• ক্রিকেট

ওয়ানডে দলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কি এখনও প্রয়োজনীয়?

পোস্টটি ৪৬৫ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

''2023 World Cup probably will be one of the biggest event for all of us, especially four of us [Me, Shakib, Mushfiqur and Mahmudullah] who most likely end there. We have to have the best possible combination and team going forward.''

প্রেস কনফারেন্সে আগেরদিন বলেছেন তামিম ইকবাল। পরিষ্কারভাবেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৩ বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় বেশ ভালভাবেই আছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, বাংলাদেশের বর্তমান যে ওয়ানডে দল সেখানে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কতটুকু প্রয়োজনীয়? কিংবা আদৌ প্রয়োজনীয় কিনা!

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে কথা হচ্ছে বহুদিন। ওয়ানডে দলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ উপযুক্ত নাকি উপযুক্ত নন, এসব নিয়েই করা হচ্ছে প্রশ্ন। কেউ বলছে, বর্তমান ওয়ানডে দলে রিয়াদের কোন প্রয়োজন নেই। কেউ বলছে, সিনিয়র ক্রিকেটার রিয়াদকে এই মুহুর্তেই সরানোটা ঠিক হবেনা। কিন্তু আসলেই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ থেকে কতটুকু উপকৃত হতে পারছে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ব্যাট করতে নামেন লোয়ার-মিডল অর্ডার কিংবা লোয়ার অর্ডারে। দলে রিয়াদের দায়িত্বটা অনেকটা এমন যে, তিনি নিচের দিকে নেমে দ্রুত কিছু রান তুলবেন। স্কোরের চাকা সচল করবেন।। স্কোরবোর্ডে অতিরিক্ত কিছু রান জোগাবেন। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কি সেটা আসলেই ঠিকঠাক করতে পারছে?

পারছেন কিনা সেটা বোঝার জন্যে আমরা এখন পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ বুলাব। যেহেতু দলে রিয়াদের রোল অনেকটা স্লগারের, তাই ২০১৭ সাল থেকে এখন অব্দি রিয়াদ ৫ বা তার পরের পজিশনে নেমে ৩০ ওভারের পরে রিয়াদের ব্যাটিংয়ের দিকে আমরা নজর দেব। নিচে ২০১৭ সালের পর থেকে ৩০ ওভারের পরে রিয়াদের ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট দেওয়া হল-

২০১৭- ৯৯.৬
২০১৮- ৯২
২০১৯- ৯৪.৯
২০২০- ৮৬.১
২০২১- ১০০
২০২২- ৮১.১

দেখা যাচ্ছে, মূলত স্লগিংয়ের উদ্দেশ্যে নামলেও ২০২১ সাল ছাড়া কোন বছরই রিয়াদের স্ট্রাইক রেট ১০০ পার করেনি। তবে এতে যদি আপনি অবাক হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার অবাক হবার এখনও বাকি আছে। সেটুকুর জন্যে আমি ৫ বা তার পরের পজিশনে নেমে ২০১৭ সাল থেকে এখন অব্দি ৩০ ওভারের পর থেকে রিয়াদের ডট বল খেলার হিসাবটা দিয়ে নেব-
২০১৭- ৪৪%
২০১৮- ৪৬.৫%
২০১৯- ৪২.৮%
২০২০- ৪০.৩%
২০২১- ৪১%
২০২২- ৩৬.৫%

