• ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংল্যান্ড সফর ২০২০
  • " />

     

    আম্পায়ারদের এলিট প্যানেলে ভারতের নিতিন মেনন, বাদ ইংল্যান্ডের নাইজেল লং

    আইসিসি আম্পায়ারের এলিট প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন ভারতের নিতিন মেনন। ২০২০-২১ মৌসুমের জন্য আইসিসির ঘোষিত প্যানেলে ইংল্যান্ডের নাইজেল লংয়ের জায়গা নিচ্ছেন তিনি। বার্ষিক পর্যালোচনা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মেননকে এলিট প্যানেলে যুক্ত করেছে আইসিসি। 

    মেনন এখন পর্যন্ত ৩টি টেস্ট, ২৩টি ওয়ানডের সঙ্গে ১৬টি টি-টোয়েন্টিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলিট প্যানেল চালুর পর থেকে শ্রীনিবাস ভেঙ্কটরাঘবন ও এস রভির পর তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে এই দায়িত্ব পেলেন মেনন। 

    আইসিসির ক্রিকেট জেনারেল ম্যানেজারদের দলের চেয়ারম্যান জিওফ অ্যালারডাইস, সাবেক ক্রিকেটার ও কমেন্টেটর সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালে ও ডেভিড বুনের কমিটি মেননকে নির্বাচিত করেছেন। এর আগে আইসিসির আন্তর্জাতিক প্যানেলের সদস্য ছিলেন ভারতের মধ্য প্রদেশ থেকে আসা এই আম্পায়ার। ৩৬ বছর বয়সী মেনন হচ্ছেন বর্তমান এলিট প্যানেলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য।
     


    ২০১২ সালে এলিট প্যানেলে এসেছিলেন নাইজেল লং


    বার্ষিক পারফরম্যান্স, অন-ফিল্ড সিদ্ধান্ত, পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা-- এমন সব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এলিট প্যানেলের আম্পায়ার নির্বাচন করে আইসিসি। ক্রিকইনফোর এক ডাটা অনুযায়ী, গত বছর সর্বোচ্চ ৩৬.২ শতাংশ সিদ্ধান্ত ওভারটার্নড হয়েছিল এলিট প্যানেল থেকে বাদ পড়া লংয়ের। ২০১২ সালে বিলি ডকট্রোভ অবসর নেওয়ার পর এলিট প্যানেলে এসেছিলেন লং। এখন পর্যন্ত ৬২টি টেস্টের সঙ্গে ১৩০টি ওয়ানডে ও ৩২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। 

    গত বছর এই প্যানেলে যুক্ত হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের মাইকেল গফ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোয়েল উইলসন, বাদ পড়েছিলেন ভারতের রভি। 
     

    আরও পড়ুন- কাকতাড়ুয়া, সাদা হ্যাট আর কয়েকটি স্বপ্নের গল্প


    এলিট প্যানেলে জায়গা পাওয়াটাকে নিজের স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছেন মেনন, সঙ্গে মাথায় রাখছেন নিজের দায়িত্বটাও, “এলিট প্যানেলে জায়গা পাওয়াটা আমার জন্য অনেক গর্ব ও সম্মানের। বিশ্বের শীর্ষ আম্পায়ার ও রেফারিদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করে যাওয়ার স্বপ্ন সবসময়ই দেখে এসেছি আমি। এই অনুভূতির সঙ্গে এখনও মানিয়ে নিচ্ছি আমি।”

    মেননের বাবা নরেন্দ্র মেননও আন্তর্জাতিক আম্পায়ার ছিলেন। ২২ বছর বয়সেই ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করে আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকেছিলেন মেনন, ২০০৬ সালের দিকে। ১৪ বছর পর তিনি উঠে গেলেন আইসিসির শীর্ষ প্যানেলে। 

    “টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির সঙ্গে আইসিসি ইভেন্টে দায়িত্ব পালন করে আমি বুঝেছি, এই কাজের দায়িত্বটা কতো বড়। আমি চ্যালেঞ্জের দিকে তাকিয়ে আছি, প্রতিটি সুযোগে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো। ভারতীয় আম্পায়ারদের সামনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও আমার একটা বড় দায়িত্ব এটি বলে মনে করি, তাদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে।” 

    “এই সুযোগে আমি মধ্য প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, বিসিসিআই, আইসিসিকে ধন্যবাদ দিতে চাই তাদের সহায়তার জন্য, আমার সামর্থ্যের ওপর অনেকদিন ধরে আস্থা রাখার জন্য। পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে তাদের ত্যাগ ও নিঃশর্ত সমর্থনের জন্য আমার পরিবারকেও ধন্যবাদ দিতে চাই আমি।” 

    আইসিসির ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারদের সিনিয়র ম্যানেজার আদ্রিয়ান গ্রিফিথ অভিনন্দন জানিয়েছেন মেননকে, “নিতিন আমাদের সিস্টেমের ভেতর দিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়েই এসেছে। আমি তাকে এলিট প্যানেলে নির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানাই, তার সাফল্য কামনা করি।” 

    ভারতীয় আম্পায়ারদের সঙ্গে কাজ করা সাবেক এলিট প্যানেল আম্পায়ার ও আইসিসির আম্পায়ারদের কোচ সাইমন টউফেল ক্রিকইনফোকে বলেছেন, মেননের সুযোগ পাওয়াটা মোটেও বিস্ময়কর কিছু নয়, “তার মেধার স্বাক্ষর অনেক আগেই পেয়েছি, ফলে তার সুযোগ পাওয়াটা বিস্ময়কর নয়। তবে এটা পরিস্কার, বিশ্বমানের আম্পায়ার হতে হলে কতো সময় লাগে। কতো দৃঢ়তা, নিবেদন, একাগ্রতা ও মানসিকতার উন্নতি লাগে। ভারতের আম্পায়ারদের জন্য নিতিন একটা রোল-মডেল হতে যাচ্ছে। এটি বিসিসিআইকে ম্যাচ অফিশিয়ালদের উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করবে।” 

    ২০২০-২১ মৌসুমে আইসিসির আম্পায়ারদের এলিট প্যানেল 

    আলিম দার (পাকিস্তান), কুমার ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা), মারাই এরাসমাস (দক্ষিণ আফ্রিকা), ক্রিস গ্যাফানি (নিউজিল্যান্ড), মাইকেল গফ, রিচার্ড ইলিংওর্থ, রিচার্ড কেটেলবোরো (ইংল্যান্ড), ব্রুস অক্সেনফোর্ড, পল রাইফেল, রড টাকার (অস্ট্রেলিয়া), জোয়েল উইলসন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ও নিতিন মেনন (ভারত)  

    ম্যাচ রেফারি 

    ডেভিড বুন (অস্ট্রেলিয়া), ক্রিস ব্রড (ইংল্যান্ড), জেফ ক্রো (নিউজিল্যান্ড), রঞ্জন মাদুগালে (শ্রীলঙ্কা), অ্যান্ডি পাইক্রফট (জিম্বাবুয়ে), রিচি রিচার্ডসন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ও জাভাগাল শ্রীনাথ (ভারত) 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন