• ক্রিকেট

শুভ জন্মদিন ক্রিকেটের বরপুত্র

পোস্টটি ২৮৭ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

এইতো কদিন আগে রোড সেফটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের প্রায় ম্যাচ দেখেছি শুধু শচীন টেন্ডুলকার ছিল বলে,ব্যাটিংয়ের জোশ একটুও কমেনি শুধু আগের মত ধার নেই।

 

শচীনের সাথে ক্লাস ওয়ান টু থেকে পরিচয় ,ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতাম টিভির সামনে ব্যাটিং দেখার জন্য,চেহারা দেখার জন্য। প্রাইমারি স্কুলে থাকতে প্রথম শ্রেণীতে থাকতে ক্লাস শুরু হতো আটটায় হতো, ভারত -পাকিস্তানের ম্যাচ শুরু হতো সাড়ে নয়টায়,ক্লাস শেষ করে টিভির সামনে বসতে বসতে সাড়ে দশটার বেশি লাগতো। এই ঘণ্টা যেন নষ্ট না হয় সে জন্য ম্যাচের দিন বিভিন্ন অজুহাতে স্কুলে যেতাম না। সারাদিন বসে বসে ম্যাচ দেখলাম,একটা বলও অনিচ্ছায় বাদ দিতাম না ।প্রথম দিকে শচীনকে অনেক ভাল লাগত সত্যি,কিন্তু শেওয়াগের প্রথম দিককার মারকাটারি ব্যাটসম্যান টানত বেশি আমায়,তবে শচীনের প্রতি মুগ্ধতা ছিল অন্য কারণে,সেটা হল বিনয়! ২০০৭ বিশ্বকাপের সময়কার প্রথম আলোর খেলার পাতা এবং স্টেডিয়ামের পেপারকাট প্রায় সবকটি ছিল,দুই সেল্ফ ভরা ছিল এই স্মৃতি।ইন্ডিয়াকে হারিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ অনেক খুশি হয়েছিলাম,কিন্তু ইন্ডিয়া বাদ যাওয়ায় খুব খারাপ লেগেছিল। তারপরও বিভিন্ন সময়ে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ ছিল আমাদের ছোটবেলায় প্রধান বিনোদনের উৎস।ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাদে অন্যান্য টিমের ও প্রায় প্রত্যেক ম্যাচ দেখার চেষ্টা করতাম। কারণ শৈশব কৈশরে জীবনের একমাত্র ধ্যান জ্ঞান ছিল ক্রিকেট। 

 

ইন্ডিয়ার যেকোন ম্যাচ থাকলে স্কুলে যাওয়া আমার জন্য হারাম ছিল,গেলেও এক ঘণ্টা করে উধাও হয়ে যাওয়া ছিল নিয়মিত অভ্যাস। ২০১১ বিশ্বকাপে ইন্ডিয়ার জন্য এত দোয়া করেছি ,আমার মনে হয় আমার দোয়ার জন্যই ইন্ডিয়া বিশ্বকাপ জিতেছিল। এমনও যেত টেস্ট ম্যাচে ৫ দিন বসে বসে প্রায় পুরো দিন ক্রিকেট দেখতাম সে যেই দলের ই হোক। তবে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বিশ্ব ক্রিকেটে ভাল করায় ভারতের প্রতি সমর্থন কমে যেতে থাকে এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন স্বেচ্ছাচারী ভূমিকা ভারতের প্রতি সমর্থন এবং আবেগ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবু যতদিন শচীন ছিল ভারতের প্রত্যেক ম্যাচ দেখতাম,প্রত্যেক বল দেখার চেষ্টা করতাম।শচীন ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ায় পর থেকে ইন্ডিয়ার ডাইহার্ড ফ্যান থেকে হয়ে যাই অন্যতম বিদ্বেষী। শচীন ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পর আর ঐভাবে ক্রিকেট দেখা হয়না বাংলাদেশের ম্যাচ ছাড়া....  

 

মাঠে শচীনের ব্যাটিং দেখার সৌভাগ্য হয়নি,তবে শচীনের ব্যাটিং দেখার মত প্রশান্তি অনুভব করতাম না অন্য কারো ব্যাটিংয়ে।২২ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শত কোটি ফ্যানের স্বপ্নের ভার বয়ে যাওয়া কিংবা ওয়ার্ন,মুরালি, ম্যাকাগ্রা,শোয়েব আখতার,ওয়াসিম আকরাম, শেন বন্ড,ওয়াকার ইউনূসকে বাইশ গজে বছরের পর পর ডমিনেট করা কব্জির মায়াবী ঝলকে , যে অন্তত লাইভ দেখেনি শচীনের ব্যাটিং এর মর্ম সে হয়ত বুঝবেনা।টেস্টে উইকেটে দাত কামড়ে উইকেটে পড়ে থাকা কিংবা ওয়ানডেতে শুরুর দিকে ঝড় বোলারদের কচুকাটা করা এখনো মিস করি, এখনকার টি টোয়েন্টিতে এই দোর্দণ্ড প্রতাপ সরাচর দেখা যায় না।কি মন্থর উইকেট কি ঘাসের উইকেট সব জায়গায় সপ্রভিত ছিলেন নিজস্ব স্বকীয়তায়! 

 

আমাদের কাছে শচীন মানে ক্রিকেট ছিল, এখনো আছে...

শচীন অন্তত আমার জীবনে অনেক বড় নায়ক হয়ে থাকবে কারণ শৈশব,কৈশোর এর অনেকটা সময় শচীনের ব্যাটিং দেখে কাটিয়েছি বলে।মাঠে এবং মাঠের বাইরের শচীনের জীবনের প্রত্যেক খবর ছিল মুখস্ত!আমার নিজের ব্যক্তিগত জীবনে আইডল অনেকদিন ছিল শচীন রমেশ টেন্ডুলকার!

 

সম্প্রতি দিল্লির রায়ট কিংবা কৃষক আন্দোলনে শচীনের ভূমিকা প্রচন্ড হতাশ করেছে ... বেশি প্রিয় মানুষের জন্মদিনে হতাশার প্রকাশ করতে নেই! তবু বলি শচীন ফিরে আসুন আগের রূপে,মুগ্ধ করুন আমাদের আগের মত, মাঠে এবং মাঠের বাইরে শচীনের যে বিনয় আমাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতো সে বিনয় এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেন হারিয়ে না যায়। 

 

শুভ জন্মদিন সর্বকালের সেরা......