• ক্রিকেট

মার্নাস ল্যাবুশেন; এক অস্ট্রেলিয়ান উত্থান

পোস্টটি ৪২০৩ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

ক্যারিয়ারের প্রথম ১২ টি টেস্ট খেলেই যিনি সেরা দশজন ব্যাটসম্যানের তালিকায় চলে এসেছিলেন, তিনি হচ্ছেন মার্নাস ল্যাবুশেন। ২০১৯ সাল মার্নাস ল্যাবুশেনের জন্য সবচেয়ে দারুণ একটি বছর ছিল, সেটা ল্যাবুশেন নিজেই স্বীকার করবে অবশ্যই। যার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নিজ নামটা অনেকে ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারতো না, যার ফলে তাকে ইউটিউবে ভিডিও পর্যন্ত আপলোড করে দেখাতে হয়েছে আমার নামটা 'মার্নাস ল্যাবুশেন', অন্য কিছু না। সেই ল্যাবুশেনের নাম এখন সবাই উচ্চারণ করে, শুধু উচ্চারণ না, প্রশংসাভরে উচ্চারণ করে। তার কারণ সে নিজেই।


GettyImages-1175005258-e1568898415421-925x530

 

কেনই বা করবেনা, ক্রিকেট পাড়ায় মোটামুটি সাড়া ফেলার মতোই কিছু কাজ করে ফেলেছেন তিনি ইতিমধ্যে। এশেজের দলে জায়গা পাওয়াটা প্রথমত মার্নাস ল্যাবুশেন তথা অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের যারা সমর্থক তাদের জন্যই ছিল বিস্ময়। এর আগে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের চার বছর পর ২০১৮ সালে জাতীয় দলে ডাক পেলেও আহামরি কোনো পারফর্মেন্স ছিল না ল্যাবুশেনের, যেটা দিয়ে সে এশেজের দলে ডাক পেতে পারে। সেই ল্যাবুশেন হুট করে এশেজে ডাক পেয়ে, দলের প্রয়োজনে মাঠেও নামে একটা অদ্ভুত পরিস্থিতে এসে। স্টিভেন স্মিথকে বাউন্সে পরাভূত করে জোফরা আর্চার। এতে স্মিথকে মাঠ ছাড়তে হয় ম্যাচের মাঝখানে এসে। এবং টেস্ট ইতিহাসের ১৪২ বছরে প্রথমবারের মতো 'কনকাশন সাবস্টিউট' হিসেবে মাঠে নামেন মার্নাস ল্যাবুশেন। এই অদ্ভুত পরিস্থিতি মাঠে নামাটাই তার জন্য সৌভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।জানিয়ে রাখা ভাল, মার্নাস ল্যাবুশেনের শুরুটা হয়েছিলো স্টিভেন স্মিথের মতোই লেগ স্পিনার হিসেবে। এরপর হুট করেই তিনি ব্যাটসম্যান বনে চলে যান।



Labuschagne

স্মিথের ইনজুরিতে সুযোগ পেয়ে দলে মোটামুটি থিতু হয়ে যান ল্যাবুশেন। এবং সেটা দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন পজিশন তিন নম্বরেই। এশেজের চার টেস্টে তিনি করেন ৩৫৩ রান। এরপর দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ ব্যাটিং করেন ল্যাবুশেন। দুই ম্যাচের দুটিতেই করেন সেঞ্চুরি, দুই ম্যাচে তার মোট রান দাঁড়ায় ৩৪৭। নিউজিল্যান্ডের সাথে পরের সিরিজে মোটামুটি তুলকালাম করে দেন মার্নাস ল্যাবুশেন। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৬ ইনিংসেই ব্যাট করেন তিনি। তিন ম্যাচের মধ্যে একটি সেঞ্চুরি এবং একটি সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন। ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল ২১৫, এরপর পরের ইনিংসেও ৫৯ রানের সংগ্রহ তুলে নেন। তিন ম্যাচ শেষে ল্যাবুশেনের মোট সংগ্রহ থাকে ৫৪৯ রান। দুই সেঞ্চুরি, এক ডাবল সেঞ্চুরি এবং তিনটি হাফ সেঞ্চুরি দিয়ে ল্যাবুশেন নিজেকে নিয়ে যান অন্য উচ্চতায়।



02dcb150fed41ed4909dfdb10f0995b0

আর এমন ধারাবাহিকতাই ল্যাবুশেনকে দিয়েছে গত বছরে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান করার মর্যাদা। এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে এক হাজার রান করতে ল্যাবুশেনের মাত্র ১১ টি ম্যাচ এবং ১৭টি ইনিংস খেলতে হয়। এখন পর্যন্ত ল্যাবুশেন ২৩ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন, ৬৩.৪৩ গড়ে রান করেছেন ১৪৫৯। যেখানে ৮ টা হাফ সেঞ্চুরি, ৪ টা সেঞ্চুরি এবং ১ টা ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে। মার্নাস ল্যাবুশেন যেভাবে আগাচ্ছেন, তাতে তিনি অনেককিছুই জানান দিচ্ছেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মোটামুটি বাজে একটা সময়ে ল্যাবুশেনের মতো ব্যাটসম্যান পেয়ে যাওয়া, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের জন্য সৌভাগ্যই বলতে হয়। তা না হলে কি, ২৫ বছর বয়সী যে ছেলেটাকে এক বছর আগেও কেউ চিনতোনা, গত বছরের শুরুতে যার ব্যাটিং র‍্যাংকিং ছিল ১১০,সেই একই ব্যাক্তির টেস্ট ব্যাটিং র‍্যাংকিং এখন শুধু তিন !