• ক্রিকেট

দেশের ক্রিকেটের সিনিয়র-জুনিয়র হালচাল

পোস্টটি ৫৭০ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

ক্রিকেট ম্যাচে মাঠে খেলেন বাইশ জন ক্রিকেটার। প্রতি দলে ১১ জন। এই ১১ জনের মধ্যে থাকে সিনিয়র-জুনিয়রদের মিশ্রণ। সিনিয়র-জুনিয়র ক্রিকেটারদের মিশ্রণই একটা দল। বাংলাদেশ দলও তার বাইরে যাবে না। টেস্ট, একদিনের ক্রিকেট আর টি-টুয়েন্টি; এই তিন ফরমেটের ক্রিকেটেই মিশ্রনটা একই রকম। বাংলাদেশেরও ক্রিকেটের এই তিন সংস্করণের দলগুলোই সিনিয়র-জুনিয়রদের নিয়ে গঠিত। তাদের মধ্যে কারা কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হচ্ছে তা নিয়েই “দেশের ক্রিকেটের সিনিয়র-জুনিয়র হালচাল”। 

 

ক্রিকেটের তিন সংস্করণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করাটা কঠিন বটে। তাই একটি ফরমেটকে সামনে রেখে আপাতত তর্ক-বিতর্ক শুরু করা যাক। আর সেই একটি ফরমেট হিসেবে বেঁছে নিলাম বাংলাদেশ যেখানে বাকিগুলোর থেকে একটু বেশি সফল সেই পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটকটাকেই। 

 

একদিনের ক্রিকেটে দলের সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বলতে গেলে সিনিয়রদের বেলায় আসবে “পঞ্চপাণ্ডব”  শব্দটা আর জুনিয়রে লিটন-সৌম্যরা। হ্যাঁ, বলতে খারাপ লাগলেও পাঁচ বছর ক্রিকেট খেলে লিটন-সৌম্যরা আমাদের দলে জুনিয়র হিসেবেই আছে এখনো। আর পঞ্চপাণ্ডব থেকে গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ সিরিজেই মোটামুটি চূড়ান্ত ভাবে কাটা পরেছে মাশরাফির নামটা। মাশরাফি অবশ্য বাকি চার পাণ্ডব- সাকিব, তামিম, মুশফিক আর রিয়াদেরও সিনিয়র। মাশরাফিকে দল থেকে বাদ দেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, কতটা না সেই বিতর্ক হয়তো বারবার উঠবে, তবে ২০২৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তো অন্তত মাশরাফির দলে থাকা সম্ভব না, তাই এখনই বাদ দিলে অধিকাংশরাই তাতে সমর্থন দেবে বিনা বিতর্কে। মানতে গিয়ে হয়তো অনেককে নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করতে হবে, তবে মেনে নিতেই হবে। মাশরাফি যেহেতু আর ভবিষ্যৎ চিন্তায় নেই, তাই আপাতত সিনিয়র হিসেবে বাকি চারজনকেই ধরে নিলাম। 

 

দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের দিয়েই না হয় শুরু করা যাক। একদিনের ক্রিকেটে জাতীয় দলের ওপেনিং পজিশন নিয়ে কথা বললে সামনে আসবে এক সিনিয়র তামিম ইকবার আর বাকি ৫ বছর খেলেও জুনিয়র তকমা নিয়ে থাকা সৌম্য-লিটন। পিওর জুনিয়র নাইম শেখ জাতীয় দলের আশেপাশেই আছে আর শান্ত জাতীয় দলেই একপ্রকার। আর এদের পারফরমেন্স নিয়ে আলোচনা করলে এমনিতেই চলে আসেব বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়া আরেক সিনিয়র ইমরুল কায়েসও।

 

সবশেষ সিরিজে লিটন ম্যাচ খেলেছেন তিনটিই। মোট সংগ্রহ ৩৬; আছে একটি শূন্য রানের ইনিংসও। লিটন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এক প্রকার নিয়মিত মুখ। এখন অব্দি আন্তর্জাতিক ওডিআই খেলেছেন ৩৯ টি। শতক আর অর্ধশতক ৩ টি করে। শতকের তালিকায় উপরের দিকে থাকবে ২০১৮ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলা ১২১ রানের ইনিংসটি। বাকি ৫ ইনিংস যথাক্রমে ১৭৬, ১২৬*, ৯৪, ৮৩ আর ৭৬। এই ৫ ইনিংসে প্রতিপক্ষ ছিলো জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট-ইন্ডিজ আর আয়ারল্যান্ড। এই ৬ ইনিংস বাদ দিলে বাকি ৩৩ ইনিংসে লিটনের মোট সংগ্রহ মোটে ৪৩৯। বড় ইনিংস খেলা প্রতিপক্ষ ভারত বাদে বাকি তিন দলের র‍্যাংকিং আমাদের নিচে। জিম্বাবুয়ে আর আফগানিস্তানের সাথে ভালো ইনিংস আছে ইমরুল কায়েসরও। ইমরুলের শেষ ১০ ইনিংসের রান গুলো ০, ৪, ১১৫, ৯০, ১৪৪, ২, ৯, ৭২, ১ আর ৬৮। শেষ ১০ ইনিংসে ইমরুলের আছে ২ শতক আর ৩ অর্ধ-শতক। ইমরুল শেষবার ব্যাট হাতে নেমেছেন ২০১৮ তে, তেমন কারো এটা নিয়ে প্রশ্ন নেই, থাকার কথাও না। কিন্তু লিটন সৌম্যরা নিজেদের পারফরমেন্স দিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গাটা করে দেয়।

 

সৌম্য সরকারের শুরু হয়েছিলো ওয়ান ডাউনে, সবশেষ সিরিজ খেলেছেন সাত নম্বরে যেটা নিঃসন্দেহে তার পজিশন না। ওপেনিং স্লট নিয়ে যেহেতু কথা হচ্ছে তাহলে দলের পক্ষে ওপেন করা তার সবশেষ ১০ ইনিংসের রান গুলো তুলে আনলে ধারাটা হবে ১১, ১৫, ২২, ৩৩, ১৯, ২৯, ২, ২৫, ৪২ এবং ৬৬। তার আগের ২ ইনিংসেও পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছিলেন। ওপেনিং-এ তার গড় ৩৩.৯৭ আর ওয়ান ডাউনে খেলা ১৩ ম্যাচে গড়টা একটু বেশি; সেটা ৩৯.৩৮।

 

ওপেনে বাকি থাকলো জুনিয়র নাইম শেখ। একটি ওডিআই ম্যাচে দলে থাকলেও ব্যাট হাতে নামা হয়নি তার। ৬ টি২০ এর ৫ টিই খেলেছেন ভারত-পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে। গড় ৩৬.০০, মোট রান ২১৯, সর্বোচ্চ ভারতের বিপক্ষে ভারতের মাটিতে ৮১। মন্তব্য করার মতো স্ট্যাট এখনো নেই, তবে প্রতিভাবান বলতেই হবে, এই রকম প্রতিভা লিটন-সৌম্যদেরও ছিলো, আছে, আশা করা যায় থাকবেও, সুপ্ত প্রতিভা- প্রকাশিত কবে হবে কেই বা জানে। এরকম আরেকজন প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান নাজমুল শান্ত। অনূর্ধ্ব ১৯ আর ডোমেস্টিকে যিনি বেশ সফল। কিন্তু জাতীয় দলে ৮ ম্যাচে তার রান ৯৩, স্ট্রাইক রেটটা ৫৯.৮৬। ৮ ম্যাচের মধ্যে ৩ বার ওপেন করেছেন বাকি ৫ ম্যাচ খেলেছেন ওয়ান ডাউনে। 

 

ওপেনিং স্লটের সম্ভাব্য সবাইকে নিয়ে আলোচনা শেষ করতে বাকি রইলো শুধু সিনিয়র ওপেনার তামিম ইকবাল। তামিমের ইকবালের তো প্রচুর সমস্যা। ডটের পর ডট দেন, ক্যারিয়ারের ৫৭ শতাংশ বল ডট দিয়েছেন তিনি। সে বিষয়ে পরে কথা বলবো। তবে এতোসবের পরেও যে তিনি এখনো পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সার্কিটে বাংলাদেশের সেরা ওপেনার, অন্তত বাকিদের তুলনায় যে সেরা সেটা অনিচ্ছা থাকলেও মেনে নিতে বাধ্য। তামিম ইকবালের ২০১৫ থেকে ২০২১ এর মধ্যে খেলা ৭৫ টি ম্যাচে তিনি নট আউট ছিলেন ৮ বার, যেখানে পুরো ক্যারিয়ারে নট থেকেছেনই ৯ বার। এই সময়ে শতক ৯ টি, অর্ধশতক ২২। এই ৭৫ ম্যাচে তার গড়ও ঈর্ষা করার মতো, একেবারে ৫১.৩৪। তবে স্ট্রাইক রেটটা ৮০-র নিচে। সব শেষ ৫ ইনিংসে তামিম ইকবালের আছে ২ টি শতক আর ২ টি অর্ধ-শতক। ধীরে ব্যাটিং এর দোষ তামিমকে দিতে গেলে আগে বড় স্ট্রাইক রেটে ভালো খেলতে পারেন এমন ওপেনার লাগবে, যা আমাদের এখনো নেই। কথা দিয়েছিলাম এ বিষয়ে আরেকটু আলোচনা পরে আবার করবো, কথা রাখবো। তবে আগে একটু অন্য পজিশনগুলো নিয়ে খানিকটা আলোচনা করে নেয়া যাক।

tamim

৩ নাম্বার পজিশনটা নিঃসন্দেহে সাকিব আল হাসানের। সবশেষ সিরিজে শান্ত ব্যার্থ না হলে শান্তর হতে পারতো। ডোমেস্টিকে ভালো পারফর্ম করা শান্তকে জাতীয় দলে আনতে চাইলে টপ অর্ডারেই আনতে হবে, তাই তো পরীক্ষা হিসেবে সাকিবকে চারে যেতে হয়েছিলো। তবে সাকিব চারেও সফল। গত বিশ্বকাপের পারফরমেন্স সামনে আসলেই ব্যাস, সাকিবকে নিয়ে আলোচনার মানে থাকে না। জুনিয়রদের মধ্যে তাকে টেক্কা দিতে পারে এমন কেউ এখনো আসেনি। মিরাজকে চিন্তা করা যেতে পারে, তবে ব্যাটিং পজিশনের কারণে মিরাজ এখনই সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে পারবে না তা নিশ্চিত। 

 

দলের বাকি দুই সিনিয়র মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। প্রশ্ন তোলা যায় তাদের অনেক কিছু নিয়েই। এই যেমন মুশফিকের কিপিং আর মাহমুদুল্লাহর টেস্ট ম্যাচ পারফরমেন্স। তবে সদ্য হারা উইন্ডিজ টেস্টের পর সেই দুটি প্রশ্নকে কাউন্টার করতে প্রস্তুত আছে অনেকেই। এসব প্রশ্ন থাকলেও ওডিআই টিমে তাদের ব্যাটিং নিয়ে অন্তত কারো প্রশ্ন নেই, থাকার কথাও না। মাঝেমধ্যে ভুলভাল শট খেলে আউট হন, এই যা! ২০২৩ বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করলেও এদের কাউকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না, রিয়াদকে অনেকে হয়তো ইনিয়ে-বিনিয়ে বাদ দিতে চাইবেন, তবে আগে তার যোগ্য ব্যাকআপ তো পেতে হবে, সেটা তো নেই। তাদের নিয়ে আলোচনারও কিছু নেই। 

 

তবে আলোচনা হতে পারে  মেহেদি মিরাজ, মাহেদী, মোসাদ্দেক, আফিফদের মতো স্পিন অলরাউন্ডারদের নিয়ে। ইয়াসির আর মিথুন থাকলো শুধু ব্যাটসম্যান ক্যাটাগরিতে আলোচনার জন্য। সাইফউদ্দিন এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পাননি, দলে পেস বোলিং অলরাউন্ডার লাগলে ওডিআই আর টি২০ তে সাইফউদ্দিনেরই ডাক পরবে নিশ্চিত। বোলারদেরকে আরও পরে নিয়ে আসা যাক। 

 

মোসাদ্দেক আর মিরাজকে নিয়ে শুরু করি। মোসাদ্দেক বাংলাদেশ দলে ওডিআই খেলেছেন ৩০ ইনিংস, ব্যাট করেছেন নিচে; তাই সবসময় পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে ব্যাট করতে পারেননি সেকথা মানা গেলো। তবে যে ৩০ ইনিংসে নেমেছেন সেখানে তার নট আউট ইনিংস ১০ টি। মোট ইনিংসের এক তৃতীয়াংশ হিসেবে এটাও ভালো বলে মেনে নিলাম, তবে ১০ ইনিংসে অপরাজিত থেকেও গড়টা মাত্র ২৭.৪৫। শেষ ১০ ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন মাত্র একবার। বাকি ৯ ইনিংসে শূন্য থেকে ১০ এর মধ্যে আউট ১ বার, ১১ থেকে ২০ এর মধ্যে আউট হয়েছেন ৫ বার। ব্যাটিং সুযোগটা মিরাজও পাননা। ৪৪ ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে নামতে পেরেছেন ২৬ টিতে, আশানুরূপ ফল নেই, গড় ১৭.৮৬। তবে দুজনই যেহেতু বোলিং পারেন, সেদিক থেকে এই দুজন থেকে একজনকে দলে নিতে চাইলে এগিয়ে থাকবে মিরাজ। কারণ সৈকত পার্ট টাইমার হিসেবে ১৫০.২ ওভার বল করে উইকেট নিয়েছেন যেখানে ১৪ টি সেখানে মিরাজ ফুল টাইম বোলার, ৪৪ ম্যাচে উইকেট ৪৭ টি। গড় আর স্ট্রাইক রেট যদিও ৩৬.১০ আর ৪৭.৯ তবুও মোসাদ্দেকের থেকে কিছুটা এগিয়ে! আফিফ, মাহেদীরাও দলের আশেপাশে ঘুরছে। এই স্লটে নতুন জুনিয়র-পুরোনো জুনিয়র লড়াইটা জমে যেতে পারে। আফিফ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হলেও তাকে আপাতত এখানেই বিবেচনা করায় কেউ মনঃক্ষুন্ন হলে কিছু করার নেই, কারণ উপরে এই মুহূর্তে জায়গা কোথায়? 

 

মিথুন আর ইয়াসির; একজন দলে খেলেছেন ২৭ ওডিআই, বাকি ফরমেটেও আছেন তিনি, অন্যজন জাতীয় দলের আশে পাশে আছে অনেক দিন ধরেই, হয়তো বিবেচ্য হবেন টেস্ট দলের জন্য। ইয়াসিরকে নিয়ে আলোচনার স্কোপ নেই আপাতত, মিথুনের শুধু পরিসংখ্যান তুলে ধরে অন্য টপিকে চলে যাই, বাকি হিসাব পাঠকের জন্যই রইলো। মিথুনের খেলা মোট ৯ টেস্টের ১৬ ইনিংসে গড় ১৯.২৫, একদিনের ক্রিকেটের ২৭ ম্যাচের ২৩ ইনিংসে গড় ২৮.৭৫, স্ট্রাইক রেট ৮০.০৮, অর্ধশতক ৫ টি। আন্তর্জাতিক টি২০ তে ব্যাট হাতে নেমেছেন ১১ বার ১২৮ স্ট্রাইক রেটে গড়টা ১২.২। বাকি রইলো সাইফউদ্দিন; এখনো পর্যন্ত তাকে নিয়ে আশা আছে ভালোই, তবে হতাশা তার ইনজুরিকে নিয়ে। এই যা! 

 

ব্যাটসম্যান আর অলরাউন্ডারদের নিয়ে করা খানিক আলোচনায় হয়তো এটা কিছুটা হলেও স্পষ্ট যে, আমাদের দলে এখনো সেরা বলতে ওই সাকিব, তামিম, মুশি আর রিয়াদই। এবার নজরটা ফেরানো যাক বোলারদের দিকে। বোলারদের মধ্যে যদি একজন সিনিয়র বোলারের নাম বলতে বলা হয়, নাম চলে আসবে রুবেল হোসেনের। কিন্তু সেই রুবেল এর পারফরমেন্স একেবারেই ছন্নছাড়া। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচের নায়ক রুবেল নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল সহ আরও কয়েক জেতা ম্যাচ হারানোর ভিলেন। অথচ মাশরাফির অনুপস্থিতিতে দলের পেস ডিপার্টমেন্টকে লিড দেয়ার কথা ছিলো এই রুবেলেরই। 

pacer

রুবেলের হ-য-ব-র-ল পারফরমেন্সের কিছুটা নমুনা দেয়া যাক। রুবেল ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ওডিআই খেলেছেন ৫০ টি, উইকেট নিয়েছেন ৫৭ টি। ২০১৭ সালে রুবেল হোসেন ১০ ইনিংসে বল করেছেন ৮৪ ওভার। উইকেট সংখ্যাও ১০ টি। একটি উইকেট পেতে বল করতে হয়েছে ৫০ টিরও বেশি, একটি উইকেটের জন্য খরচও করেছেন ৫০ রানের বেশি। ২০১৯ এ ৬ ম্যাচে উইকেট সংখ্যা ৫ টি। উইকেট প্রতি বল করেছেন প্রায় ৬১ টি আর রান দিয়েছেন ৬৯। এটা গেলো ওডিআই ক্রিকেটের পরিসংখ্যান। টেস্টে রুবেলের গড় ৭৬.৭৭। আর টি২০ তে ইকোনমি ৯.৩০। হলো তো? 

 

দলে তাহলে পেস বোলারের স্লটে জিতে গেলো তথাকথিত জুনিয়ররা। মুস্তাফিজের সাথে রাহী, হাসান মাহমুদরাই হয়তো দলে জায়গা পাকাপোক্ত করবেন ৩ ফরমেট মিলিয়ে। তাসকিন অনেক দিন পর ফিরেছেন, হিসেবে আছেন আল আমিন হোসাইন, শরিফুল ইসলামরাও। স্পিনিং স্লটে শুধু স্পিন পারেন এমন বোলার টেস্ট ছাড়া আপাতত প্রয়োজন নেই। সিনিয়র-জুনিয়র অলরাউন্ডারদের দিয়েই চলে যাবে। মেহেদি, সাকিব, মাহেদীরাই যথেষ্ট হবেন। টেস্টে বিশেষায়িত স্পিনার হিসেবে তাইজুল আর নাইম আছেন। এইতো! একাদশ শেষ। 

 

টেস্টের জন্য আলাদাভাবে আলোচনা করা যেতে পারে, টি২০ এর জন্য প্রয়োজন নেই। টেস্টে আলাদা করে আসবে সাদমান, মুমিনুল, তাইজুল আর নাইমের নাম। তাইজুল ভালো বোলার, পিচের থেকে সাহায্য পেলে, না পেলেও হয়তো বাকিদের থেকে এগিয়ে থাকবেন। নাইম বাউন্স আর টার্ন পায়, একসাথে এই দুটো বিষয় কার্যকর হতে পারে। এখন পর্যন্ত সফলও নাইম। সাদমান আর মুমিনুলে যাওয়া যাক।

 

বর্তমান সময়ের যেকোনো টেস্ট ব্যাটসম্যানের থেকে সাদমানের টেস্ট এপ্রোচ, টেকনিক সবকিছুই চমৎকার। তবে সমস্যা অন্য যায়গায়, বড় স্কোর করতে না পারায়। সাদমানের খেলা ১৩ ইনিংসের রান ৭৬, ২৪, ৩৭, ২৭, ২৯, ০, ৪১, ৬, ৬, ২৯, ০, ৫৯ আর ৫। অভিষেক ম্যাচে দারুন খেলেছিলেন, এক ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ভালো শুরু দিচ্ছিলেন, তবে হঠাৎ করে আউট হয়েও যাচ্ছিলেন। ভারতের সাথে খুবই বাজে সিরিজ কাটালেও এখন পর্যন্ত শেষ ম্যাচটির ২য় ইনিংসেও ৫ রানে আউট হয়ে যাওয়া অবশ্যই অন্যায়। প্রথম ইনিংসে রিভিউ নিলে বাঁচতেন তবে বাকি সবগুলো ইনিংসও তো তার পক্ষে সুখকর না। টেস্ট এপ্রোচের দিক থেকে সাদমান টেস্ট দলে থেকে যাবেন, থেকে যাক চাইও সেটাই; তবে স্কোর বড় করতে না পারলে আখেরে লাভটা কতদূর জানা নেই। তবে এখনই কেউ তাকে দল থেকে বাদ দিতে বলতে পারে না।

144659805_720680625501689_6552569344481467127_n

বাকি রইলো মুমিনুল, হোম ট্র্যাক বুলি। দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট শতক। তবে হোম ট্র্যাক বুলি হলেও কারও কিছু বলার নেই, কারণ হোম ট্র্যাকেই মুমিনুলের মতো নিয়মিত ভালো করবেন এমন ব্যাটসম্যান এখনো পায়নি বাংলাদেশ। সেদিক থেকে তিনিও টিকে যাবেন। কথা দিয়েছিলাম তামিম ইকবালের ডট দেয়া নিয়ে কথা বলার, বলবো এখন। সাথে টানবো বাকি তিনজনকেও। 

 

তামিম ইকবাল তার ওডিআই ক্যারিয়ারের ৫৭ শতাংশ বল ডট দিয়েছেন। এরপরও তামিমের ওডিআই স্ট্রাইক রেট ৭৮.৪৮। তামিমের থেকে অনেক কম ডট দিয়েও মুশফিক আর রিয়াদের স্ট্রাইক রেট ৭৯.২৬ আর ৭৭.১৫। সাকিবের সেটা ৮২.৩৫। টি২০ তে তামিম, মুশি, রিয়াদ, সাকিবের স্ট্রাইক রেটটা ১১৬.৯৬, ১২০.০৩, ১২২.৮১, ১২৩.৭৭। অর্থাৎ টি২০ তে তামিমকে আরও মারমুখী হতে হবে, সাথে উইকেটও টিকিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু ৫০ ওভারের খেলায় সাকিব ছাড়া সবাই একই। কারণটা তামিম বাউন্ডারি হাকান বেশি, এখন শুধু রানিং বিটুয়েন দ্যা উইকেটটা বাড়ালেই তামিমের আর দলের উভয়ের জন্যই অনেক বেশি ভালো হবে। 

 

শেষ করব, তবে এতো কথার পর ক্ষুদ্র জ্ঞানে এটুকু বলতে পারি, সিনিয়র-জুনিয়র নিয়েই এগোচ্ছে দল। ওডিআইতে ব্যাটিং-এ সিনিয়রেরা তো বোলিং এ জুনিয়র; টি২০ তে টিকে থাকায় সিনিয়রেরা আর স্ট্রাইক রেট বারানোতে জুনিয়ররা ভালোভাবেই আছে। টেস্টে সব ডিপার্টমেন্টেই মোটামুটি সমানে-সমান। কিন্তু এভাবে সমান হয়ে লাভ কি? প্রত্যেক ফরমেটে প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টে যখন সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার, দল তো তখনই ভালো কিছু দেয়ার সামর্থ্য অর্জন করবে। ততদিন হয়তো এভাবেই চলবে।

 

আপাতত শেষ!