• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ভাগ্য ফেরাতে পারবেন কন্তে?

    ২০১৩/১৪ মৌসুমে শিরোপাজয়, পরের মৌসুমেই চেলসির অবস্থান ১০ম। এক বছরের ব্যবধানেই ফুটবলের ভিন্ন দু’টি রূপ দেখা হয়েছে হ্যাজার্ড-অস্কার-কস্তাদের। দ্য ব্লুজদের হঠাৎ করেই এমন ফিকে হয়ে যাওয়ার মাশুল গুনেছেন ক্লাবটির সবচেয়ে সফল ম্যানেজার হোসে মরিনহো। শিরোপা জয়ের পরের মৌসুমেই হয়েছেন বরখাস্ত। তবে নতুন সিজনের লড়াইটা নতুন করেই শুরু করতে চাইছে চেলসি; স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এ লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিবেন কোচ আন্তোনিও কন্তে।

     

    কন্তে নিজের ব্যতিক্রমধর্মী ট্যাক্টিকসের জন্য ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছেন অনেকের। সর্বশেষ ইউরোতে ইতালিকে নিয়ে চমকে দিয়েছেন বেলজিয়াম, স্পেন ও সুইডেনকে। অন্তত গতবারের চেয়ে ভালো করবে, চেলসি সমর্থকেরা সে ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত থাকতে পারে! গতবার মৌসুমের মাঝামাঝিতেই ইনজুরিতে ছিল চেলসির নয় খেলোয়াড়। তাঁর উপর দলের মূল তারকারাই ছিলেন অফফর্মে। আর তাই চিন্তা থেকেই যায়, হ্যাজার্ড, অস্কার, ফেব্রেগাসদের নিয়ে কতটা কার্যকরী হবে কন্তের ‘ওয়্যার মেশিন’।

     

    প্রিমিয়ার লিগে আসার পূর্বে ৩টি সিরি এ এবং ২টি ইতালিয়ান সুপারকাপ জিতেছেন কন্তে। চেলসির দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের ট্যাক্টিকস দলটাও গুছিয়ে নিয়েছেন। ৪-৪-২ বা ৩-৫-২ ফরমেশনে দলের মাঝমাঠ শক্ত করতে লেস্টার সিটি থেকে কিনে এনেছেন এন’গলো কান্তেকে। আর স্ট্রাইকে ডিয়েগো কস্তার পাশে দেখা যাবে নতুন সাইনিং মিশি বাতশুয়েইকে। তাছাড়া ইউরোপের কোন খেলা না থাকায় প্রিমিয়ার লিগে মনোনিবেশ করতে পারবেন কোচ কন্তে। আর তাই গত ৫০ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে বছরটি কাটিয়ে নতুন এক ‘কন্তে’ যুগের শুরুর প্রত্যাশায় চেলসিভক্তরা।

     

    প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতিটাও মোটামুটি ভালোই কেটেছে লন্ডনের দলটির। প্রথম ম্যাচে র‍্যাপিড ভিয়েনার কাছে হোঁচট খেলেও আরজে পেল্লেটস, লিভারপুলের সাথে জিতেছে চেলসি। এরপর রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে গেলেও আশার বানী, জোড়া গোল করেছেন ইডেন হ্যাজার্ড। তাছাড়া সম্প্রতি এসি মিলান এবং ওয়ের্ডার ব্রিমেনের বিপক্ষেও জয় পায় ব্লুজরা। সেইসাথে হ্যাজার্ডের মত ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন অস্কার-কস্তারাও।

     

    মাঝমাঠের ‘হাতিয়ার’ কান্তে

     

    এই মৌসুমে চেলসির সবচেয়ে বড় ট্রান্সফার নিউজ ছিল এন’গলো কান্তে। সাবেক লেটার মিডফিল্ডার নিঃসন্দেহে গত মৌসুমের অন্যতম সেরা ফুটবলার ছিলেন। লেস্টারের ডিফেন্সিভে মিডে এই ফরাসির অবদান ফক্সদের শিরোপাজয়ে ভার্ডি-মাহারেজদের মতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গত মৌসুমের ট্যাকল ও ইন্টারসেপশনে কান্তেই ছিলেন সবার চেয়ে এগিয়ে। ক্ষিপ্র গতিতে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে পাল্টা আক্রমনে তাঁর জুড়ি নেই বর্তমান প্রিমিয়ার লিগে। তাই নিজের সেরাটা খেলতে পারলে লন্ডনের দলটির জন্য ‘থেমস ব্যারিয়ার’ হয়ে উঠবেন তিনিই।

     

    ইডেন হ্যাজার্ডেই ভরসা

     

    ২০১৩/১৩ মৌসুমের ইংল্যান্ড সেরার পুরষ্কার জিতেছিলেন এই বেলজিয়ান। অথচ পরের মৌসুমে হারিয়ে খুঁজেছেন নিজেকে; এপ্রিলের আগ পর্যন্ত ছিলেন গোলশুন্য। তবে বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারের উপরই ভরসা রেখেছেন  কন্তে। খেলার মাঝ পথেই ফরমেশন পরিবর্তনে কন্তের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারেন হ্যাজার্ড। গত ইউরো ও প্রাক-মৌসুমে ফর্মে ফেরার আভাসটা ভালোমতই দিয়েছেন এই চেলসি প্লেমেকার। প্রাক-মৌসুমে কন্তের অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর ওয়েডার ব্রিমেনের বিপক্ষেও বল জালে জড়িয়েছেন তিনি। আর তাই মাঝমাঠে কন্তের রণকৌশলের মূল হাতিয়ার হিসেবেই দেখা যাবে এই বেলজিয়ানকে।

     

    দিয়েগো কস্তার নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই

     

    ইডেন হ্যাজার্ডের মত গত মৌসুমে ফর্মের ভরাডুবিতে পড়েছিলেন চেলসি স্ট্রাইকার দিয়েগো কস্তাও। উগ্র স্বভাবের জন্য আগের মৌসুমের বেশ কিছু ম্যাচেই ছিলেন নিষিদ্ধ; চেলসির দুর্যোগের অনেককিছুই দেখেছেন দর্শক হয়ে। ২০১৩/১৪ মৌসুমে ২০ গোল করা কস্তা পরের মৌসুমে বল জালে জড়িয়েছেন কেবল ১২ বার। এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের সাথে সাথে খেই হারিয়ে ফেলেছিল চেলসিও। আর তাই শিরোপা পুনরুদ্ধারে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিতে হবে দিয়েগো কস্তাকে। নিজেকে আবারো প্রমাণ করার মঞ্চটা প্রস্তুত, কস্তা প্রস্তুত তো?

     

    কন্তের রণকৌশল

     

    কোচ হিসেবে নিজেকে ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন কন্তে। জুভেন্টাস বা ইতালির হয় ৩-৫-২ বা ৫-৩-২ ফর্মেশনে খেলিয়ে সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে কৌশলটা বদলেও ফেলতে পারেন, খেলাতে পারেন ৪-৪-২ ফর্মেশনে। এক্ষেত্রে কন্তের অন্যতম হাতিয়ার থাকবেন মাতিচ এবং কান্তে। গোলকিপিংয়ে থিবাও করতুয়ার উপরই ভরসা রাখছেন কন্তে। অন্যদিকে ডিফেন্সে আছেন টেরি, কাহিল, জুমা, আজপি ও ইভানোভিচ। তাছাড়া তরুণ ফুলব্যাক ওলে আয়নাকেও টেরি-জুমাদের সাথে অদল বদল করে খেলাতে পারেন কোচ কন্তে। মাঝমাঠে হ্যাজার্ড, ফ্যাব্রেগাস, উইলিয়ান ও অস্কারই হবে কন্তের ‘ওয়্যার মেশিন’; তাঁদের পিছন থেকে বল যোগানোর দায়িত্বটা কান্তে আর মাতিচের। মিডফিল্ডে ব্যাক আপ হিসেবে থাকছেন পেদ্রো, কেনেডি ও মোজেজ। সেইসাথে নতুন সেনসেশন হয়ে উঠতে পারেন একাডেমির খেলোয়াড় রুবেন লোফটাস চিক। আর স্ট্রাইকে নেতৃত্ব দিবেন অভিজ্ঞ দিয়েগো কস্তা এবং নতুন সাইনিং বাতশুয়েই। তাঁদের বদলি হিসেবে নামতে পারেন তাওরে ও রেমি। তবে যদি এভারটন থেকে লুকাকুকে দলে ভেড়াতে পারেন কন্তে তবে বাতশুয়েইকে শুরু করতে হতে পারে সাইড বেঞ্চ থেকেই।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন