• ভারতের নিউজিল্যান্ড সফর
  • " />

     

    ২৯ ফেব্রুয়ারি : বছরের অতিরিক্ত দিনের 'স্পেশাল' ক্রিকেট সমাচার

    মার্ক গ্রেটব্যাচ বা ইউনুস খানের অভিষেকে সেঞ্চুরি, গ্রায়েম স্মিথ-নিল ম্যাকেঞ্জির রেকর্ডগড়া জুটির কাছাকাছি যাওয়া- অন্তত চার বছর পর আসা ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনটা ক্রিকেটের জন্য স্পেশালই...


    শনিবার শুরু হওয়া নিউজিল্যান্ড-ভারতের টেস্টটা ইতিহাসের ২৩৮৭তম। এ ম্যাচ দিয়েই ক্রাইস্টচার্চে ফিরছে টেস্ট ক্রিকেট। ২০১৯ সালে সন্ত্রাসী হামলার কারণে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের টেস্টটি শুরুর আগেই পরিত্যক্ত হয়েছিল। তবে শুধু ক্রাইস্টচার্চে ফেরা নয়, এ টেস্ট আরেকটি কারণেও একটু ‘স্পেশাল’। এটি শুরু হয়েছে ২৯ ফেব্রুয়ারি বা লিপ ডে-তে। 

    যে দিনটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আসে চার বছর পরপর (সাধারণত- এখানেও বাড়তি একটু হিসাব আছে)। ১৮৭৭ সালে প্রথম টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ২০২০-এর আগে ৩৩টি অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার এবং লিপ ডে এসেছে। তবে এর আগে মাত্র ১৩টি টেস্ট ম্যাচের সূচি এমন সব লিপ ডে-তে‘অন্তর্ভুক্ত’ হওয়ার কথা ছিল। 

    ২০২০-এর এই টেস্টের আগে শেষ এমন হয়েছিল ২০০৮ সালে। ২৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে সিরিজের ২য় টেস্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, দিনটি স্পেশাল ছিল বলেই কিনা গ্রায়েম স্মিথ ও নিল ম্যাকেঞ্জি পুরো দিন ব্যাটিং করেও আউট হলেন না। পরদিন স্মিথ যতক্ষণে আউট হলেন, ততক্ষণে ওপেনিংয়ে বিশ্বরেকর্ড হয়ে গেছে, যা টিকে আছে এখনও। লিপ ডে তাই বাংলাদেশের জন্য এনেছিল আরেকটি ভুলতে চাওয়া স্মৃতিই। 

     


    ২০০৪ সালে লিপ ডে-এর টেস্টেও ছিল বাংলাদেশ। বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটিও ছিল সিরিজের ২য় টেস্ট, তবে সে টেস্টের তিন দিনই গিয়েছিল বৃষ্টির কবলে। সে তিন দিনের একদিন ছিল ২৯ ফেব্রুয়ারিও। 

    ইতিহাসে প্রথমবার লিপ ডে-তে টেস্ট গড়ানোর কথা ছিল ১৯০৩-০৪ মৌসুমে, অ্যাশেজের সিডনি টেস্টে। তবে সেবারও বৃষ্টির কবলে পড়েছিল ২৯ ফেব্রুয়ারির খেলা। ১৯১২ সালে একই ভেন্যুতে আবারও হানা দিয়েছিল বৃষ্টি। অবশ্য এ দুটি ম্যাচই জিতেছিল ইংল্যান্ড। 

    লিপ ডে-তে প্রথমবার আদতে খেলা হয়েছিল ১৯৩২ সালে। ক্রাইস্টচার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার জিম ক্রিস্টি ও ব্রুস মিশেলের সেঞ্চুরির সঙ্গে কুইন্টিন ম্যাকমিলানের ৮ উইকেটে সে ম্যাচ ইনিংস ব্যবধানে জিতেছিল তারা। ক্রিস্টি হয়েছিলেন লিপ ডে-তে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান। ১৯৩৬ সালে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান টেস্টের ২য় দিন ছিল লিপ ডে-তে। সেদিন সেঞ্চুরি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার জ্যাক ফিঙ্গলটন। 