আমি ঠিক জানিনা, আর কোথাও স্লগিংয়ের উদ্দেশ্যে ব্যাট করতে নেমে কোন ব্যাটসম্যান এমন অহরহ ডট বল খেলেন কিনা। একজন স্লগারের কাজটা কি? মূলত ডট বল কম খেলে দলের রানটা আরো বাড়িয়ে দেওয়া। সিঙ্গেল বের করে বাজে বলে বাউন্ডারি মেরে যেন দল অতিরিক্ত কিছু রান তুলতে পারে সেদিকে নজর দেওয়া। মূলত এ কাজেই একজন লোয়ার অর্ডার ব্যাটারকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের হয়ে এই দায়িত্বটা পালন করেন যে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তিনি তার দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যার্থ হচ্ছে। কোন বছরই রিয়াদের ডট বল খেলার হার কমছেনা। আর এটা কিন্তু বিপদে ফেলছে বাংলাদেশকেও। উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে দ্বিতীয় ওয়ানডের কথাই ধরা যাক। শুরুর ধাক্কার পর বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। পিচ পুরানো হতে শুরু করতেই বলগুলি আর শুরুর মত বাউন্স করছিল না। আফিফও আমার সে কথার সমর্থনেই দারুণ ব্যাটিং করেছিলেন। কিন্তু সেখানে রিয়াদ কি করলেন? দলের রান তো বাড়াতে পারলেনই না, উলটো ৪৪ বলে ২৫ রান করে আউট হওয়ার পর দলের চাপ বাড়িয়ে গেলেন।

তবে বাংলাদেশের সাথে এবারই যে এটা প্রথম হচ্ছে সেটাও কিন্তু নয়। প্রায়ই স্লগ ওভারে রান করতে ধুকছে বাংলাদেশ। আর সেটার দায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। আবার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে যে ‘ফিনিশার’ তকমা দেওয়া হয়, বিগত কয়েক বছরে সেই তকমাটারও কি প্রমাণ রাখতে পেরেছেন তিনি। এখানেও আমরা কেস-স্টাডিতে আনব ২০১৭ সাল থেকে খেলা ৫ বা তার পরের পজিশনে নামা ব্যাটিংকে।

২০১৭ সালে তিনি ৫ বা তার পরে ব্যাটে নেমেছিলেন ১২ ইনিংসে, যার মধ্যে মাত্র ৭ ইনিংসেই তিনি ৪০ ওভার অব্দি টিকে ছিলেন। তবে এই টেকাতেও অবশ্য কোন কাজ হয়নি, সাত ইনিংসের মধ্যে তিন ইনিংসেই তিনি ম্যাচ শেষ না করেই আউট হয়ে যান। ২০১৮ সালেও রিয়াদের ক্যারিয়ারে একই চিত্রনাট্য। ১৬ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮ ইনিংসে তিনি ৪০ ওভার অব্দি টিকতে পেরেছিলেন, যার মধ্যে ৫ ইনিংসেই আবার ম্যাচ শেষ না করেই চলে আসতে হয় তাকে। এভাবে ২০১৯,২০২০,২০২১ আর ২০২২ সালে তিনি ৫ বা তার পরের পজিশনে ব্যাট করতে নেমেছিলেন যথাক্রমে ১৫,২,১১ আর ৫ ইনিংসে। এর মধ্যে ৪০ ওভার অব্দি তিনি টিকে ছিলেন যথাক্রমে ৮,২,৬ আর ৩ ইনিংসে। তবে এসব ইনিংসের মধ্যেই তিনি ম্যাচ শেষের আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন ২,৪ আর ১ ইনিংসে।

তার মানে যেটা দাঁড়াল, লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে বেশিরভাগ সময়ই তিনি ‘ফিনিশার’ তকমাটার প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেন তো তিনি ফিরে আসছেনই, বরং অধিকাংশ ম্যাচেই তিনি ৪০ ওভার অব্দি টিকতেই পারছেন না। আবার অন্যদিকে, লোয়ার মিডল অর্ডারে নেমে দ্রুত রান তোলার কাজটাও তিনি ঠিকঠাক করতে পারছেন না।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দলে জায়গা নিয়ে তাই যে ফিশফাস শোনা যায়, সেটা একেবারেই মিথ্যা নয়।

(সকল পরিসংখ্যান উইন্ডিজ সিরিজ শুরুর আগ অব্দি)

#BangladeshCricket #MahmudullahRiad #CWC23 #BCB