• ইউরো বাছাইপর্ব
  • " />

     

    আর্মেনিয়ার জালে ইতালির নয় গোল; বড় জয় পেল স্পেনও

    ফুল-টাইম

    ইতালি ৯-১ আর্মেনিয়া

    স্পেন ৫-০ রোমানিয়া


    দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইতালিকে রীতিমত খোলনলচে বদলে দিয়েছিলেন রবার্তো মানচিনি। গত ম্যাচডে-তে বসনিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মত টানা দশ ম্যাচ জিতেছিল মানচিনির ইতালি। কিন্তু ‘আজ্জুরি’রা যেন নিজেদের সেরাটা বাঁচিয়ে রেখেছিল শেষ ম্যাচের জন্যই। গ্রুপ ‘জে’-তে আর্মেনিয়াকে ৯-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ইতালি, প্রথমবারের মত ইউরো বা বিশ্বকাপের কোনো বাছাইপর্বের সব ম্যাচ জিতল তারা।

    পালের্মোতে আর্মেনিয়াকে গুছিয়ে ওঠারই সময় দেয়নি ইতালি। ৮ মিনিটে ফেদেরিকো কিয়েসার ক্রসে হেড করে দলকে এগিয়ে নেন চিরো ইমোবিলে। কিছুক্ষণ পরই লাৎসিও স্ট্রাইকারের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকোলো জানিওলো। রোমায় খেলা সবচেয়ে তরুণ ফুটবলার হিসেবে ইতালির জার্সিতে প্রথম গোলের রেকর্ডটা এখন তারই (২০ বছর ১৩৯ দিন)।

    ‘আজ্জুরি’দের জার্সিতে জানিওলোর মত প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন নিকোলো বারেলাও। জানিওলোর পাস থেকেই গোল করেছেন তিনি। প্রথমার্ধে ব্যবধান ৪-০ করেছেন ইমোবিলে। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করতে পারতেন ইমোবিলে, কিন্তু শেষদিকে তার প্রচেষ্টা ফিরে এসেছে বারপোস্টে প্রতিহত হয়ে। ইমোবিলের মত বারপোস্টে লেগে ফিরে এসেছে কিয়েসার শটও। তবে ইতালির জার্সিতে নিজের প্রথম গোল দ্বিতীয়ার্ধেই পেয়েছেন ফিওরেন্তিনা ফরোয়ার্ড।

     

     

    দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ইমোবিলের মত ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পেয়ে যান জানিওলো। কিছুক্ষণ বাদে আবারও গোল, এবার জাল খুঁজে পেয়েছেন মিলান ডিফেন্ডার আলেসিও রোমানিওলি। আর্মেনিয়ানদের জালে গোলউৎসব তখনও শেষ হয়নি ‘আজ্জুরি’দের। ৭৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন জর্জিনহো। ম্যাচের শেষদিকে বারেলা, জানিওলোর মত দেশের হয়ে প্রথম গোলের দেখা পেয়ে যান রিকার্দো ওরসোলিনি এং কিয়েসা।

    ৭৯ মিনিটে আর্মেনিয়া গোল শোধ করায় কোনো টুর্নামেন্টে অল্পের জন্য নিজেদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসানো হয়নি ইতালির (৯-০, প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, ১৯৪৮ অলিম্পিকস)। কিন্তু রেকর্ডের ফুলঝুরি থেমে যায়নি তাতে। এবারই নিজেদের প্রথম কোনো ম্যাচে সাতজন ভিন্ন গোলদাতা পেল ইতালি। মাত্র চতুর্থ দল হিসেবে ইউরো বাছাইপর্বে এক ম্যাচে ৯ গোল করল ইতালি। সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড এখনও জার্মানির (১৩-০, প্রতিপক্ষ সান মারিনো, ২০০৬)। বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচে ৩৭ গোল করেছে মানচিনির ইতালি, হজম করেছে মাত্র ৪টি।

    ইতালির মত বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে স্পেনও, রোমানিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোতে ম্যাচের শুরুতেই রবার্তো মরেনোর দলকে লিড এনে দেন নাপোলি মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ। প্রথমার্ধে জোড়া গোল করে স্পেনকে রোমানিয়ার ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান ভিয়ারিয়াল ফরোয়ার্ড জেরার্ড মরেনো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রোমানিয়ার জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসে আদ্রিয়ান রাসের আত্মঘাতী গোল।

     

     

    প্রথমার্ধে আরও বড় ব্যবধানে লিড নিতে পারত স্পেন, কিন্তু আগের ম্যাচে স্পেনের জার্সিতে ৪ বছর পর গোল পাওয়া সান্তি কাযোরলার শট এবার ফিরে এসেছে ক্রসবারে লেগে। প্রথমার্ধে ইতালির মত ৪-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গা বাঁচিয়েই খেলেছে স্পেন। সেজন্য পুরো দ্বিতীয়ার্ধে আর মাত্র একবার রোমানিয়ার জালে বল পাঠাতে পেরেছিল ‘লা রোহা’রা, তাও যোগ করা সময়ে। মিকেল ওয়্যারজাবালের গোলে বাছাইপর্ব শেষ করেছে স্পেন।

    স্প্যানিশদের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিয়ে ইউরো মূলপর্ব নিশ্চিত করেছেন মরেনো, কিন্তু চাকরিটা হয়তো পাকাপাকিভাবে পাওয়া হচ্ছে না তার। মার্কা, এএস, স্পোর্টের মত স্পেনের শীর্ষ সংবাদপত্রগুলো জানিয়েছে; ১৯ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে স্প্যানিশ ফেডারেশন। স্পেনের হটসিটে ফিরছেন লুইস এনরিকে, জানিয়েছে তারা। খবরটা হয়তো নিজেও জানতেন মরেনো। রোমানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে অশ্রুসজল নয়নে মাঠ ছেড়েছেন। স্প্যানিশ সমর্থকদের হাত নেড়ে হয়তো বিদায়টাই জানিয়ে দিয়েছেন আগেভাগে।

    ইতালি, স্পেনের মত বড় জয় পেয়েছে সুইজারল্যান্ড, ‘ডি’ গ্রুপে জিব্রাল্টারকে ৬-১ গোলে হারিয়েছে তারা। বড় জয়ের রাতে ইউরো মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে সুইসরা, ‘ডি’ গ্রুপ থেকে তাদের সঙ্গী হয়েছে ডেনমার্ক। ইউরো ২০২০-এ যেতে তাই প্লে-অফই ভরসা আয়ারল্যান্ডের। আইরিশদের মত ইউরোতে যেতে হলে প্লে-অফ খেলতে হবে নরওয়ের, বসনিয়ারও।