• ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংল্যান্ড সফর ২০২০
  • " />

     

    বাদ পড়ার পর অবসর নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন ব্রড

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দল থেকে বাদ পড়ার পর অবসর নেওয়ার কথা চিন্তা করেছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। সে ম্যাচে জায়গাটা তার প্রাপ্য ছিল, এমন ‘বিপজ্জনক’ ভাবনা থেকে খুবই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। টানা দুই দিন ঘুমাতে পারেননি, ব্রড জানিয়েছেন এমনও। পরের ম্যাচে সুযোগ পাবেন, এমন চিন্তাও করতে পারছিলেন না ঠিকঠাক। 

    ২০১২ সাল থেকে দেশের মাটিতে টানা ৫১ টেস্ট খেলার পর সাউদাম্পটনে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাদ পড়েছিলেন ব্রড। সে ম্যাচে জেমস অ্যান্ডারসনের সঙ্গে মার্ক উড ও জফরা আর্চারকে খেলিয়েছিল ইংল্যান্ড। টেস্ট চলার সময়ই নিজের হতাশা স্কাই স্পোর্টসকে জানিয়েছিলেন ব্রড। 

    সিরিজের শেষের দুই টেস্টে ফিরে ১০.৯৩ গড়ে ১৬ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সিরিজসেরা হয়েছেন এই পেসার। শেষ টেস্টে ইতিহাসের ৭ম বোলার ও ৪র্থ পেসার হিসেবে ছুঁয়েছেন ৫০০ উইকেটের মাইলফলক। তবে এর আগে দল থেকে বাদ পড়ার পর ‘বায়ো-সিকিউর’ বলয়ে আটকে থাকাটা মোটেও সহজ ছিল না তার জন্য। 

    “আমার মাথায় অবসরের চিন্তা মাথায় ঘুরছিল কি? অবশ্যই, একশবার। কারণ আমি খুবই হতাশ ছিলাম। আমি আশা করছিলাম খেলব, এবং খেলাধুলায় এটা খুবই বিপজ্জনক ভাবনা, কিন্তু আমার মনে হয়েছিল জায়গাটা আমার প্রাপ্য”, ডেইলি মেইলকে বলেছেন তিনি। 

    আরও পড়ুন- ব্রড, উদযাপন, ভালবাসা

    “আমার মনে হয় না এমনটা আগে খুব একটা করেছি। এর আগে যখনই বাদ পড়েছি, আমার মনে হয়েছে, ‘ঠিক আছে, মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায় নেই’। তবে এবার স্টোকসি (বেন স্টোকস) যখন বললো যে আমি খেলছি না, আমার শরীর যেন কাঁপছিল। আমি কথাই বলতে পারছিলাম না। এটা নতুন একটা ব্যাপার।” 
     


    ইতিহাসের ৭ম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৫০০তম উইকেট নেওয়ার পর স্টুয়ার্ট ব্রড


    “এটা তো আর এমন নয় যে আমি ম্যান ইউনাইটেড থেকে এলএ গ্যালাক্সিতে গেলাম। ইংল্যান্ডের হয়ে আপনি খেলছেন না মানে খেলছেন না। আর হোটেল রুমে একা একা বসে থাকলে সবকিছু আরও গোলমেলে করে তুলতে পারেন আপনি। একা ঘরে বসে আছেন, পরিস্থিতি যতটা না খারাপ, তার চেয়ে বেশি খারাপ মনে হবে। সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার হলো, এক ম্যাচের জন্য আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, হয়তো পরের ম্যাচেই খেলব, কিন্তু তখন আমার মাথা সেভাবে কাজই করছিল না!” 

    “আমি কাউকে বলিনি এটা। হোটেলে আটকে ছিলাম। কোথাও যেতে পারছিলাম না। মলির (গার্লফ্রেন্ড) কাছে যাব, বারবিবিকিউ বা এমন কিছু করে সবকিছু আবার ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করব, সেটারও উপায় ছিল না। দুই দিন ঘুমাইনি। সব গুলিয়ে গিয়েছিল। অবশ্যই আমার সে সময় যেরকম অনুভূতি খেলা করছিল, একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারতাম।” 

    তবে নিজের পরিবারের সঙ্গে প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ড অধিনায়ক স্টোকসও তাকে সহায়তা করেছেন এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে, “স্টোকসি দারুণ ছিল। সে আমার দরজায় নক করে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বলেছিল, “ক্রিকেট ছাড়ো, কিন্তু তুমি কেমন আছো?” আমার খুবই ভাল লেগেছিল ব্যাপারটা। সে আমার এক জীবনের বন্ধু, তার প্রতি অঢেল সম্মান আমার। কিন্তু তবুও এটা বাড়তি কিছু ছিল।” 

    শেষ ১৮ মাসে ‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী’ অন্য যে কোনও সময়ের চেয়ে ভাল বোলিং করছেন, এমন মনে করা ব্রড বলেছেন, এখনই চলে যাওয়ার কোনও ভাবনাই নেই তার, “আমি নিজের জীবন নিয়ে খুশি কিনা? অবশ্যই। এখনই ক্যারিয়ার শেষ  করব কিনা? অবশ্যই না। আমি ইংল্যান্ডের সেরা একাদশে থাকার যোগ্য কিনা? অবশ্যই। জেমস অ্যান্ডারসন থাকার যোগ্য বলে মনে করি কিনা? অবশ্যই করি।”

    “কোনও সংশয় নেই যে জিমি এবং আমি আরও উন্নতি করেছি। গত ১৮ মাসে আমি ২০.৫ গড়ে উইকেট নিয়েছি টেস্ট ম্যাচে। বয়সের কথা ভুলে যান, যে কোনও বয়সের এমন বোলারকেই আপনি আশেপাশে রাখতে চাইবেন। তাকে বাতিলে খাতায় ফেলে দেবেন না।” 

    “আমার ফোকাস দৃঢ় এখন। কাউকে ভুল প্রমাণ করব, এমন কিছু নয়। এটা নিজেকে ঠিক প্রমাণ করার ব্যাপার। নিজেকে জানার ব্যাপার যে আমি এখনও ভাল বোলিং করছি, আমার ক্ষমতার শীর্ষে আছি। কারণ গত ১৩ বছরে যা শিখেছি, সেসব একত্র করে আমি পারফর্ম করতে পারি, যখনোই সুযোগ পাই না কেন।” 


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন