• ক্রিকেট

'মন্দ' কমেন্ট্রি নিয়ে কিছু 'ভালো' কথা

পোস্টটি ৬৯১ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

 

প্রশ্ন : ধারাভাষ্যের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা তাহলে শুধুই কাঁপুনির?

আতহার : সে কথা আর বলতে! ওরা আমাকে দুই দফায় আধঘণ্টা করে মোট এক ঘণ্টা কমেন্ট্রি করার সুযোগ দিয়েছিল। তো প্রথমবার মাইক্রোফোন হাতে নিয়েই দেখলাম আমার সঙ্গী কমেন্টেটর ইয়ান চ্যাপেল! পার্থের বাউন্সি উইকেটে কোনো দিন খেলা হয়নি। সেখানকার উইকেটে দুর্ধর্ষ কোনো ফাস্ট বোলারের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলে যেমন লাগত বলে অনুমান করি, ইয়ানের পাশে বসে ঠিক তেমন অনুভূতিই হচ্ছিল আমার। প্রথম কয়েক মিনিট তো মুখ দিয়ে কোনো কথাই বেরোচ্ছিল না!

 

: কালের কন্ঠে দেওয়া আতহার আলী খানের সাক্ষাৎকার, ২০১৪।

 

যেকোনো খেলায় আমরা কমেন্ট্রি শুনতে পছন্দ করি। যারা কমেন্ট্রি দেন সাধারণত, তাদের সবার আলাদা স্টাইল, বাচনভঙ্গি, আলোচনা ইত্যাদি আছে। সবারই আলাদা সেটা। আমরা কেন জানি সেটা ভাবতে পছন্দ করিনা। আমরা আমাদের মতো করে কাউকে কাউকে চাই বা ঠিক আমাদের মতো না, আমাদের চিন্তায় অন্য আলোচিত যারা বাস করে, তাদের মতো করে। এবং সেরকম হয় না বলে, আমাদের খুব রাগ হয়। আমরা তা প্রকাশ করি। আমরা বিভিন্নভাবে সেটা প্রকাশ করি যে, কেনো তারা আমাদের মতো করছে না বা আমাদের চিন্তায় যারা বাস করে, তাদের মতো করছে না। 

 

আমাদের কমেন্ট্রি ঠিক কতটা খারাপ নাকি আমরা খারাপ ভাবতে পছন্দ করছি ইদানীং। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমেন্ট্রি নিয়ে যেসব হাস্যরস তৈরি হচ্ছে, তার কতটুকু যৌক্তিক আর কতটুকু ভেসে যাওয়া বক্তব্য, যা সবাই দেয়। শেষ হওয়া বিপিএলে মৃত্যুঞ্জয়ের হ্যাট্রিকের সময়ে শামীম আশরাফ চৌধুরীর দেওয়া কমেন্ট্রি নাকি সেই হ্যাট্রিকের মূহুর্ত নষ্ট করে দিয়েছে। এরকম একটা কমেন্ট চোখে পড়ল। আতহার আলীর দেওয়া বিভিন্ন পরিচিত শব্দ নিয়ে আমরা যে আনন্দ পেতে চেষ্টা করি, সেটার কি কোন যৌক্তিকতা আছে কিনা। নাকি মজা যেহেতু করতে হবে, সেখানে যৌক্তিকতা খোঁজা কেনো -ধরনের বক্তব্য আমাদের এসব করতে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে!

820cf1e18bd529455b890ef6fed55e05_new_thumb

                                                        

আতহার আলী খান বা শামীম আশরাফ চৌধুরীরা তো কমেন্ট্রি করছেন বহুদিন। কিন্ত এই হাস্যরস ইদানীং আমাদের এত বেশি করার কারণ কি। এটা কেউ ভেবে দেখেছেন কি। যেহেতু অনেকদিন হয়ে গেছে তাদের কমেন্ট্রি ক্যারিয়ার, স্বাভাবিকভাবেই আগের চেয়ে উন্নতি হবে ধরে নেওয়া যায়। আগের চেয়ে তো অবনতি হবার কথা না অন্তত। তাহলে আমরা আগে কেন এসব নিয়ে কথা বলতাম না, আরো আগে। যখন তারা শুরু করলেন। শুরুর সময় নিয়েই তো সবসময় সমালোচনা হয়। নতুনদের নিয়ে সমালোচনা করা সোজা।

 

নাকি তখনও খুব সমালোচনা হতো আর যদি নাহয় তাহলে কি ভাববো যে, তখনকার দর্শকেরা খুব একটা সচেতন ছিলেননা, এখন তারা অনেক সচেতন হয়েছেন। অথবা তাহলে ধরে নিব কি যে, আতহাররা শুরুতে ভালো ছিলেন, এখন ঠিক ভালো করছেননা। যেটা আপনারা হঠাৎ করে ধরতে পারছেন। এই একবছর আগেও এত বিচলিত ছিলনা মানুষ তাদের কমেন্ট্রি নিয়ে, এখন তাদের আসলে কি হলো, জানতে পারলে ভালো লাগত।  

 

২০০৩ সালের মুলতান টেস্টের একটা ঘটনা। ম্যাচের এক পর্যায়ে অলক কাপালির ব্যাটে লেগে বল পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক রশিদ লতিফের কাছে। রশিদ লতিফের হাত থেকে বল পড়ে যাবার পরেও, সে ক্যাচ নিয়েছেন সেরকমভাবে উচ্ছাস প্রকাশ করেন। এবং অলক কাপালি আউট হয়ে ফেরেন। একদমই বিতর্কিত একটা সিদ্ধান্ত, বলা ভালো ভুল সিদ্ধান্ত। আতহার এবং রমিজ রাজা ছিলেন কমেন্ট্রি বক্সে।

 

আতহার বলছিলেন, এই ঘটনা বাংলাদেশের সাথে ঠিক হলোনা। রমিজ রাজা সেসময় বলেছিলেন, ‘টিপিক্যাল বাংলাদেশী কমেন্ট’, এর জবাবে আতহার বলেছিলেন,'অ্যান্ড ইটস টিপিক্যালি ডিসমিসিভ পাকিস্তানি কমেন্ট।' অনেকটা এরকমই ছিল তখনকার কমেন্ট্রি বক্সের পরিবেশ। যারা ভেসে যেতে যেতে তাকে নিয়ে অভিযোগ করেন আজকে, তারা সেটা সেসময় শুনলে আবার খুশিই হতেন। আরো অনেক সময়ই তো খুশি হয়েছেন এদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা। বলতেন, আতহারের সেই কমেন্ট্রি, এভাবে তারা স্মরণ করতেন কোন একটা জয় বা কোন একটা দেশী সেঞ্চুরির ঘটনা। এজন্যই আতহার নিজে এই ব্যাপারে বলেন, ইটস এ লাভ এন্ড হেইট রিলেশনশিপ! 

athar-ali-khan-commentator-of-World-Cup

                                                            

বিবিসি বাংলাতে কিছুদিন আগে আতহার আলী খানের একটা সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেখানে দর্শকদের প্রচলিত অভিযোগ নিয়ে আতহার আলীর বক্তব্য ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দের ছিল, এবং যুক্তিযুক্তও। 

 

তিনি অনেকটা এরকম বললেন- 

It's a love and hate relationship, hah! They will love you and they will hate you. স্বাভাবিক! To satisfy someone is difficult. অভিযোগ থাকবেই, সবসময় থাকবে, আগে থেকে ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। ... আমরা সবাই চেষ্টা করি। কম্পেয়ায় না করাটা ভালো। আতহার ভাই কি বললো, ড্যানি মরিসন কি বললো... This is us. This is me. I am from Bangladesh Man! 

 

যেমন কিছু শব্দ; ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি- এই কথাটা নিয়ে মজা করা যায় কোন সেন্স থেকে? আমি জানিনা। এখানে মজা করার আছেই বা কি। শামীম আশরাফ যদি বাংলার বসন্ত নিয়ে কমেন্ট্রি বক্সে বসে একটু রোমান্টিসিজম করে, সেখানে আসলে ক্ষতিটা কি বা সেটাকে শান্তভাবে না নিতে পারার কারণই বা কি! যাকগে, অস্থির সময়ে স্বস্তি খুঁজে বেড়ানো এবং সেটা পাওয়া খুবই কঠিন কাজ। যেহেতু আমরা জানিই না কে আসলে কি জন্য কোন কাজটা করছি, সেখানে এসবের উত্তর পাওয়া খুবই কঠিন হবে বলেই বোধ হয়।  তবুও আশা করি, একটু ভাবতে শিখবো, কিছু বলার আগে, লেখার আগে। যে কেনো বলছি, কেনো লিখছি।