• পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
  • " />

     

    বিপিএলের নিয়ম পরিবর্তনে 'বিরক্ত' মুডি-জয়াবর্ধনে

    সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস থেকে রংপুর রাইডার্সে নাম লেখানোর পর থেকেই বিপিএলে অস্থিরতা শুরু। ৪ আগস্ট গভর্নিং কাউন্সিল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এবারের আসর থেকে নতুন করে সবাইকে নিবন্ধন করতে হবে। যার মানে সাকিবের রংপুরে নাম লেখানোটা আইনগতভাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না বিসিবি। এসবের মধ্যেই অবশ্য সবগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে নতুন আসরের দল গঠনের জন্য চিঠি যাওয়ার কথা। রংপুর এর মধ্যেই কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজির মনোভাব অনেকটা কাছাকাছি। এবার রংপুর রাইডার্স কোচ টম মুডি ও খুলনা টাইটান্সের কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনেও বললেন, বার বার নীতি পরিবর্তন করা হলে সেটা বিপিএলের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

    কদিন আগেই মিরপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল বলেছিল, প্রথম ছয় বছরের চক্র শেষ হয়ে যাওয়ার পর এবার থেকে বিপিএলের নতুন চক্র শুরু হবে। সেজন্য এবার সব খেলোয়াড়কেই নিলামে বা ড্রাফটে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। অথচ বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এর মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে দল গোছানোর। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও এবারের আসরের জন্য প্রস্তুতি নিতেও মাস কয়েক আগে বিসিবি থেকে বলা হয়েছে। হুট করে বিসিবির এরকম সিদ্ধান্তে তাই বেশ বিরক্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

    অথচ গত বছরও আইকন প্লেয়ারদের নিজেদের ইচ্ছেমতো দলবদল করতে কোনো বারণ ছিল না। সাকিব নিজেই এভাবে রংপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন তারও আগে। তবে ঢাকা ডায়নামাইটসের অভিযোগ, সাকিবের দলে ভেড়ানোর ব্যাপারে তারা কিছু জানেন না। এদিকে মাশরাফি বিন মুর্তজাকেও কিছু না জানিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে রংপুর, এমন গুঞ্জনও আছে।

    তবে বিপিএলের এসব অভিযোগ নিয়ে নিজের বিরক্তিটা চেপে রাখতে পারেননি রংপুর কোচ মুডি, ‘গত ১২ বছর ধরে আমি বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগের সঙ্গে জড়িত। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলোর একটি হচ্ছে প্লেয়িং কন্ডিশন ও বিদ্যমান আইনের ধারাবাহিকতা। শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি বা ম্যানেজমেন্টের জন্য নয়, সমর্থক গোষ্ঠীরও জানা দরকার তারা কোন স্থানীয় বা বিদেশী খেলোয়াড়কে সমর্থন দিতে যাচ্ছে। কিন্তু এখানে যদি নিয়ম এরকম নিয়মিতভাবে পরিবর্তন করা হয় তাহলে টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগতা নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রশ্ন উঠতে পারে।’

    ২০১৭ থেকে খুলনার কোচের দায়িত্ব পালন করছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। তার কথায়ও কাছাকাছি সুর, ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্ট চালু থাকায় অবস্থায় যদি প্রতি বছর নিয়ম পরিবর্তন করা হয় তাহলে এটা স্বাস্থ্যকর কিছু নয়। বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দেখতে পাবেন তাদের নির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক কিছু নিয়ম আছে। এটাই আসলে সবার জন্য স্বচ্ছ হবে।’