• দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কা
  • " />

     

    দেশ আগে না কাউন্টি আগে?

    কয়েক মাসের কলপ্যাক ঘূর্ণিঝড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের ভিতটা বেশ নড়ে গেছে। জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার নাম লিখিয়েছেন কাউন্টিতে খেলার জন্য। দেশকে প্রত্যাখ্যান করা সেই দলে নতুন নামটা চমক জাগানোর মতই। দলের অন্যতম সেরা পেসার কাইল অ্যাবট খুব শীঘ্রই নাকি হ্যাম্পশায়ারের সাথে করতে যাচ্ছেন কলপ্যাক চুক্তি।

    আগামী জুনে ৩০ বছরে পা দিতে যাওয়া অ্যাবট ১০ ম্যাচের ছোট্ট টেস্ট ক্যারিয়ারে নিয়েছেন ৩৯ উইকেট। সীমিত ওভারে উইকেট সংখ্যাটা ৬০ আছে। তবে হ্যাম্পশায়ারের সাথে সম্ভাব্য ৪ বছরের চুক্তি সম্পন্ন হলে জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে অ্যাবটের জন্য। তবে কাউন্টিতে সব ফরম্যাটে খেলার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি২০ আসরেও খেলার সুযোগ পাবেন তিনি।

    ২০১৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হলেও নিজের স্থান পাকাপোক্ত করতে পারেনি অ্যাবট। তবে স্টেইন ও মরকেলের ইনজুরিতে থাকায় দলে সুযোগ পেয়ে গত কয়েক ম্যাচে দলের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছেন ডানহাতি ফাস্ট বোলার। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার সাথে জেতা সিরিজে অন্যতম সেরা বোলার ছিলেন তিনি। ২ ম্যাচে ১৪.৮৪ গড়ে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। শ্রীলংকার সাথে প্রথম টেস্টেও করেছেন দারুণ বোলিং। এসময়ে অ্যাবটের এরকম চুক্তির গুজবের জবাবে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা জানিয়েছে, এরকম কিছু হলে অ্যাবট ও তাঁর এজেন্টকে বোঝানোর জন্য সব চেষ্টাই করবেন তারা।  

    অ্যাবটের আগে চলতি মৌসুমে ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান সই করেছেন কলপ্যাকে। শুরুটা করেছিলেন টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি পাওয়া ভ্যান জিল। মাত্র ১২ টেস্টের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানেন সাসেক্সের সাথে ৩ বছরের চুক্তি করে। এরপর ৫ টেস্ট খেলা স্পিনার সিমন হার্মারও চুক্তি করেছেন এসেক্সের সাথে। সেই দলে আরও আছেন ১টি মাত্র টেস্ট খেলা হারদুস ভিলোয়েন (ডার্বিশায়ার) এবং সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান কলিন অ্যাকারমান (লেস্টারশায়ার)। কলপ্যাক চুক্তিতে সই করায় চুক্তিকালীন সময়ে প্রোটিয়াদের হয়ে নামতে পারবেন না এদের কেউই।

    কলপ্যাক চুক্তির এই সমস্যায় গত ডিসেম্বরে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার সিইও হারুন লরগাত জানিয়েছিলেন, কাউন্টি ক্রিকেটের লোভনীয় সব প্রস্তাবে খেলোয়াড়দের চলে যাওয়া ঠেকাতে তাদের সংস্থা ক্ষমতাহীন, "আমরা ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারি না। বিশ্বায়নের প্রভাবে অন্যসব দেশ আর পেশার মত দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরা কর্মসংস্থানের জন্য শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে যাবার সুযোগ নেবে। এটাই স্বাভাবিক। এই সুযোগ সব পেশাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে, কাউন্টি খেলতে যাওয়া খেলোয়াড়রা ভিন্ন কেউ নন। আর কলপ্যাকে বাধা দেবার আইনত সুযোগও নেই আমাদের।”