• ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংল্যান্ড সফর ২০২০
  • " />

     

    দুর্দান্ত ব্রডে দিশেহারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ হারের কিনারে

    ৩য় টেস্ট, ম্যানচেস্টার
    ৩য় দিন, স্টাম্পস
    ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস ৩৬৯ অল-আউট (পোপ ৯১, বাটলার ৬৭, ব্রড ৬২, রোচ ৪/৭২, গ্যাব্রিয়েল ২/৭৭, চেজ ২/৩৬) ও ২য় ইনিংস ২২৬/২ ডিক্লেঃ (বার্নস ৯০, সিবলি ৫৬, রুট ৬৮*, হোল্ডার ১/২৪)
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস ১৯৭ (ক্যাম্পবেল হোল্ডার ৪৬, ডাওরিচ ৩৭, ব্রড ৬/৩১, অ্যান্ডারসন ২/২৮)
    ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের জন্য ৮ উইকেটে আরও ৩৮৯ রান প্রয়োজন 


    স্টুয়ার্ট ব্রড। দিনের গল্পটা তাকে ঘিরেই। এখন পর্যন্ত এই টেস্টের গল্পটাও তাই। 

    ৭ ওভার, ২২ রান, ৬ উইকেট-- দিনে তার এমন বোলিং ফিগারে ওল্ড ট্রাফোর্ডে হাবুডুবু খাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চতুর্থ দিনের পুরোটাই ভেসে যেতে পারে বৃষ্টিতে, তবে সফরকারিদের এমন অবস্থা ব্রড করে রেখেছেন, একদিন সময় পেলেও তাদের ওপর দারুণভাবেই চড়াও হতে পারে ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে জেসন হোল্ডার ও শেন ডাওরিচের হালকা প্রতিরোধে ফলো-অন এড়ালেও দিনশেষে ৮ উইকেট বাকি রেখে জয়ের জন্য আরও ৩৮৯ রান প্রয়োজন-- এমন সমীকরণ এড়াতে পারেনি উইন্ডিজ। ব্রডকে সহায়তা করেছে ডম সিবলি, ররি বার্নস ও জো রুটের তিন ফিফটি। 

    ফলো-অন থেকে ৩২ রানের ব্যবধানে দিন শুরু করেছিল উইন্ডিজ। জফরা আর্চারের সঙ্গে ক্রিস ওকসকে শুরুতে এনেছিলেন রুট। তবে ব্রেকথ্রুর জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হলো ব্রড আসা পর্যন্তই। ব্রডের বলে সামনের পায়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফিফটি থেকে ৪ রান দূরে থামলেন হোল্ডার, ডাওরিচের সঙ্গে ৬৮ রানের জুটি ভাঙলো। হোল্ডার অবশ্য আরও আগেই আউট হতে পারতেন, তবে শর্ট মিডউইকেটে ওলি পোপের নেওয়া দুর্দান্ত ক্যাচটা বৃথা গেল ওকস ওভারস্টেপিং করেছিলেন বলে। কিন্তু ব্রড এরপর বেশি সময় নিলেন না। 

    আগেরদিনই পেয়েছিলেন ২ উইকেট, হোল্ডারের পর এলবিডব্লিউ রাকিম কর্নওয়ালও, এর আগে স্ট্রেইট ড্রাইভে দারুণ একটা চার মারলেও এবার ব্যাটে-বলে হলো না। কেমার রোচ হলেন এজড, শর্ট বলে এতক্ষণ ভাল খেলা ডাওরিচ হলেন টপ-এজড। ১৪ ওভার, ৩১ রান, ৬ উইকেট-- ইনিংসে বোলিং ফিগার এমন হলো ব্রডের। 


    সিবলি ও বার্নসে ইংল্যান্ডের শুরুটা হলো দৃঢ়। ঠিক দ্রুতগতিতে রান তুলতে না পারলেও তারা ঠিক পথেই রাখলেন দলকে। ফিফটির পরপরই হোল্ডারের ফুললেংথের বল ফ্লিক করতে গিয়ে মিস করে এলবিডব্লিউ সিবলি। জো রুট এসে অবশ্য শুরু থেকেই দিলেন পরিষ্কার ইঙ্গিত, ইংল্যান্ড দ্রুত রান তুলতে চায়। কর্নওয়াল, রোচ-- রুট চড়াও হলেন সবার ওপরই। ৮ চার ও ১ ছয়ে করে ফেললেন ৫৬ বলে ৬৮। 

    আরেকদিকে সেঞ্চুরির দিকে এগুচ্ছিলেন বার্নস, চেজকে তুলে মারতে গিয়ে আকাশে তুলে তাকে থামতে হলো মাইলফলক থেকে ১০ রান দূরেই। সে ক্যাচ নিলেন বদলি উইকেটকিপার জশুয়া ডি সিলভা। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের শর্ট বল ডাওরিচের গ্লাভস ভেদ করে তার মুখে আঘাত করেছিল, ইনিংসের বাকিটা সময় তাকে কাটাতে হয়েছে ড্রেসিংরুমে বসেই। তার বদলি হিসেবেই উইকেটকিপিং করতে নেমেছিলেন এখনও টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ডি সিলভা। 

    ইংল্যান্ড অবশ্য অপেক্ষায় ছিল দিনের শেষের অংশটুকু কাজে লাগাতে, আরও নির্দিষ্ট করে বললে যেন অপেক্ষায় ছিলেন ব্রড। শেষ পর্যন্ত তারা পেলো ৬ ওভার, ব্রড-অ্যান্ডারসন মিলে করলেন সেগুলি। ব্রড উইকেট নিলেন দুটি। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা তার লেংথ বলের জবাব দিতে পারলেন না বাঁহাতি জন ক্যাম্পবেল। এরপর নাইটওয়াচম্যান কেমার রোচও হলেন এজড, দিনে দ্বিতীয়বার ব্রডের শিকার তিনি। 

    ব্রড থামলেন ৪৯৯ উইকেটে। আর ১ উইকেটের অপেক্ষা তার। ইংল্যান্ডের অপেক্ষা সিরিজ জয়ের। ম্যানচেস্টারের চতুর্থ দিন অবশ্য দুই দলকেই রাখতে পারে অপেক্ষায়। অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে ব্রডকেও। কিন্তু তাতে কী খুব বেশি কিছু এসে যাবে তার? 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন