• ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংল্যান্ড সফর ২০২০
  • " />

     

    দল থেকে বাদ পড়ে 'হতাশ' নন, 'ক্ষুব্ধ, ক্ষিপ্ত' ব্রড

    স্টুয়ার্ট ব্রড হেঁটে আসছেন। মাথায় হেডব্যান্ড। গায়ে অনুশীলন কিট। কমেন্ট্রিতে এবোনি রেইনফোর্ড-ব্রেন্ট বললেন, ব্রডকে দেখে ‘দ্য কারাতে কিড’-এর মতো মনে হচ্ছে তার। অবশ্য জ্যাডেন স্মিথের মতো কারাতে করতে নেমে যাননি ব্রড, তবে দল থেকে বাদ পড়া নিতে পারছেন না ভালভাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাদ পড়ার পর নিজেকে ‘ক্ষুব্ধ’ ও ‘ক্ষিপ্ত’ মনে হচ্ছে তার। 

    ২০১২ সাল থেকে টানা ৫১ টেস্ট খেলার পর দেশের মাটি থেকে প্রথমবারের মতো বাদ পড়েছেন ব্রড। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তার, “আমি সাধারণত নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে আবেগী কেউ না। তবে গত দুই দিন খুবই কঠিন মনে হয়েছে আমার। নিজেকে হতাশ বললে আসলে কম বলা হবে। আপনি নিজের ফোনটা হাত থেকে ফেলে দিয়ে স্ক্রিন ভেঙে গেলে তখন হতাশ হন। 

    “আমি আসলে ক্ষুব্ধ, ক্ষিপ্ত, ভেতরটা পুড়ে গেছে। এটা বুঝে উঠা বেশ কঠিন। আমি বছর দুয়েক ধরে নিজের সেরা বোলিংটা করছি, আমার মনে হয়েছিল জায়গাটা পাচ্ছি আমি। অ্যাশেজের দলে ছিলাম, দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ম্যাচ জিতে এসেছি”, স্কাই স্পোর্টসকে জানিয়েছেন ব্রড। 

    দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বা তার আগে অ্যাশেজ, দুটিতেই ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ উইকেট ছিল ব্রডের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৯.৪২ গড়ে নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট, দেশের মাটির অ্যাশেজে ২৬.৬৫ গড়ে নিয়েছিলেন ২৩টি। এই টেস্টে জেমস অ্যান্ডারসন, জফরা আর্চারের সঙ্গে মার্ক উডকে দলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। 

    ব্রড বলছেন, নিজের ভবিষ্যত নিয়ে প্রধান নির্বাচকের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি, “আমি গতরাতে এড স্মিথের সঙ্গে কথা বলেছি। সে যেটা বলেছে, ১৩ জনের স্কোয়াড নির্বাচনে সে সম্পৃক্ত ছিল, আর এই একাদশ বেছে নেওয়া হয়েছে মূলত পিচের জন্যই। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটি পরিষ্কার করে জানতে চেয়েছি আমি। ইতিবাচক সাড়াই পেয়েছি অবশ্য। তবে হাঁ, আমার মনে হয়েছে দলে জায়গাটা প্রাপ্য।” 

    অবশ্য যারা জায়গা পেয়েছেন, দলে তাদেরও জায়গা প্রাপ্য বলে মনে করেন তিনি। মার্ক উড যেমন ইংল্যান্ডের শেষ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। 

    “যারা খেলছে, দলে তাদের জায়গা প্রাপ্য নয়, এটা কোনোভাবেই বলা যাবে না। সবারই প্রাপ্য। ক্রিস ওকস ও স্যাম কারানও অনেক ভাল বোলিং করছিল, তাদেরও প্রাপ্য ছিল জায়গা। একাদশে জায়গা না পেলে বিরক্ত লাগে, এটাই আরকি।

    “সবাই ফিট আছে টেস্ট ম্যাচের জন্য, এমন তো সবসময় হয় না। সাধারণত এমন হয় না। আমি কপালগুণে বেশিরভাগ সময়ই ফিট ছিলাম। দল নির্বাচন একটু জটিল হয়ে যায় এরকম সময়ে।” 

    “আর আমি যদি ক্ষুব্ধ বা ক্ষিপ্ত না হতাম (দলে জায়গা হারিয়ে), তাহলে তো আমাকে অন্য সিদ্ধান্ত নিতে হতো। আমার কিছু প্রমাণ করার নেই। ইংল্যান্ড জানে আমি কী করতে পারি। নির্বাচকরা জানে আমি কী করতে পারি। আবার সুযোগ পেলে জানবেন, আমি ঠিক জায়গাতেই থাকব।  

    অবশ্য দলে জায়গা নিয়ে এমন প্রতিযোগিতা ভাল বলেও মত তার, “পেসারদের শক্তিমত্তা ও লম্বা লাইন-আপ দেখাটা দারুণ। এভাবেই ইংল্যান্ড ক্রিকেট এগিয়ে যাবে। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতা মানেই খেলার মানটা উঁচুতে থাকবে। দলে নিজের জায়গা নিয়ে চাপে আছে সবাই।” 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন