• ইউরো বাছাইপর্ব
  • " />

     

    ৯৯-এ থামলেন রোনালদো, ইউরো নিশ্চিত করল পর্তুগাল

    জোড়া গোল করতে ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছুঁয়ে ফেলতেন আন্তজার্তিক গোলের সেঞ্চুরি। লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে অবশ্য আর শতক আর পূরণ করা হয়নি, এক গোল করেছেন রোনালদো, থেমেছেন ৯৯ তে। পর্তুগাল অবশ্য জিতেছে ২-০ ব্যবধানে। পরের বছর ইউরোর টিকেট ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা নিশ্চিত করলো বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে গিয়ে। ইউক্রেনের পর গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে মূল পর্বে যাচ্ছে তারা। 

    রোনালদোকে তাই গোলের সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে আরও অন্তত চার মাস। মার্চের আগে আর আন্তর্জাতিক ফুটবল গড়াচ্ছে না। তাই খেলার সুযোগও নেই রোনালদোর। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ডিয়েগো জোতার গোলমুখী শটে পা ছুঁইয়ে বল গোললাইন পার করিয়েছিলেন রোনালদো। ওই গোলেই জয় নিশ্চিত হয়েছে পর্তুগালে। লুক্সেমবার্গের মাঠে এর আগ পর্যন্ত এক গোলে এগিয়ে থাকলেও মোটেই স্বস্তিতে ছিল না ফার্নান্দো সান্তোসের দল।

    ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৯০ তম দলের বিপক্ষে জিততে ঘাম ছুটে গেছে পর্তুগালের। ইউরোতে সরাসরি বাছাই করতে হলে অন্য ম্যাচে সার্বিয়ার সমান ফল পেতে হত রোনালদোদের। সার্বিয়া অবশ্য ইউক্রেনের মাঠে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ড্র করেছে। এই গ্রুপ থেকে ইউক্রেনের সঙ্গী হয়ে তাই সরাসরি ইউরোতে যাচ্ছে পর্তুগাল। 


    লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে প্রথমার্ধে একেবারেই সুবিধা করে উঠতে পারছিল না পর্তুগাল। বরং লুক্সেমবার্গই চমকে দিচ্ছিল পর্তুগালকে। অবশ্য অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে খেই হারাচ্ছিল তারা। আর পর্তুগাল প্রতিপক্ষের অ্যাটাকিং থার্ড পর্যন্ত যেতেও ধুঁকছিল। রোনালদো অবশ্য প্রথমার্ধে একবার বক্সের ভেতর থেকে শট করেছিলেন, তবে কাছের পোস্টে নেওয়া রোনালদোর শট অতক্ষণ ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন লুক্সেমবার্গ গোলরক্ষক। 

    গোলরক্ষক  অ্যান্থনি মরিস কিছুক্ষণ পর ভুলও করেছিলেন একটি, তবে সেখান থেকে এগিয়ে যাওয়া হয়নি পর্তুগালের। বের্নার্দো সিলভা মরিসকে প্রেস করে গোল পেতে যেতে পারতেন তখন। ৩৯ মিনিটে সেই সিলভাই পর্তুগালের গোলে বড় অবদান রেখেছেন। নিজের অর্ধ থেকে বাম পায়ের নিখুঁত লম্বা পাসে লুক্সেমবার্গের রক্ষণের পেছনে জায়গা কাজে লাগিয়ে ব্রুনো ফার্নান্দেজকে দিয়ে গোল করিয়েছেন তিনি। 

    দ্বিতীয়ার্ধেও পর্তুগালের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করে রেখে দারুণ খেলে যাচ্ছি লুক্সেমবার্গ। তবে ৮৬ মিনিটে রোনালদোর গোলের পর আর ম্যাচে ফেরার সব সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। গোলের মাত্র কয়েক গজ দূর থেকে জোতার নেওয়া শট ধরতে পারেননি মরিস, বল অবশ্য গোলের দিকেই যাচ্ছিল। তবে রোনলাদো পা ছুঁয়ে নিশ্চিত করেছেন বলের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া। ইরানের আলি দাইয়ির ১০৯ গোলের রেকর্ড ছুঁতে আর মাত্র ১০ গোল লাগে রোনালদোর। তবে পর্তুগালের হয়ে গোল করার দিক দিয়ে রোনালদো পার করলেন তার সেরা বছর। সব মিলিয়ে মোট ১৪টি গোল করেছেন তিনি এ বছর। ১৫ বছরের জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে এক বছরে এটিই রোনালদোর সবচেয়ে বেশি গোল।