• ক্রিকেট

বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক হিসেবে ট্রপি জেতা হলো না কোহলীর!

পোস্টটি ১৯৪ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

ভিরাট কোহলী,  রান করাটা যার কাছে ডালভাত। রেকর্ড হয় রেকর্ড ভাঙলে। ভিরাট কোহলী রেকর্ড করেন। রেকর্ড ভাঙেন। ভিরাট কোহলীর ব্যাটিংয়ের চেয়ে বড় বিনোদন যদি ক্রিকেটে কিছু থেকে থাকে, সে বিনোদনের সাথে আমার এখনো পরিচয় হয়নি।  

একজন অধিনায়কের সাফল্য তো দলীয় সাফল্যে। দলকে কিছু জেতাতে পারলেই তাঁর শান্তি। কিন্তু,  'অধিনায়ক' কোহলী? অধিনায়ক থাকা কালে তিনি যে ব্যাটে   সাফল্য পাননি তা নয়! অধিনায়ক কোহলীর ব্যাটেও ছিল রানের ফুলঝুড়ি। ভারতের   কিংবা আইপিএলের দল বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক হিসেবে ব্যাটে সাফল্য পেয়েছেন বটে, কিন্তু দলকে কী বলার মতো কিছু জিতাতে পেরেছেন? ঠিক এই জায়গায় ভিরাট কোহলী পরাজিত সৈনিকের মতো। 

এলিমিনেটরে কলকাতার কাছে হেরে বাদ পড়েছে তাঁর দল। এবারের মতো আইপিএল যাত্রা এখানেই শেষ তাঁদের। ভিরাট কোহলীও ঘোষণা দিয়েছেন 'অধিনায়ক' হিসেবে আর দেখা যাবে না তাঁকে! তবে বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন।   

ব্যাঙ্গালুরুকে ১৪০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জিতেছেন ৬৪ ম্যাচে। হার ৭০ ম্যাচে!  জয়ের হার ৪৮.৫২ শতাংশ।  

ব্যাঙ্গালুরু অধিনায়ক কোহলীর যাত্রা কেমন ছিল? তা জানতে হলে, আমাদের একটু পিছনে ফিরে যেতে হবে।  

২০১১ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস ব্যাঙ্গালুরুর সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পান ভিরাট কোহলী। নিয়মিত অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ইনজুরিতে পড়লে, কয়েক ম্যাচের জন্য অধিনায়কত্বের দায়িত্বও এসে পড়ে ভিরাট কোহলীর কাঁধে। ব্যাঙ্গালুরুর আফ্রিকান কোচ রে জেনিন্স ২২ বছর বয়সী কোহলীকে ভারতের ভবিষ্যৎ দলনেতা হিসেবেও আখ্যায়িত করেছিলেন।সে প্রসঙ্গ থাক। 

ড্যানিয়েল ভেট্টোরি যখন অবসরের ঘোষণা দেন। তখন পুরোদমে ক্যাপ্টেন্সির দায়িত্ব পেয়ে যান ভিরাট কোহলী।  তখন থেকেই অধিনায়ক ভিরাট কোহলীর পথচলা শুরু।২০১৩ মৌসুমে যথারীতি ব্যাটে  সাফল্য থাকলেও,  তাঁর দল মৌসুম শেষ করে টেবিলের পঞ্চম হিসেবে। এর পরের মৌসুমে তো আরো খারাপ! সপ্তম স্থানে ছিল তাঁর দল। 

১৫' তে  তৃতীয় হয়েছিল। ১৬' তে আইপিএলে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ড করেন। নিজে চূড়ায় ছিলেন। কিন্তু দলের সাফল্য ছিল রানার্স আপ পর্যন্ত! এরপরের  বছর তিনেক তো একেবারে তলানিতে থেকে শেষ করেছে দল।

অধিনায়কত্বের শেষ দুবছরে দল এলিমিনেটর খেলেছিলেন ঠিকই। কিন্তু ট্রপির কাছাকাছি আর যেতে পারেননি।

তবে একটা জায়গায় অধিনায়ক  ভিরাট কোহলীর খুব মিল। ব্যাঙ্গালুরুর ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ৩৪ বলে অপরাজিত ৩৯। দশ বছর পর শেষ ম্যাচেও করলেন  ৩৯! তবে একটা বল কম খেলে। 

তাঁর আগে অনেকেই ব্যাঙ্গালুরুর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অধিনায়ক হিসেবে রাহুল দ্রাবিড়, কেভিন পিটারসেন, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও অনিল কুম্বলে কেউই  ব্যাঙ্গালুরুকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি। তাঁরা হয়তো বলতে পারেন, ভিরাট কোহলীর মতো এতো লম্বা সময় তো আমরা পাইনি! 

ভিরাট হয়তো সামনে আরো আমাদের বিনোদিত করবেন। রানের পর রানের বন্যা বইয়ে দিবেন। ভুড়ি ভুড়ি সেঞ্চুরি করবেন।  কিন্তু,  তাঁর মনে একটা আক্ষেপ  থেকেই যাবে। আক্ষেপটা কী? দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ব্যাঙ্গালুরুকে কোনো ট্রপি জেতাতে না পারা!  

ট্রপি জিততে না পারার  আক্ষেপ হয়তো থাকবে দিনের পর দিন। শেষ পর্যন্ত খেলা তো খেলাই।  শুধুই একটা খেলা।