• দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলংকা সিরিজ
  • " />

     

    শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়ে ক্রিকেট রূপকথায় পেরেরা

    ডারবান টেস্ট 
    দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩৫ ও ২৫৯ (ডু প্লেসি ৯০, ডি কক ৫৫, এমবুলদেনিয়া ৫/৬৬, ফার্নান্ডো ৪/৭১)
    শ্রীলঙ্কা ১৯১ ও ৩০৪/৯ (পেরেরা ১৫৩*, ডি সিলভা ৪৮, মহারাজ ৩/৭১) 
    শ্রীলঙ্কা ১ উইকেটে জয়ী 



    ১৫৩*। ৩০০-পেরুনো লক্ষ্য। যখন সব আশা ফুরিয়ে যায়, যখন কারও প্রয়োজন হয় অতিমানবীয় কিছুর, তখন ফিরে ফিরে আসে সেই অপরাজিত ১৫৩ রানের ইনিংস, ফিরে আসে ব্রিজটাউন, ফিরে আসেন একজন ব্রায়ান চার্লস লারা। ডারবানে আরেক বাঁহাতি কুশাল জেনিথ পেরেরার রুপে যেন ফিরলেন তিনি। নাটকীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা, শেষ উইকেটে বিশ্ব ফার্নান্ডোর সঙ্গে পেরেরা যোগ করেছেন ৭৮ রান। যা চতুর্থ ইনিংসে ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে যে কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচেই দশম উইকেটে সর্বোচ্চ রান। যেখানে ফার্নান্ডোর অবদান ৬ রান, এর মধ্যে ৪ রান এসেছে ওভারথ্রোতে। আর পেরেরা? স্রেফ অতিমানব! তিনি ঢুকে গেছেন ক্রিকেটীয় রূপকথায়। 

     

     

    ডারবানে আগেরদিন ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন পেরেরা। সামনে ছিল এক সমুদ্র দূরত্ব। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার সঙ্গে ৬ষ্ঠ উইকেটে ৯৬ রানের জুটিতে শ্রীলঙ্কাকে দারুণ আশা জুগিয়েছিলেন পেরেরা। তবে কেশব মহারাজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন ডি সিলভা, দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ফিরল দারুণভাবে। এরপর ২০ রানের ব্যবধানে নেই ৪ উইকেট। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফার্নান্ডো যখন নামেন, তখনও জয় থেকে শ্রীলঙ্কার দূরত্ব ৭৮ রানের। দক্ষিণ আফ্রিকার জয় তখন সময়ের ব্যাপার। আর পেরেরার সামনে ছিল শুধু একটিই পথ- যে পথে এগুলে ছোঁয়া যায় রূপকথা! 

    পেরেরা জানতেন, বড় শট ছাড়া উপায় নেই। এগুলেন সে পথেই। মহারাজের লেংথ বলে লং-অন দিয়ে ছয়ে শুরু, যে শট পেরেরাকে নিয়ে গেল নব্বইয়ের ঘরে। এরপর মহারাজকে চার, অলিভিয়ারকে ছয়। সঙ্গে পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক দেন ফার্নান্ডোকে, যিনি সেটা ঠেকিয়ে স্ট্রাইক ফেরত দেন পেরেরাকে। যে কোনও ইতিহাসে নায়কের সঙ্গে থাকেন এমন এক পার্শ্বনায়ক, যার কথাটা আগে না বলা হলেও তার উপস্থিতি অনিবার্য। ব্রিজটাউনে কোর্টনি ওয়ালশ যেমন ছিলেন, ফার্নান্ডো ডারবান-ইতিহাসে ছিলেন সেই জন। 

    এর আগে মহারাজকে রিভার্স সুইপে ৯৯-এ গেছেন পেরেরার, সিঙ্গেল নিয়ে পূর্ণ করেছেন সেঞ্চুরি। ৮১তম ওভারের শেষে দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, তবে তাতে থোড়াই কেয়ার করেছেন পেরেরা। এ এমন এক ইনিংস, যেদিন ডেল স্টেইনও নতুন বলে হন নিষ্পেষিত। তার লেংথ বল তাই আছড়ে পড়ে উড়ে গিয়ে স্কয়ার লেগের ওপারে! 

    সেই স্টেইনকে আরেক ছয় মেরেই জয়টা এক শটের দূরত্বে আনলেন পেরেরা। তবে উইকেটের ব্যবধান যখন মাত্র একটি, তখনও তো কাজ বাকি অনেক। অবশ্য এদিন পেরেরার হারতে পারেন না যেন। লেগবাইয়ে দুই রান এলো, এরপর রাবাদার অফস্টাম্পের বাইরের বলে থার্ডম্যান দিয়ে খেললেন পেরেরা। আর ঢুকে গেলেন ইতিহাসে! 

    অথচ এই শ্রীলঙ্কা এই সফরের আগে বাদ দিয়েছে তাদের অধিনায়ককে, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাগে পেয়েও চেপে ধরতে পারেনি, ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। তৃতীয় দিন শেষে তাই নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ দিন ৯ম উইকেট পড়ার পরও জয়টা ছিল ‘প্রায়’ নিশ্চিত। 

    তবে ব্রিজটাউন বা ডারবানে পার্থক্য গড়ে ওঠ ওই ‘প্রায়’-তেই। যেদিন লারা বা পেরেরা হয়ে ওঠেন অতিমানব!