    এখন পর্যন্ত ২৯ ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়া দুজন খেলেছেন টেস্ট ক্রিকেট। অস্ট্রেলিয়ার গেভিন স্টিভেনস ও ইংল্যান্ডের আলফ রোভার। দুজনই খেলেছিলেন ৪টি করে টেস্ট। তবে রোভার বিখ্যাত ছিলেন কোচ হিসেবে, সাউথ লন্ডনে তার বিখ্যাত ইনডোর ক্রিকেট একাডেমি। ২০০১ সালে ৯৩ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে সে সময়ের সবচেয়ে বেশী বয়সী জীবিত টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন তিনি, যদিও আদতে জন্মদিন উদযাপন করার সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন ২৩ বার।


    পরের লিপ ডে আসতে আসতে বেজেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা, যার প্রভাব পড়েছিল টেস্ট ক্রিকেটে (এবং অবশ্যই স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ক্যারিয়ারে)। ফলে লিপ ডে-তে যাওয়ার জন্য টেস্ট ক্রিকেটকে এরপর অপেক্ষা করতে হয়েছিল বেশ কিছুদিন। ১৯৬৪ সালে মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা, এবার ভেন্যু ছিল ডানেডিন। একদিন ‘বিশ্রাম’সহ ম্যাচটি ছিল চারদিনের, প্রথমদিন ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। ফলে কার্যত সে ম্যাচ শুরু হয়েছিল লিপ ডে-তেই। নিউজিল্যান্ড এবার অবশ্য করেছিল ড্র।

    ১৯৬৮-তে ২৯ ফেব্রুয়ারি ছিল একটু বেশিই স্পেশাল। সেবারই প্রথম লিপ ডে-তে শুরু হয়েছিল দুটি টেস্ট, ওয়েলিংটনে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড, ব্রিজটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলেছিল ইংল্যান্ডের সঙ্গে। একটিতে জিতেছিল ভারত, আরেকটি হয়েছিল ড্র। 

    ১৯৭২, ৭৬-এ বছরের বাড়তি দিনে টেস্ট ম্যাচ হয়নি কোনো, ১৯৮০ সালে আবারও এদিন ছিল দুটি টেস্টের খেলা। ২৯ ফেব্রুয়ারি অকল্যান্ডে শুরু হয়েছিল নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ, এর দুদিন আগে করাচিতে নেমেছিল পাকিস্তান-ইংল্যান্ড। 
     


    ১৯৮৮ সালে লিপ ডে-তে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন মার্ক গ্রেটব্যাচ। অকল্যান্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ নম্বরে নেমে করেছিলেন ৩২৫ বলে ১০৭ রান, ম্যাচ হয়েছিল ড্র। টেস্ট ক্যারিয়ারজুড়েই এমন দৃঢ় ছিলেন এই বাঁহাতি, তবে ওয়ানডেতে পিঞ্চহিটারদের শুরুর দিকের একজন হিসেবে তাকে হয়তো বেশি মনে রেখেছেন লোকে। 

    ২০০০ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তানের টেস্ট শুরু হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। সে ম্যাচেও অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছিলেন আরেকজন বিখ্যাত ব্যাটসম্যান- ইউনুস খান। যিনি পরে হয়েছিলেন পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক। সে ম্যাচটা অবশ্য জমেছিল দারুণ, শ্রীলঙ্কা জিতেছিল মাত্র ২ উইকেটে। 


    লিপ ডে-তে মেয়েরা কোনও টেস্ট খেলেনি এখন পর্যন্ত। এ শতাব্দিতে ২০০৪ সালে ২টি, ২০১২ ও ২০১৬ সালে হয়েছে ১টি করে ওয়ানডে। ২০২০ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি বাংলাদেশ, আরেকটি ম্যাচ আছে ভারত-শ্রীলঙ্কার।


    লিপ ডে-তে অবশ্য টেস্টের চেয়ে ওয়ানডে একটু বেশি ধারাবাহিক। এ ফরম্যাট চালু হওয়ার পর থেকে ১৯৮০ ও ১৯৮৮-এর পর ২০০০ সালে লিপ ইয়ার ডে-তে ছাড়া বাকিগুলিতে হয়েছে ম্যাচ। ১৯৮৪-তে একটি, ১৯৯২ ও ১৯৯৬-এ বিশ্বকাপের দুটি করে ম্যাচ হয়েছিল। এরপর ২০০৪ সালে আবার হয়েছিল দুটি ম্যাচ, ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত প্রতিবার হয়েছিল একটি করে। ২০২০ সালে অবশ্য ওয়ানডে নেই কোনও। 

    লিপ ডে ওয়ানডের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত এখন পর্যন্ত ১৯৯৬ বিশ্বকাপে পুনের সেই ম্যাচ, যেদিন কেনিয়ার টানে পতন হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাম্রাজ্যের। 

     

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন