন অ্যাডাম ভোজেসও। পেরেরার এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়াও দিয়েছিলেন আম্পায়ার কেটেলবরো। সে যাত্রায় রিভিউ নিয়ে রক্ষা পান ভোজেস। স্মিথ-ভোজেস জুটি দিনের বাকি সময়টা কাটিয়ে দেন নিরাপদেই। তবে রানের চাকায় জমাট বরফ সেভাবে গলাতে পারেন নি।

     

    পাল্লেকেলেতে এ পর্যন্ত হওয়া চার টেস্টের প্রথম তিনটির ফল ছিল, শেষটিতে ৭ উইকেটে জেতে পাকিস্তান। ছয় বছর বয়সী ভেন্যুটিতে তাই স্বাগতিকরা এখনও জয়ের খাতা খোলার অপেক্ষায়। সেটা আগামীকালই হয়ে গেলে পাল্লেকেলের পরিসংখ্যানে যোগ হবে আরেকটি প্রথম, এই মাঠে আগে ব্যাট করা দল হিসেবে প্রথম জয়। শ্রীলংকার প্রেরণা হতে পারে অতীতও, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই একমাত্র টেস্ট জয়টি যে এই ক্যান্ডি শহরেই!

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন