• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    প্যাভিলিয়নের পাঠকের চোখে দশকের সেরা একাদশ

    মেসি, রোনালদো মাতিয়েছেন পুরো দশক। মাঝমাঠে জাদু ছড়িয়েছেন জাভি, ইনিয়েস্তা, লুকা মদ্রিচরা। নয়্যার, ক্যাসিয়াস, বুফনরা গোলবারের নিচে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। রক্ষণ সামলে জেরার্ড পিকে, সার্জিও রামোসরা দলকেও বাঁচিয়েছেন শেষ মুহূর্তের গোলে। দশকেরা সেরা একাদশ এবার বাছাই করেছেন প্যাভিলিয়নের পাঠকরাই। কে আছেন এই দশকের সেরা একাদশে?


    গোলরক্ষক

    ম্যানুয়েল নয়্যার

    ভোট: ৩৬%

    শালকের প্রতিভাবান গোলরক্ষক হিসেবে দশক শুরু করেছিলেন। এরপর বায়ার্ন মিউনিখ এবং জার্মানির হয়ে প্রমাণ করেছেন নিজেকে। বাভারিয়ানদের অধিনায়কও হয়েছেন ২০১৭-তে। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির হয়ে জিতেছেন বিশ্বকাপ, হয়েছে টুর্নামেন্ট সেরা গোলরক্ষকও। অনেকের মতে এখনই সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক তিনি।

     

    ডিফেন্ডার

    দানি আলভেস

    ভোট: ৬৭%

    বার্সেলোনার সর্বজয়ী দলের রাইটব্যাক ক্লাব এবং আন্তর্জাতিক- দুই অঙ্গনেই পেয়েছেন সাফল্য। জুভেন্টাসের হয়ে সিরি আ জিতেছেন, পিএসজির হয়ে জিতেছেন ফ্রেঞ্চ লিগ। কিন্তু সেই ২০১১-এর পর আর চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হয়নি তার। দশকের শুরু থেকে শেষ- ব্রাজিলের একাদশে আলভেস ধ্রুবক। ২০১৩ ফিফা কনফেডারেশনস কাপ জিতেছিলেন, ২০১৯-এ এসে জিতেছেন কোপা আমেরিকা। ৩৬ বছর বয়সেও দিব্যি খেলে যাচ্ছেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

     

     

    সার্জিও রামোস

    ভোট: ৩৮%

    দশক শুরু করেছিলেন স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জিতে। ইকার ক্যাসিয়াসের বিদায়ের পর হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক। খাদের কিনারা থেকে রিয়ালের ‘লা ডেসিমা’ স্বপ্ন বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন অন্তিম মুহূর্তে গোল করে। এই দশকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন ৪বার, লিগ জিতেছেন ২বার। স্পেনের হয়ে ২০১২ ইউরো জিতেছেন। নিঃসন্দেহে সর্বকালের সর্বসেরা ডিফেন্ডারদের একজন। 

    কার্লোস পুয়োল

    ভোট: ২৫%

    রামোসের মতই স্পেনের ইউরো-বিশ্বকাপ-ইউরো জেতা দলে ছিলেন। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে গোল করেছেন জার্মানির বিপক্ষে। ২০১৩-তে অবসর নিয়েছেন, কিন্তু সর্বকালের সেরা সেন্টারব্যাকদের একজন হয়ে আছেন অনেক আগে থেকেই।

    মার্সেলো

    ভোট: ৬৬%

    এই দশকে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ‘লা ডেসিমা’ ফাইনালে গোল করেছিলেন, ব্রাজিলের হয়ে জিতেছেন কনফেডারেশনস কাপ। রিয়ালের ৪ চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা দলে তার অবদান দুর্দান্ত। এখনও লেফটব্যাকে রিয়ালের মূল ভরসা।

     

