• ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড সিরিজ
  • " />

     

    গ্যাব্রিয়েল-রোচের দিনে উজ্জ্বল স্টোকসও

    গ্যাব্রিয়েল-রোচের দিনে উজ্জ্বল স্টোকসও    

    হেডিংলি টেস্ট
    ইংল্যান্ড ২৫৮ অল-আউট (স্টোকস ১০০, রুট ৫৮, গ্যাব্রিয়েল ৪/৫১, রোচ ৪/৭১)
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯/১ (ব্র্যাথওয়েট ১৩*, অ্যান্ডারসন ১/৫) 
    প্রথম দিনশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৩৯ রানে পিছিয়ে 


    শ্যানন গ্যাব্রিয়েল দলে ফিরলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণ তাতেই পেলো বাড়তি মাত্রা, আগের টেস্টে নিঃসঙ্গ গ্রহচারী কেমার রোচও যেন পেলেন সঙ্গী। দুজন মিলে ইংল্যান্ডের টপ আর মিডল অর্ডারে চালিয়ে দিলেন ছুরি, এক বেন স্টোকসকে কাবু করতে পারলেন না সহজে। হেডিংলিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে এ তিনজনই কেড়ে নিয়েছেন সব আলো, প্রথম দুজন পেয়েছেন চারটি করে উইকেট, তৃতীয় জন করেছেন সেঞ্চুরি। 

    এজবাস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল বিধ্বস্ত, ছিল ‘হাস্যকর’। হেডিংলিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে আসা কোনো বাহিনী। আগের লড়াইয়ের স্মৃতিগুলোই যা বাগড়া বাঁধালো, নাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো এদিন নেমেছিল পরিকল্পনা নিয়ে, সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব অস্ত্র নিয়ে। তা সেসব অস্ত্রের প্রয়োগ হলো বটে, স্লিপে আরেকটু শক্ত হলো দিনের চেহারাটা হতে পারতো আরও অন্যরকম। 

    ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারের ভঙ্গুরতা প্রকাশ পেল আরেকবার, অ্যালেস্টার কুক ছাড়া অন্যান্যরা যে সেখানে মাঝে মাঝেই বেমানান হয়ে যান, সেটাও বোঝা গেল আরেকবার। অবশ্য ফিরে যাওয়ার যাত্রাটা শুরু করলেন এদিন কুকই, গ্যাব্রিয়েলের বলে খেলতে প্রলুব্ধ হলেন, খেলার পরই বুঝলেন তীক্ষ্ণতাটা। স্লিপে দিলেন ক্যাচ। রোচ গেলেন ফুললেংথে, আলগা শট খেলতে গিয়ে পেছনে ক্যাচ দিলেন স্টোনম্যান, বল মিস করে এলবিডাব্লিউ ওয়েস্টলি। ৩৭ রানেই নেই ইংলিশ টপ-অর্ডার! 

    রুটকে সঙ্গ দেয়ার চেষ্টা করলেন মালান, কিন্তু হোল্ডারের রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে আসা ফুললেংথের বলে ড্রাইভ করতে গিয়েই যেন বুঝিয়ে দিলেন, টেকনিকে তার বাকি আছে কাজ। আরেকবার ইংল্যান্ডকে পার করানোর দায়িত্ব পড়লো স্টোকসের ওপর, রুট তো ছিলেনই। রুট টানা ফিফটির রেকর্ড ছুঁলেন, তার ক্যাচ স্লিপে পড়লো, যেন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন বড় ইনিংসের। দিনের একমাত্র কিন্তু মহাগুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি পেলেন এ ম্যাচে ফেরা আরেকজন, দেবেন্দ্র বিশু। সুইপ করতে গিয়ে এজ হলো, ক্যাচ গেল স্লিপে। 

    বেয়ারস্টোর ক্যাচটা অসাধারণভাবে নিলেন হোল্ডার, স্লিপে আরেকবার প্রকাশ পেলো ক্যারিবীয়দের বৈপরীত্য। ১৫০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে চা-বিরতিতে গেল ইংল্যান্ড। তার আগেই স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি সাজিয়েছিলেন স্টোকস, চালিয়ে গেলেন সেটাই। অফস্টাম্পের একটু বাইরে, নাগালের মধ্যে থাকা একটু ফুললেংথের বলগুলোকে শুধু সীমানার দিকেই তাড়িয়ে দিলেন। অ্যাক্রোস দ্য লাইনে খেললেন, সোজা ব্যাটে খেললেন, চালিয়ে খেললেন ইন ফ্রন্ট অব স্কয়ারে। মইন সঙ্গ দিচ্ছিলেন, কিন্তু এদিন যেন স্টোকস ছাড়া কেউই টিকবেন না বলে পণ করেছিলেন। স্টোকসও পেয়েছেন ভাগ্যের ছোঁয়া, দুইটি ক্যাচ পড়েছে তার, বারকয়েক বেঁচে গেছেন স্লিপদের ফাঁকি দিয়ে বল চলে যাওয়াতে। 

    সেঞ্চুরি পর্যন্তই শুধু ভাগ্য ফিরে তাকিয়েছিল, আউট হয়েছেন ঠিকঠিক ১০০ করেই। গ্যাব্রিয়েলের লেগসাইড দিয়ে বেড়িয়ে যাওয়া বলে আগবাড়িয়ে খেলতে গিয়ে দিয়েছেন পেছনে ক্যাচ। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের এই লেগস্টাম্প দিয়ে বেড়িয়ে যাওয়া বলগুলোই ছিল এদিন লাইন-লেংথের ধারাবাহিকতার বিচ্যুতি! স্টোকসের পর ব্রড-ওকসকেও ওই একই রানেই হারিয়েছে ইংল্যান্ড।

    অ্যান্ডারসন-ব্রড শুরু থেকেই পরীক্ষা নেয়া শুরু করেছিলেন ক্যারিবীয় ওপেনারদের। ‘ফেইল’ করে চলে গেছেন পাওয়েল, স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। দিনে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন তো এ অঞ্চলের ফিল্ডাররাই। 

    হেডিংলিতে নতুন করে শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কিন্তু নতুন কিছু করতে কাল নতুন দিনেও ব্যাটিংয়ে করতে হবে নতুন কিছুই! অন্তত এজবাস্টনের থেকে আলাদা কিছু!