• অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলংকা সিরিজ
  • " />

     

    জন্মদিনে সেঞ্চুরি দিয়েই অস্ট্রেলিয়ায় ফেরাটা স্মরণীয় করলেন ওয়ার্নার

    জন্মদিনে সেঞ্চুরি দিয়েই অস্ট্রেলিয়ায় ফেরাটা স্মরণীয় করলেন ওয়ার্নার    

    স্কোর 

    অস্ট্রেলিয়া ২০ ওভারে ২৩৩/২ (ওয়ার্নার ১০০*, ম্যাক্সওয়েল ৬২, ফিঞ্চ ৬৪; শনাকা ১/১০) 

    শ্রীলংকা ২০ ওভারে ৯৯/৯ (শনাকা ১৭, পেরেরা ১৬; জাম্পা ৩/১৪, স্টার্ক ২/১৮)

    অস্ট্রেলিয়া ১৩৪ রানে জয়ী

     

    নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর দেশের মাটিতে প্রথম ম্যাচ। ডেভিড ওয়ার্নারের কাছে অ্যাডিলেডের আজকের ম্যাচটা হয়তো ছিল বিশেষ কিছুই। অ্যাশেজের হতাশা পেছনে ফেলে নিজের পুরনো রূপে ফিরলেন এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। ৩৩ তম জন্মদিনে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন ওয়ার্নার। ওয়ার্নারের সেঞ্চুরি ও স্টার্ক-জাম্পাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শ্রীলংকাকে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো অজিরা। 

    অ্যাশেজের ১০ ইনিংসে ওয়ার্নারের রান ছিল মাত্র ৯৫। শ্রীলংকার বিপক্ষে আজ দেখা গেলো চিরচেনা সেই ওয়ার্নারকে। লংকান বোলারদের ওপর শুরু থেকেই স্টিম রোলার চালিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি। ফিঞ্চ-ওয়ার্নার জুটি প্রথম দশ ওভারের মাঝেই ১০০ রান পূর্ণ করেন। এই সময় ফিফটি তুলে নেন দুই ব্যাটসম্যানই। ১১ তম ওভারে ফিঞ্চ ফিরলে ভাঙ্গে ১২২ রানের জুটি। কুশল মেন্ডিসের বলে লাকশান সান্দাকানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। ফেরার আগে ফিঞ্চ করেছেন ৩৬ বলে ৬৪ রান। 

    সেঞ্চুরির পর ওয়ার্নারের সেই ট্রেডমার্ক লাফ 

     

    ফিঞ্চ ফিরলেও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে আরেকটি শতরানের জুটি গড়েন ওয়ার্নার। ওয়ার্নার-ম্যাক্সওয়েলে রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েন লংকান বোলাররা। বিশেষ করে ম্যাক্সওয়েলকে ঠেকানোর কোনো উপায়ই খুঁজে পাচ্ছিলেন না তারা। প্রায় প্রতি বলেই বাউন্ডারি মারার চেষ্টায় ছিলেন ম্যাক্সওয়েল, সফলও হয়েছেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। মাত্র ২২ বলেই ফিফটি তুলে নেন ম্যাক্সওয়েল। ৬২ রান করে ফিরেছেন ম্যাক্সওয়েল, খেলেছেন মাত্র ২৪ বল, স্ট্রাইক রেট ছিল ২২১। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের তাণ্ডবে সব লঙ্কান বোলাররাই ছিলেন খরুচে। পেসার কাসুন রাজিথা ৪ ওভারে দিয়েছেন ৭৫ রান, এটাই টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে খরুচে বোলিং।

    ওয়ার্নারও সমান তালে মারমুখী মুডে ব্যাটিং করেছেন। সেঞ্চুরি পাবেন কী পাবেন না, সেটাই ছিল বড় প্রশ্ন। কারণ শেষের দিকে ম্যাক্সওয়েলই বেশিরভাগ স্ট্রাইক পাচ্ছিলেন। টি-টোয়েন্টিতে ওয়ার্নারের প্রথম সেঞ্চুরিটা এসেছে ইনিংসের শেষ বলেই। পয়েন্টের দিকে বল বাড়িয়ে দিয়েই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন তিনি। এরপর দিয়েছেন সেই ট্রেডমার্ক লাফ। 

    ২৩৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্টার্ক-কামিন্সদের বোলিং তোপে দাঁড়াতেই পারেননি কোনো শ্রীলংকান ব্যাটসম্যান। প্রথম ওভারেই কুশল মেন্ডিসকে ফেরান স্টার্ক। সেই শুরু, চতুর্থ ওভারে পরপর দুই বলে দানুস্কা গুনাথিলাকা ও ভানুকা রাজাপাকশেকে আউট করেন কামিন্স। 

    কুশল পেরেরা ও ওশাডা ফার্নান্দো কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। ৩৩ রানের এই জুটি ভাঙ্গে অ্যাস্টন অ্যাগার বোলিংয়ে এলে। দশম ওভারে অ্যাগারের বলে বোল্ড হন ১৩ রান করা ফার্নান্দো। ১৬ রান করে মেন্ডিসও ফিরেছেন পরের ওভারে, স্টার্কের বলে হয়েছেন বোল্ড। 

    এরপর দাসুন শনাকা ছাড়া দুই অংক ছুঁতে পারেননি আর কেউই। শেষের দিকে অ্যাডাম জাম্পা নিয়েছেন তিন উইকেট। শেষ পর্যন্ত শ্রীলংকার ইনিংস থামে ৯৯ রানে, অস্ট্রেলিয়া যেতে ১৩৪ রানে। রানের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটাই সবচেয়ে বড় জয়।