    মিডফিল্ডার

    জাভি হার্নান্দেজ

    ভোট: ৩৭%

    স্পেনের অমর সোনালী প্রজন্মের মাঝমাঠের নিউক্লিয়াস। বার্সেলোনার হয়ে ‘ট্রেবল’ জিতে নিয়েছেন অবসর। মাঝমাঠে সর্বকালের অন্যতম সেরা। বার্সায় পুরো ক্যারিয়ার কাটানো জাভি জিতেছেন সম্ভাব্য সবই, ২০১১ ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ তিন-এও ছিলেন।

     

     

    আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা

    ভোট: ৩২%

    মাঝমাঠে ড্রিবলিং, চকিত বুদ্ধিদীপ্ত পাস- একজন কমপ্লিট মিডফিল্ডারের সম্ভাব্য সব ক্ষমতাই আছে তার। বার্সেলোনার মাঝমাঠে যতদিন ছিলেন, তার জায়গা নিতে পারেননি কেউ। তার গোলেই প্রথম বিশ্বকাপ ঘরে তুলেছিল স্পেন। ইউরো ২০১২-এর সেরা একাদশেও ছিলেন। ২০১১ ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ তিন-এ ছিলেন। লা লিগা জিতেছেন ৭বার। ২০১৮-তে বার্সা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন জাপানিজ ক্লাব ভিসেল কোবেতে।

    লুকা মদ্রিচ

    ভোট: ৮%

    টটেনহাম হটস্পারের হয়ে আলো ছড়ানোর পর যোগ দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে। ‘লস ব্লাঙ্কোস’দের মাঝমাঠ তাকে ছাড়া অচিন্তনীয়। ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপ ফাইনালে, হয়েছিলেন রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার। রিয়ালের হয়ে জিতেছেন ৪ চ্যাম্পিয়নস লিগ। ২০১৮ সালে মেসি-রোনালদোর ১১ বছরের মনোপোলি ভেঙে জিতে নিয়েছিলেন ব্যালন ডি’অর।

     

    ফরোয়ার্ড

    লিওনেল মেসি

    ভোট: ৪৩%

    দলীয় বা ব্যক্তিগত- শিরোপা এবং অর্জনে কোনো কমতি হয়নি মেসির। একমাত্র আক্ষেপ বলতে তিনবার ফাইনালে উঠেও আর্জেন্টিনার হয়ে কিছু না জিততে না পারার আক্ষেপটাই হয়তো পোড়ায় তাকে। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল হারলেও সেবারের সেরা ফুটবলার হয়েছিলেন। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন ২বার, লিগ জিতেছেন ৭বার। এই দশকে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ৫বার, ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু ঘরে তুলেছেন রেকর্ড ৬বার।

     

     

    ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

    ভোট: ৩৮%

    খুব সম্ভবত ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য এসেছে এই দশকেই। পর্তুগালের হয়ে অবশেষে জিতেছেন আন্তর্জাতিক শিরোপা, ঘরে তুলেছেন ইউরো এবং নেশনস লিগের শিরোপা। রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লিগে রাজত্বের মূলনায়ক তিনি। প্রথম ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলের ‘সেঞ্চুরি’ পূরণ করেছিলেন। পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন। রিয়াল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন জুভেন্টাসে। এই দশকে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ৪বার।

    নেইমার

    ভোট: ১৮%

    সান্তোসের প্রতিভাবান তরুণ হিসেবে দশক শুরু করা নেইমার বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে মেসি এবং সুয়ারেজের সাথে গড়েছিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দুর্ধর্ষ ত্রয়ী ‘এমএসএন’। মেসির ছায়া থেকে বেরোতে যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে, তাকে দলে নিতে ট্রান্সফার ফি-এর বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়নরা। ব্রাজিলকে জিতিয়েছেন ২০১৩ কনফেডারেশনস কাপ, হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা ফুটবলারও। টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে জিতেছেন ২০১৬ অলিম্পিক গোল্ড মেডেল।