• ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
  • " />

     

    • ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯

    'মুশফিকের মিস নয়, সবচেয়ে বড় ভুলটা ব্যাটিংয়ে'

    মুশফিকুর রহিমের চোখেমুখে অপরাধবোধ। সঙ্গে বিস্ময়। তামিম ইকবাল তাকে বোঝাচ্ছেন, ভুলটা কোথায় হয়েছে। পাশ থেকে মোসাদ্দেক হোসেন সমর্থন জানাচ্ছেন তামিমকে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসান ব্যাপারটা বুঝেছেন আগেই, তাদের মাথায় হাত। কেন উইলিয়ামসন রান-আউট হতে পারতেন বেশ বড়সড় ব্যবধানে, তবে থ্রো আর স্টাম্পের মাঝে চলে এসেছিল মুশফিকের গ্লাভস। তিনি ছেড়েও দিলেও বলের ট্র্যাজেকটরি অনুযায়ী সেটা সরাসরি লাগার কথা ছিল স্টাম্পের। তার আগেই মুশফিকের হাত লেগে উঠে গেছে বেইলস, শেষ পর্যন্ত তাই রান-আউট হননি উইলিয়ামসন। 


    যেভাবে রোমাঞ্চ ছড়ালো ওভালে


    উইলিয়ামসনের রান তখন ছিল ৭, নিউজিল্যান্ড বনে যেতে পারতো ৩ উইকেটে ৬১ রান। টেইলর-উইলিয়ামসনের জুটি ছিল তখন ৫ রানের, শেষ পর্যন্ত সেটা গেছে ১০৫ রানে। ২৪৪ রানের সম্বল নিয়েও অনেক লড়াই করা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত আটকাতে পারেনি নিউজিল্যান্ডকে। মুশফিকের সেই মিস না হলে ম্যাচের পরিস্থিতি অবশ্যই হতে পারতো ভিন্ন। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা অবশ্য বলছেন, ম্যাচের পরিস্থিতি এমন হওয়ার পেছনে মূল দায়টা মুশফিকের ওই মিসের নয়, বরং তাদের বড় ভুলটা হয়েছে ব্যাটিংয়ে। 

    মুশফিকের রান-আউট মিসকে তিনি দেখতে চান পেশাদার ক্রিকেটারের ভুল হিসেবেই, “সে পেশাদার ক্রিকেটার। এমন নয় যে সে আগে ভুল করেনি। ভুল সবারই হয়। যেমন আগের ম্যাচেও দেখেন, সৌম্য একটা সহজ ক্যাচ ছেড়েছিল। সবার ক্ষেত্রেই হয়। মুশফিকের ক্ষেত্রেও হয়, আরও হবে।



    “আমরা দলের পক্ষ থেকে কাউকে দোষ দিতে আসিনি, নিজেদের সেরাটা খেলতে এসেছি। আমি নিশ্চিত মুশফিকও এটা জানে। টেইলরের যে ক্যাচটা ধরেছে এরপর, গ্রান্ডহোমের ধরেছে একটা। আমি মনে করি না, মুশফিকের ওপর চাপ প্রয়োগ করার দরকার আছে। তার নিজেরও এসব ভাবার দরকার আছে। পরদিন ভাল কিছু হলেই দেখবেন সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে।

     

     

    “থ্রোটা সোজা ছিল। তবে কিপার হিসেবে এটা বোঝা কঠিন। সে বলটা ধরতে গিয়েছিল। এরপর কোথায় লাগলো : কনুই? এসব ভুল হয় মাঠে। আমার মনে হয় না তার পেছনে ছোটা উচিত আমাদের।" 

    ম্যাচের টার্নিং পয়েন্টের একটিকে মাশরাফি বলছেন মুশফিকের রান-আউটকে। টেইলরের রান-আউট মিস নয়, ব্যাটিংয়ে সাকিবের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝিতে তার রান-আউট হওয়াটাকে। মুশফিকের কলে প্রথমে সাড়া দিলেও পরে না করেছিলেন সাকিব, তবে সময় মতো ফিরতে পারেননি মুশফিক, “টার্নিং পয়েন্ট আউট রান-আউটটা (মুশফিকের রান-আউট)। তারা থিতু হচ্ছিল। এরপর সেটা ঘটলো (ভুল বুঝাবুঝি)। সাকিব মিঠুনের জুটির পর তারাও আউট হলো। সে দুটির যে কোনও একটি ৮০-১০০ তে গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। 

    এমন ‘ক্লোজ’ ম্যাচে কোনও সুযোগই হাতছাড়া করা উচিৎ নয় বলেও মনে করেন তিনি, “সব সুযোগই আপনাকে নিতে হবে। তবে খেলায় এমন হয়, ভুল হয়। আমার মনে হয়, বড় ভুলটা আমরা ব্যাটিংয়ে করেছি। থিতু হয়েও আউট হয়েছি। ২০-৩০ রান বেশি করলে ভিন্ন একটা ম্যাচ হতো। উইকেট একই ছিল, তবে আউটফিল্ড ছিল বেশ ধীরগতির।”

    আর মুশফিকের রান-আউটসহ পুরো ম্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরা টেইলর বলছেন, ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল এদিন, “আমরা ভাগ্যবান ছিলাম। আমার রান-আউটের সুযোগটা দেখেন। জিমিরটা (নিশাম) দেখেন, সেন্টিমিটারের ব্যবধান ছিল। ইঞ্চির ব্যাপার ছিল। এসব খেলার অংশ।”