• ফুটবল

'সেইন্ট' ইকার

পোস্টটি ৮৭৪ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

পেশাদারী ফুটবলে নাম লেখানোর স্বপ্ন ত অনেকেই দেখে। দলকে ট্রফি জিততে দেখা, সে জয়ে অবদান রাখা এমন হাজারো স্বপ্নের মাঝেই বেড়ে উঠে অনেক মানুষ। খুব অল্প সংখ্যক মানুষই পারে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করতে। শত বাঁধা, বিপত্তি, প্রতিকূলতা অতিক্রম করা সেসব মানুষদেরই একজন সাবেক স্প্যানিশ গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস। শুরুটা করেছিলেন রিয়ালের জার্সিতে ১৬ বছর বয়সেই। এরপর ১৮ বছর বয়সেই অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক হয়। এর তিন দিন আগে হয়েছিল লা লিগায় অভিষেক। নিজের ১৯ তম জন্মদিন পালনের ৪ দিন পরই সর্বকনিষ্ঠ গোলরক্ষক হিসেবে রিয়ালের হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা। তবে পথ সর্বদা মসৃণ ছিল না। পরবর্তীতে বাজে ফর্মের কারণে সিজার সানচেজের কাছে হারান এক নম্বর গোলরক্ষকের জায়গাটা। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ম্যাচে সেই সানচেজই পড়েন ইনজুরিতে। বেঞ্চ থেকে উঠে এসে বেশ কয়েকটি সেভ করে রিয়ালকে জেতান ৯ম চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি ক্যাসিয়াসকে। ২০০৯ সালে পাকো বুয়োকে টপকে হয়ে যান রিয়ালে জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলকিপার। ২০১০-১১ মৌসুমে অধিনায়ক রাউল আর সহ-অধিনায়ক গুতি ক্লাব ছাড়ার পর রিয়ালের জার্সিতে ক্যাপ্টেনসি করতে শুরু করেন। মরিনহো ইস্যুসহ নানা কারণে বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়ে ২০১৩-১৪ মৌসুমে রিয়ালের হয়ে জিতেছেন স্বপ্নের লা ডেসিমা। রিয়ালের হয়ে জিতেছেন ৩ টি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ৫ টি লা লীগা, ২ টি কোপা ডেল রে, ২ টি ক্লাব বিশ্বকাপ, ২ টি উয়েফা সুপার কাপ। ২০১৫ সালে প্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে পারি জমান পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোতে। ২০০২ বিশ্বকাপে খেলার কথা ছিল না। কিন্তু নিয়মিত গোলকিপার সান্তিয়াগো কানিজারস আফটার শেভ বোতলের সাথে লেগে পায়ে ব্যথা পান এবং ছিটকে যান টুর্নামেন্ট থেকে। সেই সুযোগ পেয়ে রাউন্ড অফ ১৬ তে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২ টি পেনাল্টি সেভ করে ভক্তদের কাছ থেকে পেয়ে যান সেইন্ট উপাধি। এরপর থেকে রিয়াল মাদ্রিদ আর স্পেনের সেইন্ট হয়েই ছিলেন। স্পেনের বিখ্যাত সোনালি প্রজন্মের ইউরো-বিশ্বকাপ-ইউরো জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে রোবেনের সাথে সেই ওয়ান অন ওয়ানের সেই অসাধারণ সেইভ ফুটবল ভক্তরা মনে রাখবে আজীবন। রেকর্ড ৫ বার IFFHS World’s Best Goalkeeper খেতাবের পাশাপাশি লা লিগা বেষ্ট গোলকিপার, যারোমা ট্রফি, বেস্ট ইউরোপিয়ান গোলকিপার, ফিফা প্রো একাদশ, ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ গোল্ডেন গ্লাভ, ফিফা বিশ্বকাপ ড্রিম টিম, উয়েফা টিম অফ দি ইয়ার, উয়েফা টিম অফ দি ইউরো এসমস্ত ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি ফুটবল ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য সকল শিরোপাই জিতেছেন। তাছাড়াও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি ঠেকানো গোলকিপার ক্যাসিয়াস। ক্যাপ্টেন হিসেবে ৩য় প্লেয়ার ইকার ক্যাসিয়াস যিনি ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ , চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন । চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে বেশী ক্লিনশিটের রেকর্ডও ইকারের। “মানুষ আমাকে ভালো গোলকিপার হিসেবে মনে রাখুক এইটা চাইনা , ভালো মানুষ হিসেবেই আমি স্মরণীয় হতে চাই” - নিজের এই কথা তিনি রাখতে পেরেছেন বলেই সকলের ভালোবাসা পেয়েছেন। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন ইকার ক্যাসিয়াস। পরবর্তীতে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে ক্যাসিয়াসের। ক্যাসিয়াসের ফুটবল পরবর্তী জীবনের জন্য রইল শুভকামনা।