• ইংল্যান্ডের নিউজিল্যান্ড সফর
  • " />

     

    দুঃস্বপ্নের এক দিনে ইনিংস ব্যবধানেই হারল ইংল্যান্ড

    ইংল্যান্ড ৩৫৩ ও ৯৬.২ ওভারে ১৯৭ অলআউট

    নিউজিল্যান্ড ৬১৫/৯ ডিক্লে

    ফলঃ নিউজিল্যান্ড ইনিংস ও ৬৫ রানে জয়ী


    কলকাতা, ব্রিসবেন, মাউন্ট মঙ্গানুই। গল্পটা শেষ পর্যন্ত একই থাকল। টসে জিতে ব্যাট নিল সফরকারী দল, আর শেষ পর্যন্ত ম্যাচে হার ইনিংস ব্যবধানে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জন্য সেটি সময়ের ব্যাপার হলেও ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা তা ছিল না। শেষ দিন দাঁতে দাঁত কামড়ে ব্যাট করে যেতে হতো বে ওভালে, কিন্তু সেটাই করতে পারল না। বলা ভালো, আসলে করতে দিলেন না নিল ওয়াগনাররা।

    একটা ধস অবশ্য কালই নেমে গিয়েছিল, শেষ বিকেলে কাল নাটকীয়ভাবে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। তারপরও বে ওভালের উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য এমন কোনো বধ্যভূমি হয়ে যায়নি শেষ দিনেও। স্পিন ধরছিল বেশ, মিচেল স্যান্টনার একপাশ থেকে চাপে রাখলেও উইকেট পাননি। বরং কিউই পেসারদেরই উইকেট দিয়ে এসেছেন ইংলিশরা।

    জো ডেনলি আর জো রুট আজ সকালে শুরু করেছিলেন। প্রথম এক ঘন্টা দুজন মোটামুটি দেখেশুনেই পার করে দিচ্ছিলেন। কিন্তু এর পরেই ধৈর্য হারিয়ে বসলেন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট। কলিন ডি গ্র্যান্ডোমের অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলটা তাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে এলেন গালিতে। ১১ রানে ফিরলেন ইংলিশ অধিনায়ক। ডেনলি অবশ্য দেখেশুনে খেলছিলেন, স্টোকসও তাই। লাঞ্চ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট হারায়নি ইংল্যান্ড। টেস্ট বাঁচিয়ে ফেলার সম্ভাবনাটা তাই ছিল ভালোমতোই।

    কিন্তু লাঞ্চের পরই যেন মনযোগ নড়ে গেল স্টোকসের। টিম সাউদির অফ স্টাম্পের বাইরের বলটা কাট করার কোনো দরকারই ছিল না, কিন্তু সেটা করতে গিয়ে স্টোকস বল টেনে নিয়ে এলেন স্টাম্পে। ২৮ রানে ফিরলেন স্টোকস, ইংল্যান্ড ম্যাচ বাঁচানোর সম্ভাবনায় সম্ভবত সবচেয়ে বড় ধাক্কাটাও এলো।

    এরপরেই ওয়াগনারের খেল দেখানো পালা শুরু। শেষ দিনের সুবিধাটা নিতে হলে কী করতে হবে সেটা জানতেন এই কিউই বাঁহাতি পেসার। হুট করে লাফিয়ে ওঠা বলে যেমন ক্যাচ উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন ডেনলিকে। আম্পায়ার ধর্মসেনা অবশ্য শুরুতে আউট দেননি, পরে রিভিউ নিয়েই উদযাপন করেছে নিউজিল্যান্ড। ১৪২ বল খেলেছেন ডেনলি, তবে আরও কারও সেরকম ইনিংসের দরকার ছিল।

    অলি পোপকেও যেমন ওয়াগনার চমকে দিলেন স্লোয়ার ফুলটসে। অফ স্টাম্পের বাইরের বলটা ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন পোপ, কিন্তু শর্ট কাভারে স্যান্টনার ধরলেন দুর্দান্ত একটা ক্যাচ। ৬ রানে ফিরলেন অলি, ১৩৩ রানে সপ্তম উইকেট হারাল ইংল্যান্ড। বাটলার টিকলেন মাত্র ১৮ বল, রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে ওয়াগনারের ইয়র্কার ভেঙে দিল তার অফ স্টাম্প। ৮ উইকেট হারিয়ে চা বিরতিতে গেল ইংল্যান্ড, পরাজয়টা প্রায় সময়ের ব্যাপার।

    স্যাম কারান আর জফরা আর্চার অবশ্য এরপর কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়ে গেছেন। দুজন ১৬ ওভার খেলে ফেলেছিলেন, কিন্তু এরপর ডাক পড়ল ওয়াগনারের। এবার লেগ স্টাম্পের ওপর শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে আর্চার ক্যাচ দিয়েছেন ডিপ স্কয়ার লেগে, ফিরেছেন ৩০ রানে।  পরের বলেই ব্রডকে এলবিডব্লু করে ম্যাচের সমাপ্তি টেনে দিয়েছেন ওয়াগনার, তাঁর পাঁচ উইকেটও হয়েছে। তবে ম্যাচসেরার পুরস্কার অনুমিতভাবে উঠেছে বিজে ওয়াটলিংয়ের কাছেই।