• রিও অলিম্পিক ২০১৬
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    প্রচারের জন্য হাত ধরে দৌড় শেষ?

    দুই প্রতিযোগী একে অন্যের হাত ধরে এগিয়ে আসছেন ফিনিশিং লাইনের দিকে। দর্শকসারিতে থাকা সবাই হয়তো একটু চমকেই গিয়েছিলেন ব্যাপারটায়। শুধু দর্শক নয়, এই দুই যমজ বোন অবাক করেছেন গোটা বিশ্বকেই। গতকাল মেয়েদের ম্যারাথনে দুই জার্মান বোনের একসাথে দৌড় শেষ করার ঘটনা জন্ম দিয়েছে নতুন এক বিতর্কের।

    ২৬ বছর বয়সী অ্যানা এবং লিসা হাহনের নামের দুই বোন অংশ নেন মেয়েদের ম্যারাথনে। দৌড়ের শুরুতে এগিয়ে ছিলেন অ্যানাই, ১৭ কিলোমিটার পর তাঁকে ধরে ফেলেন লিসা। প্রায় ৩ কিলোমিটার একসাথে দৌড়ান তাঁরা। এরপর লিসার গতির সাথে তাল মিলাতে না পেরে পিছনে পড়েন অ্যানা। রেসের যখন ২ কিলোমিটার বাকি তখন অ্যানা নিজের গতি বাড়িয়ে দেন। ফিনিশিং লাইন স্পর্শের প্রায় ৩০০ মিটার আগে দুজন হাতে হাত রেখে দৌড়ানো শুরু করেন। একসাথে ফিনিশিং লাইন পার করলেও স্কোরবোর্ডে দেখাচ্ছিল অ্যানা সময় নিয়েছেন ২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আর লিসা নিয়েছেন এক সেকেন্ড বেশি।

    সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অ্যানা, “দৌড় শেষ করার সময়ে লিসাকে পাশে পেয়ে আমি খুবই খুশি। মুহূর্তটা স্মরণীয় হয়েই থাকবে।”
     


    কিন্তু অ্যানার আবেগটা হয়তো স্পর্শ করতে পারেনি সবাইকে। মিডিয়ার খবর হওয়ার জন্যই তারা এই কান্ড ঘটিয়েছেন বলেই ধারণা সবার। জার্মান অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের স্পোর্টস ডিরেক্টর থমাস কুর্সচিলগেন নিউইয়র্ক টাইমসে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘটনাকে ‘ফান রান’ বলে উল্লেখ করেন, “পদক জয়ই সবকিছু নয় জানি। কিন্তু অলিম্পিকে সব প্রতিযোগীর উচিত নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করা। দুই বোন মিডিয়ার নজরে আসার জন্যই এটা করেছেন।”

    মিডিয়ার নজরে তারা ঠিকই এসেছেন, স্বদেশী আঞ্জা স্কারল ৪৪ তম হলেও খুব একটা আসেননি খবরে। কিন্তু অ্যানা এবং লিসা যথাক্রমে ৮১ এবং ৮২ তম হলেও স্থান করে নিয়েছেন খবরের পাতায়। অ্যানার সেরা টাইমিং ছিল ২ ঘন্টা ২৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড, লিসার ২ ঘন্টা ২৮ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড। নিজেদের সেরার টাইমিংয়ের চেয়ে প্রায় ২০ মিনিট সময় বেশি নিয়ে দৌড় শেষ করেন দুই বোন, আর এর ফলেই তাদের নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

     

     

    চারপাশের সমালোচনার ঝড় উঠলেও সেটি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না অ্যানা, “আমরা দুজন গত চার বছর ধরে ম্যারাথনের জন্য একসাথে অনুশীলন করছি। কোনো পদক, টাইমিংই আমাদের এতো খুশি করতে পারতোনা।” 

    মেয়েদের ম্যারাথনে ২ ঘন্টা ২৪ মিনিট ৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জেতেন কেনিয়ার জেমিমা জেলাগাত সুমগং। রূপা পান বাহরাইনের ইউনিক কিরওয়া (২ ঘন্টা ২৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ড), ব্রোঞ্জ জেতেন ইথিওপিয়ার মারে দিবাবা (২ ঘন্টা ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড)।

    মজার ব্যাপার হল, একই ইভেন্টে উত্তর কোরিয়ার আরেক যমজ কিম হে সং এবং কিম হে গং ২ ঘন্টা ২৮ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে একসাথে রেস শেষ করেছেন, যদিও তাদের অবস্থান যথাক্রমে দশম এবং একাদশ।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন