• ফুটবল

রিয়ালের বিপক্ষে নেইমারের বিকল্প কে?

অলিম্পিক মার্শেইয়ের বিপক্ষে ৭৬ মিনিটে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন নেইমার। প্রথম দেখায় তেমন মারাত্মক না হলেও শেষমেশ স্ট্রেচারে করেই মাঠ ছাড়তে হল বিশ্বের সবচেয়ে ফুটবলারকে। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোল-র মাত্র দিন নয়েক বাকি। স্কাই স্পোর্টসের মত বিশ্বস্ত সূত্র জানাচ্ছে, অ্যাঙ্কেলের ইনজুরির সাথে ডানপায়ের পঞ্চম মেটাটার্সালে ফাটল ধরায় অন্তত এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হতে পারে নেইমারকে। সেই সাথে ডানপায়ে অপারেশনের গুঞ্জনটাও ডালপালা ছড়াচ্ছে বেশ। মাঠের বাইরে সময়টা বাড়তে পারে আরও। সেক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই মিস করবেন রিয়ালের সাথে মহাগুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় লেগ।

দলের মূল তারকাকে হারিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেশ আশাহত উনাই এমেরির দল। নেইমার না থাকায় রিয়ালকে হারানোটা কষ্টসাধ্য হলেও অসম্ভব কিছু নয়। পিএসজি ম্যানেজারের হাতে নেইমারের জায়গায় খেলানোর মতো খেলোয়াড়ও আছে বেশ কয়েকজন।  

 

রিয়ালের ‘অ্যাঞ্জেল’ হবেন তাদেরই ‘শত্রু’? 

২০১৩-১৪ মৌসুমে রিয়ালের লা ডেসিমা জয়ে তার অবদান কারও চেয়ে কম নয়। কিন্তু রিয়ালের হর্তাকর্তাদের সাথে দহরম-মহরম সম্পর্ক হওয়ায় ‘১৪ বিশ্বকাপের পরপরই পাড়ি জমান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ইংল্যান্ডে নিজের জাতটা ঠিক চেনাতে পারেননি। ফলাফল? মৌসুমখানেক পরই পিএসজির জার্সি গায়ে চাপান। তবে নেইমার আসার পর প্যারিসেও খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না আনহেল ডি মারিয়া। প্রশ্নাতীত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নেইমার, এম্বাপ্পেদের ভীড়ে বেঞ্চে কাটাতে হয়েছে এই আর্জেন্টাইনকে। কিন্তু নেইমারের ইনজুরি তার জন্য খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। এখন সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেই দলে নিয়মিত জায়গাটাও হয়ত পাকা হবে তার। সব ঠিকঠাক থাকলে এই মৌসুমে পিএসজির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেইমারের স্থলাভিষিক্ত হবেন ডি মারিয়াই।

 

 

অবশ্য রিয়ালের বিপক্ষে ডি মারিয়া যে এবারই প্রথম মাঠে নামছেন, এমনটা নয়। ২০১৫-১৬ মৌসুমের গ্রুপপর্বের দুই লেগেই জিনেদিন জিদানের দলের বিপক্ষে পিএসজির অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনিই। রীতিমত নাচিয়ে ছেড়েছিলেন দানি কারভাহাল, সার্জিও রামোসদের। সাধারণত মাঝ মাঠে বা ডান উইং-এ খেললেও ডি মারিয়ার ক্যারিয়ারের গোড়াপত্তনটা হয়েছিল বাঁ-প্রান্তেই। ড্রিবলিংয়ের মত ক্রসিংয়েও দারুণ পারদর্শী হওয়ায় বাঁ-প্রান্তে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারবেন তিনি। আর সাবেক সতীর্থদের ‘অ্যাকিলিস হিল’টাও হয়ত ভালমতই জানা আছে ডি মারিয়ার। ডানপ্রান্তে এম্বাপ্পের মতই গতিশীল হওয়ায় প্রতি আক্রমণেও ডি মারিয়া হতে পারেন দারুণ কার্যকরী। একজন উইঙ্গারের যাবতীয় গুণাবলীর সাথে মাঝমাঠের শিল্পীর মতই স্ট্রাইকারদের জন্য গোলের সুযোগ তৈরি করে দিতেও পারদর্শী তিনি। সেক্ষেত্রে নিজের ‘ট্রেডমার্ক’ লম্বা পাস বা থ্রু বল দিয়ে ফলাফল পিএসজির অনুকূলে আনতে অন্যতম অস্ত্র হতে পারেন ডি মারিয়া।

এই মৌসুমে যে কয়বার সুযোগ পেয়েছেন তার সবগুলোই প্রায় কাজে লাগিয়েছেন তিনি। নিজের শেষ ৮ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল, করিয়েছেন আরও ৩টি। আর সাবেক দলের বিপক্ষে নিজের প্রমাণ করার আলাদা এক অনুপ্রেরণা নিয়েই যে মাঠে নামবেন ডি মারিয়া- তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

রিয়ালের বিপক্ষে প্রথম লেগে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখায় বেশ সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল এমেরিকে। পুরো ম্যাচে মাঠে নাম্বারই সুযোগ পাননি ডি মারিয়া। এবার নিশ্চয়ই এমন কোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি চাইবেন না এই স্প্যানিশ কোচ।

 

ড্র্যাক্সলারের ‘শেষ’ সুযোগ?

উলভসবার্গ ছেড়ে যখন প্যারিসে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তখন তাকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদটা ছিল পাহাড়সম। কিন্তু পিএসজিতে বছরখানেক কাটিয়ে দিলেও এখনও দলে নিজের জায়গাই পাকাপোক্ত করতে পারেননি এই জার্মান। মৌসুম শেষে পিএসজির তাকে বিক্রি করে দেওয়ারও গুঞ্জন ডালপালা ছড়াচ্ছে বেশ। রিয়ালের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক একাদশ সাজালে হয়ত নেইমারের বদলে এম্বাপ্পে, কাভানির সাথে দেখা যেতে পারে ড্র্যাক্সলারকেই। সেক্ষেত্রে উইংয়ে নয়, বরং মাঝমাঠে মার্কো ভেরাত্তি, আদ্রিয়ান রাবিয়োতের সাথেই কাভানিদের বল যোগান দিতে দেখা যেতে পারে ডি মারিয়াকে।

 

 

তবে ফর্মের বিচারে ডি মারিয়া থেকে বেশ পিছিয়ে আছেন ড্র্যাক্সলার। স্ট্রাসবোর্গের সাথে গত সপ্তাহে গোল করলেও ফ্রেঞ্চ লিগে মাত্র তিনবার জাল খুঁজে পেয়েছেন এই জার্মান। এই মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে এখনও গোলের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি! ডি মারিয়ার মতই তার সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন নেই। তাই ড্র্যাক্সলারও হতে পারেন এমেরির ‘তুরুপের তাস’। তাই সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও দ্বিতীয় লেগের মূল একাদশে ড্র্যাক্সলারের নামার ব্যাপারটিকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না একেবারেই।

 

হাভিয়ের পাস্তোরে, এমেরির ‘ওয়াইল্ডকার্ড’?

প্রথম লেগে সবাইকে চমকে দিয়ে থিয়াগো সিলভার বদলে তরুণ প্রেস্নেল কিম্পেম্বেকে মূল একাদশে রেখেছিলেন এমেরি। দ্বিতীয় লেগে এমেরি আবারও এরকম কোনো ‘বাজি’ খেললে হয়ত ডি মারিয়া, ড্র্যাক্সলার নয়; বরং আর্জেন্টাইন পাস্তোরেকেই দেখা যেতে পারে মূল একাদশে।

 

 

ডি মারিয়ার মতই উইং, মাঝমাঠে সমান পারদর্শী হওয়ায় পাস্তোরে দলে সুযোগ পাওয়ার সমাভবনাও প্রবল; বিশেষ করে প্রথম লেগে আরেক আর্জেন্টাইন জিওভানি লো চেলসোর গড়পড়তা পারফরম্যান্সের পর তার জায়গায় নতুন কাউকে ভাবতেই পারেন এমেরি। মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হওয়ায় পিএসজির ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনের দুটিতেই সহজেই মানিয়ে নিতে পারবেন তিনি। আর পালের্মোর সময় থেকে একসাথে খেলে আসায় স্ট্রাইকার কাভানির সাথে বোঝাপড়াটাও দারুণ তার। তবে ড্র্যাক্সলারের মতই ফর্মহীনতায় ভুগছেন তিনিও। মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে দুই গোল, দুই অ্যাসিস্ট করলেও এখন গোলের সামনে কেমন যেন স্তিমিত হয়ে পড়ছেন পাস্তোরে। পারছেন না সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেও। সেই ডিসেম্বরে লিলের বিপক্ষে লক্ষ্যভেদের পর আর জাল খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে এখনও খুলতে পারেননি গোলের খাতা। আসলে দলে সুযোগ মেলাই যেখানে ভার, সেখানে গোলের প্রশ্ন তোলাও তো ঠিক নয়! তাই পরিসংখ্যান দিয়ে পাস্তোরেকে বিচার করাটা কঠিন। তবে, এমেরির পছন্দের তালিকায় বাকি দুইজনের চেয়ে তিনি যে খানিকটা পিছিয়ে থাকবেন সেটা আন্দাজ করাই যায়।

দলের প্রয়োজনের সময় জ্বলেও উঠতে পারেন এমেরির ‘ডার্ক হর্স’। হয়ত মৌসুমের সবচেয়ে বড় ম্যাচের জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করছেন পাস্তোরে। অপেক্ষা শুধু কোচ এমেরির সুযোগের!