• ফুটবল

এ যেন বদলে যাওয়া এক করিম বেনজেমা

পোস্টটি ৩৪৫ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

করিম মোস্তফা বেনজেমা- রিয়াল মাদ্রিদের এখনকার দলের প্রধান গোলস্কোরার। আছেন দারুণ ফর্মে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে ১৮ ম্যাচে করে ফেলেছেন ১২ গোল। লালিগার গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছেন সম্প্রতি, জিতেছেন আলফ্রেডো ডি স্টেফানো পুরস্কার। সাম্প্রতিক সময়ে মেসি-রোনালদো ছাড়া আর কেউ জিততে পারেন নি এ পুরস্কার, তাদের ছাড়া সর্বশেষ জিতেছিলেন রাউল, ২০০৭-০৮ মৌসুমে। গত মৌসুমে রিয়ালের লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন ৩৭ ম্যাচে ২১ গোল করে। নিজের ফর্মটা ধরে রেখেছেন এ মৌসুমের শুরুতেও।

এবার একটু পেছন ফিরে দেখা যাক। ২০১৬-১৭ মৌসুমে লালিগায় বেনজেমার গোল ১১ টা। পরের মৌসুমে ৩২ ম্যাচ খেলে গোল মোটে ৫ টা। সকল প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সেই দুই মৌসুমে বেনজেমা জাল খুঁজে পেয়েছেন যথাক্রমে ১৯ আর ১২ বার। গোলের জন্য ঘাম ছুঁটে যেত যেই বেনজেমার সেই বেনজেমাই এখন আছেন অসাধারণ ফর্মে। ২০১৮-১৯ আর ১৯-২০ দুই মৌসুমেই সমান ২১ টা করে গোল আর চলতি মৌসুমে ১৩ ম্যাচ খেলেই গোল ৮ টা। বেনজেমার কাঁধে ভর করেই ছুঁটে চলছে রোনালদোবিহীন রিয়াল মাদ্রিদ। বেনজেমার এমন বদলে যাওয়ার নেপথ্যের কাহিনীটা কী? একটু ব্যাখ্যা করা যাক।

রোনালদো থাকাকালীন শেষদিকের সময়টাতে রিয়াল মাদ্রিদের পাশাপাশি রোনালদোর ফর্মও ছিল দুর্দান্ত। টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী দলের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও করিম বেনজেমা ছিলেন আউট অফ ফর্ম। একের পর এক চান্স মিসে ভক্তদের বিরক্তির কারণ হয়েছেন। রোনালদোর গোলস্কোরিং এর কারণে খুব একটা টের পাওয়া যায় নি বেনজেমার এমন যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স। রোনালদো ক্লাব ছাড়ার পর রিয়ালের গোলস্কোরিং ক্ষমতা বেশ কমে গেছে, খুব স্বাভাবিকভাবেই। এরপরই যেন জ্বলে ওঠা শুরু বেনজেমার। ধারহীন আক্রমণে অনভিজ্ঞদের ভীড়ে কেবল বেনজেমাই ছিলেন অভিজ্ঞ। রোনালদো পরবর্তী প্রথম মৌসুমেই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গোল করেছেন ৩০ টা। অন্যদিকে আগের দুই মৌসুম মিলিয়ে গোল করেছিলেন ৩১ টা। পরের মৌসুমে ডাগআউটে জিদান ফেরার পরে ধরে রেখেছেন ফর্ম। লালিগা জয়ে রেখেছেন বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান। রোনালদোর স্থলাভিষিক্ত করার জন্য এডেন হ্যাজার্ডকে সাইন করালেও ইঞ্জুরির কারণে রিয়ালে এখনো নিজেকে মেলে ধরার সুযোগটাই পান নি হ্যাজার্ড। আক্রমণভাগে তাই বেনজেমার পাশে ভিনিসিউস-রদ্রিগো-এসেনসিও-ভাসকেজদের মত আনকোরারাই ভরসা। অনভিজ্ঞদের মাঝে অভিজ্ঞ বেনজেমা নিজেকে ফিরে পাওয়াতে লাভটা হচ্ছে রিয়ালেরই। গোল করার কম প্রবণতা নিয়েই গত মৌসুমেই জিতেছে লালিগা, এই মৌসুমেও শুরুটা করেছে ভালোই। ধারহীন আক্রমণভাগে প্রাণের সঞ্চার করছেন বেনজেমাই। আগের মত সহজ সুযোগ মিসের উদাহরণ আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তেমন একটা। মাঠে বেনজেমা এখন অনেক বেশি দায়িত্বশীল। প্রায় প্রতি ম্যাচেই গোলে অবদান রাখছেন। মূলত রোনালদোর অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের নেতৃত্ব আসার পর থেকেই বেনজেমার এই পরিবর্তন। গোলের জন্য রিয়ালের ভরসা এখন বেনজেমাই। ডাগআউটের স্বদেশি জিদান প্রিয় শিষ্যের উপর আস্থা রেখেছেন বরাবরের মতই, আর সেটার প্রতিদানও দিয়ে চলেছেন বেনজেমা। সমসাময়িক অনেকের চেয়ে কিছুটা কম প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে টেক্কা দিচ্ছেন সমানেসমান, ছাঁড়িয়েও যাচ্ছেন। অবাক করা ব্যাপার হলেও এটাই সত্যি। বর্তমান সময়ে কেবল ফর্মের বিচারে সেরা স্ট্রাইকারদের মধ্যেই থাকবেন বেনজেমা, কয়েক বছর আগেও যেটা ছিল আকাশ-কুসুম কল্পনা।

বেনজেমার সাম্প্রতিক ফর্ম আরো বেশি দীর্ঘস্থায়ী হোক- মাদ্রিদিস্তারা হয়ত এমনটাই প্রত্যাশা করেন। অনভিজ্ঞ আক্রমণভাগে গোলের জন্য এখন যে  বেনজেমাই মূল ভরসা। করিম বেনজেমার আগামী দিনগুলোর জন্য রইল শুভকামনা।