• ক্রিকেট

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আইন কি সবার জন্যেই সমান?

পোস্টটি ৪৬৬ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে আইন কি সবার জন্যেই সমান?

প্রশ্নটার উপসংহারে পৌছানোর আগে বেশ কিছু ঘটনা জেনে নেওয়া যাক।

ঘটনা-১ঃ ফিক্সিং এর দায়ে অভিযোগ স্বীকার করে মোহাম্মদ আশরাফুলকে ক্রিকেট থেকে নির্বাসন দেওয়া হল মাত্র পাঁচ বছর!

ঘটনা-২ঃ বুকির সাথে যোগাযোগ করায় আইসিসি সাকিবকে নিষিদ্ধ করল ২ বছর, যার মধ্যে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা আবার স্থগিতাদেশ পেয়েছে। সাকিবের ব্যাপারে আবার বিসিবি কোন ধরণের শাস্তিই দেয়নি।

তবে আমরা কি জানি? মোহাম্মদ আশরাফুল কিংবা সাকিব আল হাসানের চাইতেও কম অপরাধ করে এর আইতেও ঢের শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে আরো অনেককেই। আচ্ছা, সে যাক। ‘কম অপরাধ’ এর গল্প বলে নেওয়ার আগে বরং সমান অপরাধের গল্পটা বলে ফেলা যাক। 

ঘটনা-৩ঃ রংপুর রাইডার্স সতীর্থ মাশরাফি বিন মোর্ত্তজাকে ফিক্সিং এর প্রস্তাব দিয়েছিলেন শরিফুল হক প্লাবন। মাশরাফি সেটা বিসিবিকে জানিয়ে দিলে শরিফুল হক প্লাবনকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এখানেই উঠে আসছে সবচাইতে বড় প্রশ্নটা-

ফিক্সিং এর দায় মাথায় নিয়ে একজনকে শাস্তি পেতে হয় মাত্র পাঁচ বছর, বুকির সাথে যোগাযোগের অভিযোগ থাকায় একজনকে বিসিবির পক্ষ থেকে কোন শাস্তিই পেতে হয়না, আর আরেকজনকে ফিক্সিং এর প্রস্তাব দেওয়ার অপরাধে ভোগ করতে হয় আজীবন নিষেধাজ্ঞার শাস্তি।

বিসিবি পাঁচটা আঙুল সমানভাবেই দেখে তো?

‘কম অপরাধ’ এর কথা বলছিলাম। তার আগে একেবারে সমসাময়িক ঘটনাটা আরেকবার বলে নেওয়া যাক।

ঘটনা-৪ঃ পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং এর অভিযোগ তুলে মাঠেই তিনটে স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন সাকিব আল হাসান। প্রথম দফায় তো লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় সরাসরি লাথি দিয়ে স্ট্যাম্পই ভেঙে ফেলেন।

সাকিব আল হাসান ঠিক করেছেন নাকি ভুল করেছেন, সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। আপাতত খবর হল, সাকিবকে এর জন্যে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী তিন ম্যাচে নিষিদ্ধ করেছে সিসিডিএম, বিসিবি তাঁর বিরুদ্ধে এ দফাতেও কোন অভিযোগের খড়গ তোলেনি। তা সেটা উচিত ছিল নাকি ছিল না সেটা বোঝার আগে আমরা বরং একবার লালমাটিয়া ক্রিকেট ক্লাবের একটা ঘটনা জেনে আসি-

ঘটনা -৫ঃ ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং এর অভিযোগ নতুন কিছু না। সেদিনও ঢাকার দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে লালমাটিয়া ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে এমন রঙিন তামাশাতে মেতেছিলেন মাঠে থাকা আম্পায়ারেরা, অন্তত লালমাটিয়া ক্রিকেট ক্লাবের খেলোয়াড়দের তো এমনিই অভিযোগ ছিল। তা সেই পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং এর প্রতিবাদে এক অভিনব পন্থা বেছে নেন লালমাটিয়া ক্রিকেট ক্লাবের বোলার সুজন মাহমুদ। মাঠে থাকা আম্পায়াররা যখন হারিয়ে দিচ্ছে লালমাটিয়া ক্রিকেট ক্লাবকে, তখন একাই ৪ বলে ৯২ রান দিয়ে প্রতিবাদের জন্যে এক অভিনব পন্থা বেছে নেন সুজন।

তা সেই সেই সময়ে সুজনের এমন কাজকে বিসিবি বলেছিল দেশের ক্রিকেটের প্রতি ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে। সে হিসেবে, সুজন যদি প্রতিবাদ করে ‘ষড়যন্ত্র’ করে থাকেন, তাহলে সাকিব আল হাসান যেভাবে প্রতিবাদ করেছেন সেটাকে তো মহাপাপ বললেও কম হয়ে যায়। অথচ, পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং এর প্রতিবাদে ৪ বলে ৯২ রান দিয়ে সুজনকে নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হয় ১০ বছর, আর একই অভিযোগে এর চাইতেও অশোভন প্রতিবাদ করে সাকিব আল হাসান নিস্তার পেয়ে যান মাত্র ৩ ম্যাচেই!

নাহ, আমি সাকিব আল হাসানের শাস্তি বাড়ানোর কথা বলছিনা। আমি বলতে চাইছি, স্ট্যানিসলো জার্জির সেই বিখ্যাত উক্তি “We are all equal before the law” এর কথা। একই অভিযোগে যখন ভিন্ন দুইজনকে ভিন্ন দুই শাস্তি ভোগ করতে হয়, তখন একটা প্রশ্ন উঠতে বাধ্য- দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক প্রতিষ্ঠানটি তাঁর সব ক্রিকেটারকে একই নজরে দেখে তো? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে আইন সবার জন্যেই সমান তো?