• টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
  • " />

     

    ফাহিমা-নাহিদায় পিএনজি শঙ্কা কাটালো বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ ১০৩/৮, ১৬.৩ (১৭) ওভার (ফাহিমা ৩২*, সানজিদা ১৯, জিমি ৩/১০, ওয়া ২/১৭) ; পিএনজি (লক্ষ্য ৫৯) ৫২/৫, ৮(৮) ওভার (রুমা ১২, নাহিদা ৩/১০, রিতু ২/৯)
    বাংলাদেশ ডিএলে ৬ রানে জয়ী


    বৃষ্টি এসে বাগড়া বাধিয়েছে বারবার, পিএনজিও হুমকি দিয়েছে বেশ। তবে সেসব কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় জয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ উইমেন। রিতু মনির ২ উইকেটের ওভারের পর নাহিদা আকতারের ২ উইকেটের শেষ ওভারে পিএনজিকে ৫২ রানে আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ। 

    ৮ ওভারে ডিএলে বদলে যাওয়া ৫৯ রানের নতুন লক্ষ্যে শুরুটা দারুণ করেছিল পিএনজি। দুই ওপেনার সিবোনা জিমি ও নাওয়ানি ভেয়ার প্রথম ২ ওভারেই তুলেছিলেন ১৪ রান। জাহানারাকে কাভার দিয়ে চার মেরেছিলেন জিমি, সালমাকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে মেরেছিলনে ভেয়ার। বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছিলেন নাহিদা, চতুর্থ ওভারে তাকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হয়েছিলেন জিমি। সে ওভারেই মিডউইকেট দিয়ে ছয় মেরে পিএনজিকে আশা জুগিয়েছিলেন কোনিও ওয়ালা। 

    পঞ্চম ওভারে এসে জোড়া উইকেট নিয়েছেন রিতু। প্রথমে মিড-অফে ক্যাচ দিয়েছেন ভেয়ার, এরপর ফুলটসে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ওয়ালা। বাংলাদেশ অবশ্য পিএনজিকে দ্রুতই ছিটকে দিতে পারতো ম্যাচ থেকে, তবে একটি স্টাম্পিং ও একটি রান-আউটের ক্লোজ সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেছে বাংলাদেশের। 

     

     

    ৭ম ওভারে সালমার কাছ থেকে ১৪ রান তুলেছে পিএনজি, টানিয়া রুমা ও ব্রেন্ডা টাউ মেরেছেন একটি করে চার। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১১ রান। স্নায়ু ধরে রাখেননি শুধু সেখানে নাহিদা, নিয়েছেন ২ উইকেট। প্রথম বলে সিঙ্গেল, দ্বিতীয় বলে স্টাম্পড হয়েছেন টাউ। চতুর্থ বলে তুলে মারতে গিয়ে ফাহিমার হাতে ক্যাচ দিয়েছেন রুমা, কার্যত পিএনজির আশা শেষ হয়ে গেছে সেখানেই। 
     


    ফোর্টহিলের ঠান্ডা দিনে টসে জিতে এর আগে ফিল্ডিং নিয়েছিল পিএনজি। বৃষ্টির কারণে পিছিয়ে গিয়েছিল খেলা, ম্যাচ নির্ধারিত ছিল ১৭ ওভারে। আগেরদিন স্কটল্যান্ডকে থমকে দেওয়া পিএনজি এদিনও শুরুতে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশকে। মেঘাচ্ছন্ন কন্ডিশনে বলের মুভমেন্ট পাচ্ছিলেন পিএনজি পেসাররা, তাতেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। 

    শুরুটা হয়েছিল আয়েশা রহমানকে দিয়ে, নাতাশা আমবোকে খোঁচা দিয়ে তিনি হয়েছেন কট বিহাইন্ড। এরপর ৫ রানের ব্যবধানে ফিরেছেন নিগার সুলতানা ও রিতু। নিগার কট-বিহাইন্ড হয়েছেন রাভিনা ওয়ার বলে, রিতু হয়েছেন রান-আউট। একপাশ আগলে ছিলেন সানজিদা ইসলাম, জিমির বলে তিনি এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে তিনি  করেছেন ৩২ বলে ১৯ রান। তার পর শাইলা শারমিন রান-আউট হলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৫ উইকেটে ৪৬ রানে। 

    দুর্দশা এরপর বেড়েছে শুধু। ফারজানা, জাহানারা, সালমারা ফিরেছেন দ্রুতই। প্রথমজন ওয়ার বলে ক্যাচ দিয়েছেন, পরের দুজন শিকার জিমির। ৭৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে অক্সিজেন দিয়েছেন ফাহিমা খাতুন। 

    ফারজানার সঙ্গে ফাহিমার জুটিতে উঠেছে ১৬ রান, জাহানার সঙ্গে ১৭ রান। ৯ম উইকেটে নাহিদাকে নিয়ে ফাহিমা তুলেছেন আরও ২৪ রান। তিন বল বাকি থাকতে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ফাহিমা অপরাজিত ছিলেন ১৮ বলে ৩২ রানে, মেরেছেন ৫টি চার। একটি চার তিনি মেরেছেন র‍্যাম্প শটেও। শেষ পর্যন্ত নাহিদার বোলিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সে ইনিংসই। 

    গ্রুপপর্বে ২ ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৪, শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের, মঙ্গলবার। পিএনজি ও স্কটল্যান্ডের পয়েন্ট ২ করে, তবে নেট রানরেটে বেশ এগিয়ে বাংলাদেশ।