• পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
  • " />

     

    • পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড সিরিজ

    পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৯ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল নিউজিল্যান্ড

    তৃতীয় টেস্ট, আবুধাবি 
    নিউজিল্যান্ড ২৭৪ ও ৩৫৩/৭ ডিক্লে. (উইলিয়ামসন ১৩৯, নিকোলস ১২৬*, ইয়াসির ৪/১২৯)
    পাকিস্তান ৩৪৮ ও ১৫৬ (বাবর ৫১, সরফরাজ ২৮, সমারভিল ৩/৫২, প্যাটেল ৩/৪২) 
    নিউজিল্যান্ড ১২৩ রানে জয়ী ও সিরিজ ২-১ এ জয়ী


    পাকিস্তানকে দেশের বাইরে শেষবার নিউজিল্যান্ড সিরিজ হারিয়েছিল ৪৯ বছর আগে। ২০১০ সালে আরব আমিরাতকে ‘ধার করা ঘর’ বানানোর পর থেকে এখানে মাত্র একটি সিরিজ হেরেছিল পাকিস্তান, গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সে তালিকায় দ্বিতীয় দল হিসেবে যুক্ত হলো নিউজিল্যান্ড। আবুধাবিতে যে টেস্টে তারা প্রায় ছিটকেই গিয়েছিল গতকাল পর্যন্ত, সেটাতেই তাদের প্রত্যাবর্তনটা হলো রাজসিক। ২৮০ রানের লক্ষ্যে বর্ধিত চা-বিরতির কিছুক্ষণ আগেই ১৫৬ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান। ১-০ এর লিডটা হারিয়ে ফেলা নিউজিল্যান্ড ৩ ম্যাচের সিরিজ শেষ পর্যন্ত জিতে নিয়েছে ২-১ ব্যবধানে। ম্যাচে ১২৭ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন অভিষিক্ত উইলিয়াম সমারভিল, প্রথম টেস্টে নিউজিল্যান্ডের নায়ক ছিলেন আরেক অভিষিক্ত স্পিনার আজাজ প্যাটেল। 

    শেষদিনের শুরুটা পাকিস্তানের জন্য ছিল দারুণ আশাজাগানিয়া, তবে প্রথম সেশনই ঠিক করে দিয়েছিল শেষদিনের খেলার গতিপথটা। দিনের প্রথম বলেই হাসান আলির বলে এলবিডব্লিউ হয়েছিলেন ১৩৯ রান করা নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তবে পাকিস্তানের আশা মোটামুটি শেষ সেখানেই, হেনরি নিকোলস এরপর স্টিম-রোলার চালালেন তাদের ওপর। ২৪৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর পরের ২৬ রান তিনি করেছেন ১৮ বলে। সঙ্গে যোগ দিলেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও টিম সাউদি, দুজন যথাক্রমে করলেন ১৯ বলে ২৬ ও ১০ বলে অপরাজিত ১৫। গ্র্যান্ডহোমের পর বিজে ওয়াটলিংয়ের উইকেট নিয়েছেন ইয়াসির শাহ, পরে হয়েছেন সিরিজসেরাও। তবে শুধু ব্যক্তিগত অর্জনেই খুশি থাকতে হলো তাকে। ৯ ওভারে ৮১ রান তুলে পাকিস্তানকে ২৮০ রানের লক্ষ্য দিয়ে ইনিংস ঘোষণা করলো নিউজিল্যান্ড। 

    এরপর পাকিস্তানের ওপর চড়ে বসলো নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকরা লাঞ্চে গেল ৫৫ রানে, ৫ উইকেট হারিয়ে। সাউদির শর্ট অব আ লেংথ থেকে ভেতরের দিকে ঢোকা বলে বোল্ড ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসে নামা হাফিজ, ডি গ্র্যান্ডহোমের লাইন ধরে রাখা বলে এজড আজহার আলি। এরপর দৃশ্যপটে হাজির উইলিয়াম সমারভিল। অফস্টাম্পের বাইরে থেকে টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া বলে আগবাড়িয়ে খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিলেন বাঁহাতি হারিস সোহেল, ফরোয়ার্ড ডিফেন্সিভ শট খেলতে গিয়ে ব্যাট-প্যাড আসাদ শফিক। একপ্রান্ত আগলে ছিলেন ইমাম-উল-হক, তার ৫৪ বলের দৃঢ়তা ভাঙলো আজাজ প্যাটেলের বলে ব্যাট-প্যাডে ক্যাচ দিয়ে। 

    নিউজিল্যান্ড ও সিরিজ জয়ের মাঝে এরপর ব্যবধান হয়ে ছিলেন শুধু বাবর আজম। সরফরাজ আহমেদ টিকলেন ১৫ ওভারের মতো, তবে তাড়াহুড়ো করছিলেন যেন তিনি। সমারভিলের তীক্ষ্ণ টার্নে ব্যাট নামানোর সময় না পেয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক হয়েছেন বোল্ড, মুখোমুখি হওয়া ৪১তম ডেলিভারিতে। বিলাল আসিফ সঙ্গ দিচ্ছিলেন ভালই, সাউদির সেট-আপে ধরা পড়েছেন তিনি। শর্ট বলে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিলেন, এরপর ফুললেংথের বলে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন উইকেটের পেছনে। ইয়াসিরের অবস্থাও সেরকমই, শর্ট বল চেস্ট গার্ডে সামলানোর পর ভড়কে গেলেন আরেকটিতে, কাভারে পরিণত হলেন সহজ ক্যাচে। 

    বাবর এরপর ফিফটি করলেন, স্লিপে সমারভিলের বলে ক্যাচ তুলেও জীবন পেলেন টেইলরের হাতে। চা-বিরতি পিছিয়ে দেওয়া হলো ১৫ মিনিট, বাবরের ধৈর্যের বাধ ভাঙলো। প্যাটেলকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে খেলতে গিয়ে বলের পিচ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেন না, মিড-অফ থেকে দৌড়ে যাওয়া সাউদি নিলেন ভাল ক্যাচ। শাহিন শাহ আফ্রিদির ক্যাচ ছাড়লেন জিট রাভাল। তবে নিউজিল্যান্ডের দারুণ জয় তখন সময়ের অপেক্ষা, চার বল পর প্যাটেলকে একইভাবে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন হাসান আলি। উল্লাসে মাতলো নিউজিল্যান্ড দারুণ এক অর্জনে। 

    ২০০৮ সালে বাংলাদেশকে হারানোর পর এশিয়ার মাটিতে নিউজিল্যান্ডের এটি প্রথম সিরিজ জয়।