• " />

     

    ২২ গজের সেলুলয়েডঃ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

    ছবির পরে ছবি চলে নাকি তৈরী হয় সিনেমা। ক্রিকেট ম্যাচও তো তাই। টুকরো টুকরো অসংখ্য ছবি জন্ম নেয় যেখানে। ২২ গজ আর সবুজ ওই উদ্যানের ছবিগুলোকে যদি ধরা যেত সেলুলয়েডে!

     

     

    স্ট্যাম্পড চাকাভা!

     

    সিকান্দার রাজার বলটা মিস করেছিলেন ইমরুল, ক্রিজে ফেরার সময় পাননি আর। গ্রায়েম ক্রিমারের বলটা কাট করতে চেয়েছিলেন তামিম, সফল হননি ঠিক। বের হয়ে এসেছিলেন ক্রিজ থেকে, ফিরে যাওয়া হয়নি আর! মুশফিকুর রহীমও ক্রিজ ছেড়ে এলেন, ব্যাটই ছোঁয়াতে পারলেন না ম্যালকম ওয়েলারের বলটিতে। রেজিস চাকাভার গ্লাভস ব্যস্ত থাকলো তিনবারই, বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই যে স্ট্যাম্পড হলেন!

     

     

    লিটন লিটন ভাগ্য!

     

    এসেই তুলে মেরেছিলেন কাউ-কর্নারে, বলটা পড়েছিল ফিল্ডারের একটু সামনে! ওয়েলারকে মিড-অফ দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছিলেন, এল্টন চিগুম্বুরা ধরতে পারলেন না! খারাপ সময়ে ভাগ্য তাহলে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি লিটনের! এরপর একটা বাউন্ডারি মারলেন এক্সট্রা কাভার দিয়ে, ইনসাইড আউট করে। অবশেষে কি ওয়ানডেতে বড় ইনিংসের দেখা পাচ্ছেন লিটন! নাহ্‌, ওই এক্সট্রা কাভারেই ওয়েলিংটন মাসাকাদজা নিলেন অসাধারণ এক ক্যাচ, ভাগ্যের ছোঁয়া পেলেন না এবার আর লিটন দাস!

     

     

    নাটক

     

    ফিল্ডারের সরাসরি থ্রো যখন স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দিলো, মাহমুদুল্লাহ্‌ তখনও ক্রিজের বাইরে। আউট! এরপরই দেখা গেল, রেজিস চাকাভা একটা ভুল করেছিলেন, বল স্ট্যাম্পে লাগার আগেই বেল পড়ে গিয়েছিল তাঁর হাত লেগে! প্রায় ড্রেসিংরুমের দরজা থেকে ফিরে এলেন মাহমুদুল্লাহ্‌, খুশীমনেই নিশ্চয়ই! তবে এবার খুশী হলেন না এল্টন চিগুম্বুরা! চাকাভা যে নিজের ‘ভুল’ বুঝতে পেরে স্ট্যাম্প তুলে ফেলেছিলেন, তবে ততক্ষণে বল হয়ে গেছে ডেড! প্রথমে আম্পায়ার আলীম দারের সঙ্গে কথা বললেন, ড্রেসিংরুম থেকে বার্তা এলো, সব খেলোয়াড়কে একত্র করে চললো ‘আলোচনা’!

     

    শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ফিরলো জিম্বাবুয়ে, মাহমুদুল্লাহ্‌ পেলেন বিশ্বকাপের পরে প্রথম ফিফটি। শেষ পর্যন্ত আউট হলেন ওই চাকাভার হাতেই, রানআউটই! 

     

     

    ম্যাশছোঁয়া!

     

    নবম ওভারটা করার কথা ছিল মুস্তাফিজুর রহমানেরই। মাশরাফি শেষ মুহুর্তে সিদ্ধান্ত বদলে আনলেন নাসির হোসেনকে। চতুর্থ বলেই এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেললেন ক্রেইগ অরভিনকে!

     

    চিগুম্বুরা আর শন অরভিনের জুটিটা তখন জমে উঠেছে। মাশরাফি এবার আনলেন সাব্বির রহমানকে। প্রথম ওভারে একটি বাউন্ডারি সহ দিলেন ছয় রান। তবে পরের ওভারেই নিলেন চিগুম্বুরার উইকেটটি, ঝুলিয়ে দেওয়া বলটা বুঝে ওঠার আগেই যে ছত্রখান জিম্বাবুইয়ান অধিনায়কের উইকেট!

     

     

    সাব্বির যান উড়ি উড়ি!

     

    মুস্তাফিজুরের বলটা রাজা খেলতে পারলেন না ঠিক মনমতো। উঠে গেল মিড-অফে। তবে সেখানে কেউ নেই, রাজা কি স্বস্তিতে ছিলেন একটু? সাব্বির ছিলেন মিড-অনে, দৌড় দিলেন, শেষের অংশটুকু আসলে উড়লেন! এর আগে এনামুল অসাধারণ একটা ক্যাচ নিয়েও রাখতে পারেননি শেষপর্যন্ত, সাব্বিরের হাত থেকে কিন্তু ছুটলো না বল! আনন্দে সাব্বিরকে দুহাতে ওপরে তুলে ধরলেন মুশফিক, সাব্বির তো উড়ছিলেন আসলে!

     

    পরের বলেই আবার উঠলো ক্যাচ, ওই সাব্বিরের কাছেই। আগের বলেই অমন এক ক্যাচ ধরেছেন যিনি, তিনি কি আর মিস করেন এই ডালভাত!

     

     

    স্লিপভর্তি ফিল্ডার

     

    আট উইকেট নেই জিম্বাবুয়ের, ম্যাচ থেকেও প্রায় ছিটকে গেছে জিম্বাবুয়ে। স্ট্রাইকে টাউরাই মুজুরাবানি, মাশরাফি স্লিপে আনলেন সাত ফিল্ডারকে! কিপারসহ আটজন, স্লিপ-কর্ডন তো ভর্তি তখন, ওয়ানডে ম্যাচেই!

     

    আক্রমনাত্মক বা প্রাধান্যবিস্তার, যাই বলুন, মাশরাফি বিন মর্তুজার দল তো গোটা সিরিজেই তা করেছে জিম্বাবুয়ের ওপর!

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন