• অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ২০১৬
  • " />

     

    মিরাজরা উপভোগই করুন

    আশিকুর রহমানকে মনে আছে?

     

    না থাকলেও ক্ষতি নেই। শেষ যেবার যুব বিশ্বকাপ হলো বাংলাদেশে, তিনি ছিলেন অধিনায়ক। ২০০৪ সালের দিকে। নাফিস ইকবাল, নাঈম ইসলাম, এনামুল হক জুনিয়র, আফতাব আহমেদ, নাজমুল হোসেন, শাহাদাত হোসেন, ধীমান ঘোষ, নাদিফ চৌধুরি, নাজিমউদ্দীনদের অধিনায়ক ছিলেন আশিক। আশিক ছাড়া এই ক্রিকেটারদের সবাই জাতীয় দলে খেলেছেন এরপর। শুধু খেলা হয়নি ওই অধিনায়কেরই! জাতীয় দল তো দূরের কথা, আশিক প্রথম শ্রেনী বা লিস্ট এ - খেলেননি কিছুই। এবার অবশ্য ঢাকায় ফার্স্ট ডিভিশন খেলেছেন। আশিক হারিয়ে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার সম্ভাবনাই বা কতটুকু!  
     

    পরের আসরের কথা। ২০০৬ সালের যুব বিশ্বকাপ। তামিম, সাকিব, মুশফিক, শামসুর, মেহরাবদের নিয়ে বাংলাদেশ সেবার ‘ফেবারিট’ই ছিল। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে তো ইংল্যান্ডকে টানা ১১টি ম্যাচেও হারিয়েছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে দমে যেতে হলো বাংলাদেশকে। কার কাছে হেরে? ওই ইংল্যান্ড!

     

    ২০১৪ সাল আর এইবার, দুই আসরেই বাংলাদেশের অধিনায়ক একজনই। বয়সভিত্তিক দলে ব্যাপারটা একটু চমক জাগানিয়াই বটে। এই দলটাও একসঙ্গে আছে অনেকদিন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলেছেন একই ক্রিকেটাররাই। যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান স্কোরারের তালিকাতেও তাই এঁদের একটা প্রাধান্য আছে। প্রথম দশজনের পাঁচজনই এই দলের, শীর্ষেও এই দলেরই একজন।

     

    গত বছরটাও বেশ ভালোই কেটেছে মিরাজদের। শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ ড্র, দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬-১ এ হারানো এরপর। এরপরই ফিরতি সিরিজ প্রোটিয়াদের মাঠে, দক্ষিণ আফ্রিকার যুবাদের সেবার বাংলাদেশের যুবারা হারিয়েছিল ৫-২ এ। এরপর দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ। গতবছরের শেষে ভারতে তিনজাতির টুর্নামেন্টে ফাইনালে হেরেছিল অবশ্য বাংলাদেশ, তবে বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজে হারিয়ে ঠিকই ফিরেছে জয়ের ধারায়। প্রস্তুতি ম্যাচের দুটিতেও জিতেছে।

     

    এই দলকে নিয়ে আপনি তাই প্রত্যাশা করতেই পারেন। কিন্তু প্রত্যাশাটা কী? তাঁরা দেশকে বিশ্বকাপ জেতাবেন, একটা ট্রফি এনে দিবেন। কী হবে তাহলে? আনন্দ হবে, উচ্ছ্বাস হবে, পাওয়া গেছে পরবর্তী দিনের সাকিব-তামিম-মুশফিক বা মাশরাফিদের, এমন রোল উঠবে অনেক। আর না হলে?
     

    আমরা ধরে নেই, আমাদের ক্রিকেটদর্শকরা ক্রিকেট অনেক ভাল বোঝেন। বোঝেন পারিপার্শ্বিকতা। তাঁরা সহজেই মেনে নিবেন, এই টুর্নামেন্টটে হারলে আসলে কোনো ক্ষতিই হবে না মিরাজদের, যদি না তাঁরা শুধু মাঠের ক্রিকেটেই হারেন! যদি না প্রত্যাশার চাপই তাঁদের হারিয়ে না দেয়!
     

    মিরাজদের হাতে এই ট্রফিটা বেশী মানাবে, নাকি তাঁদের মাথায় জাতীয় দলের ক্যাপ উঠলে তা হবে বেশী মানানসই!

     

    ‘আমি কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার চেষ্টা করছি না। আমি এই ছেলেগুলোকে আরেকটু বড় আর আরেকটু উন্নতি করাতে চাইছি। সত্যি বলতে কী, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ না জিতলে কিছুই শেষ হয়ে যাবে না। আমি বরং বেশী খুশি হবো, যদি এদের কাউকে আমি ভারতের হয়ে খেলতে দেখি। এটাই তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ, প্রেরণাও।’
     

    ওপরের কথাগুলো রাহুল দ্রাবিড়ের। ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ বিশ্বকাপকে দেখছেন আসলে এভাবেই। মিরাজরা কিভাবে দেখছেন?

     

    ‘আপনি যে চাপের কথা বলছেন, আমি সেটা প্রথম শুনছি’। মিরাজ আজ বলেছেন, দেশের মানুষদের তাঁদের নিয়ে ‘প্রত্যাশা’ কোনো চাপ তৈরী করছে কিনা, এর জবাবে।
     

    মিরাজ না জানলেই ভাল।

    মিরাজদের না জানাই ভাল।
     

    যেমন ভাল, মিরাজদের এ টুর্নামেন্টটা উপভোগের সুযোগ করে দেয়া। শান্ত, জয়রাজ, সাইফ, পিনাক, সনজিতরা হয়ে উঠুন আগামীর ক্রিকেট তারকা। বাংলাদেশের, বিশ্বের। ততোদিন পর্যন্ত নাহয় অপেক্ষা করেই থাকা গেল!
     

    এ টুর্নামেন্টে হারলে তেমন ‘ক্ষতি’ হবে না বাংলাদেশ ক্রিকেটের, যেমন হবে, যদি আশিকুরের মতো করে মিরাজদের কেউ হারিয়ে যান!

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন